প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

জাতীয় ঐক্যের গোলকধাঁধা

বিভুরঞ্জন সরকার : ড. কামাল হোসেন এবং ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে কিংবা বলা যায় উদ্যোগে যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক যাত্রা ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ থেকে ডানা মেলেছিল, তা শুরুতেই গোত্তা খেয়েছে। ঐক্যের উড়োজাহাজ টেকঅফের আগেই ফোর্স ল্যান্ডিং হয়েছে বলা যায়। কামাল হোসেন এবং বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দুটি পথ দুটি দিকে বেঁকে যাওয়ার অবস্থা। তারা এক পথে এক মতে এসে ঐক্যের যাত্রা নিষ্কন্টক করতে পারবেন কি না বলা কঠিন। ড. কামাল চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে আছেন। দেশে ফিরলে আরো স্পষ্ট হবে ঐক্যের গতিপ্রকৃতি ।

তবে ভেতরের খবর হলো, তাদের ‘ঘর নড়বড় করে’। কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজাকে এক জায়গায় আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক সাবেক ছাত্র নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। মান্না একটি জোট করেছেন যার নাম যুক্তফ্রন্ট। যুক্তফ্রন্টের ফ্রন্ট নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বি চৌধুরীর বিকল্প ধারা, মান্নার নাগরিক ঐক্য এবং আ শ ম আব্দুর রবের জেএসডি নিয়ে এই যুক্তফ্রন্ট। আওয়ামী লীগ বিরোধী সব দল এই যুক্তফ্রন্টে শামিল হবে বলে আশা করা হলেও বাস্তবে তা হয়নি।

ওদিকে ড. কামাল হোসেনও একটি জোট বা জাতীয় ঐক্য গঠনের চেষ্টায় শরিক হন। তিনি তার গণফোরাম, ফরোয়ার্ড পার্টি (আরো কোনো দল থাকতে পারে, আমি চেষ্টা করেও নাম জানতে পারিনি) মিলে গঠন করা হয় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া যৌথভাবে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার ম্যারাথন রেসের আয়োজনে লেগে যায়। এই প্রচেষ্টারও মুখ্য ভূমিকায় মা র মান্না।

মান্নার ধারণা ছিল এক ডক্টর এবং এক ডাক্তার একসঙ্গে বসে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন আর সব দল হুড়মুড় করে ঝাঁপিয়ে পড়বে, দেশের মানুষ নতুন আশায় বুক বাধবে। দেবতার বরে রাজাটাজা হয়ে হওয়ার স্বপ্ন দেখে পূজারি যেমন আকুল হয়েছিলেন, এই ঐক্য-উদ্যোক্তাদেরও তেমন ভাব শুরু হয়েছিল। কিন্তু বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ‘জাতীয়’ চরিত্র পাওয়ার আগেই ভেঙে পড়ার লক্ষ্মণ দেখা যেতে থাকা। একজন আওয়ামী লীগের ঘর থেকে আসা, অন্যজন বিএনপির। দুই নেতার সম্পর্কটা খুব মধুর বলে শোনা যায় না। তার ওপর আছে ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব। দুই নেত্রী নিয়ে যেমন রাজনীতিতে সমস্যা তেমনি দুই নেতাকে নিয়েও তৈরি হতে শুরু করেছে সমস্যা। কিছু মূলধারার গণমাধ্যম তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ায় ভেতরের কাজিয়া-ফ্যাসাদের খবর বাইরে বেশি আসছে না। বালু দিয়ে নাড়ু বানানো যেমন কঠিন, তেমনি কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যর মোয়া পাকানোও সহজ কাজ নয়।

এরমধ্যে এসে জুড়েছে বিএনপি। বিএনপি এখন দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। ত্রাণ এবং ত্রাতার খোঁজে বিএনপি এদিক ওদিক দিগবিদ্বিগ ছুটছে। মান্নার ঘটকালিতে দুই প্রবীণের ঐক্যমঞ্চে বিএনপির উপস্থিতি কাউকে কাউকে বেজায় উৎফুল্ল করলেও বেলুন চুপসে যেতে সময় লাগেনি। জামায়াত ইস্যুতে এখন জাতীয় ঐক্যে দেখা দিয়েছে বিরাট বিভেদ ও বিভ্রান্তি। বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে বলা হচ্ছে। কিন্তু জামায়াত ছাড়বে না। জামায়াতের প্রশ্নে কামাল হোসেন আ শ ম আব্দুর রব অত্যন্ত সরব। আবার শেখ হাসিনার অধীনে কোনোভাবেই নির্বাচন নয় অনেকের এই মত হলেও ড. কামালের মনোভাব ভিন্ন। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যেতে নীতিগতভাবে কামাল হোসেনের আপত্তি নেই। বিএনপি যে জামায়াতকে ছাড়বে না সেটাও স্পষ্ট হয়েছে ২০-দলীয় জোটের বৈঠকের ঘোষণায়। জোট অটুট রেখেই জাতীয় ঐক্যের পক্ষে তারা।

এখন কি হবে জাতীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ? জামায়াতকে বাদ না দিলে বিএনপির পক্ষে জাতীয় ঐক্য গড়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা সম্ভব নয়। আবার বি চৌধুরী এবং তার পুত্র মাহী বি চৌধুরীর বিভিন্ন বক্তব্য মেনে নেওয়া বা হজম করা বিএনপির পক্ষে সহজ হচ্ছে না। হাতি গর্তে পড়লে চামচিকাও লাথি মারে বলে প্রবাদটি এখন মাহী বিএনপির ওপর প্রয়োগ করছে বলে বিএনপির অনেকের ধারণা।

জাতীয় ঐক্যের গোলকধাঁধায় দেশের মানুষের মাথা যখন চক্কর খাচ্ছে, তখন মাঠ দখলের প্রতিযোগিতা চলছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। সবার মনেই প্রশ্ন, কি জানি কি হয়!

পরিচিতি: গ্রুপ যুগ্ম -সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত