প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শাস্তি পেলেন বাপেক্সের ৬ কর্মকর্তা

শাহীন চৌধুরী: ভূয়া প্রতিষ্ঠানকে মালপত্র সরবরাহকারী দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাপেক্সের ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা, অর্থদন্ড করাসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। আলোচিত এই ঘটনায় অতি সম্প্রতি তাদের এই দন্ড কার্যকর হয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

অভিযোগে জানা যায়, গ্যাসকূপ খননকাজে মালপত্র সরবরাহকারী হিসেবে যে প্রতিষ্ঠানকে দেখানো হয়েছিল তার আসলে কোনও অস্তিত্ব নেই। টাকাও উত্তোলন করা হয়েছিল ভুয়া ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে। এছাড়া বিলের বিপরীতে ইস্যুকৃত চেকের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে ডিডি, পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা করা হয়েছে মালপত্র সরবরাহকারী ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে। অর্থ আত্মসাতের এ ঘটনা ঘটে বাপেক্সেরই কিছু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতায়। বাপেক্সের নিজস্ব তদন্তেই প্রতিষ্ঠানটির ছয় কর্মকর্তার দুর্নীতির এ তথ্য উঠে আসে।

অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তা হলেন, মহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প পরিচালক মো. শাহাবউদ্দিন, উপ-ব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. হাদিউজ্জামান, ব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) নুসরাত সিদ্দিক, উপ-মহাব্যবস্থাপক (খনন) জামাল উদ্দিন ও রেজাউল করিম-২ এবং উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মনির হোসেন। কোম্পানির ফেঞ্চুগঞ্জ-৪ ও ৫ এবং সালদা-৩ ও ৪ নম্বর গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন প্রকল্পে তারা এই দুর্নীতি করেন।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এ ছয় কর্মকর্তাকে কেন বরখাস্ত করা হবে না মর্মে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার কারণ দর্শাতে বলা হয়। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানো না হলে বরখাস্তের কথাও বলা হয়। কিন্তু প্রায় দেড় বছর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অতি সম্প্রতি তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে মো. হাদিউজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান এবং ৫৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মো. শাহাবুদ্দিনকে ২৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জামাল উদ্দিনকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান এবং ২৮ লাখ ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রেজাউল করিম-২ এর বেতন বৃদ্ধি হেল্ডআপ এবং ১৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মনির হোসেনকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প থেকে বদলি হয়ে আসা নুসরাত সিদ্দিকির অপরাধ লঘু হওয়ায় তাকে পূর্বের অফিসে বদলি এবং তিরস্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম রুহুল ইসলাম চৌধুরী আমাদের অর্থনীতি এবং আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, মোট ১৩ জন কর্মকর্তার বিরদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ছিল কিন্তু তদন্তে ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হয়। তাদের বিরুদ্ধে বাপেক্সের সর্বোচ্চ অথরিটির মাধ্যমে সর্বশেষ বোর্ডসভায় শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই শাস্তি কার্যকরী হওয়ায় বাপেক্সের আর কোন কর্মকর্তা দুর্নীতি করার সাহস পাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত