প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

সিনহার আত্মজীবনী প্রকাশের পেছনে কারা রয়েছে খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট: সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার আত্মজীবনী প্রকাশের পেছনে কারা রয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি এ ব্যাপারে জানি, কিন্তু আমি আপনাদের বলব না। বরং আমি আপনাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে চাই এবং আমি চাই এ বই প্রকাশের পেছনে কারা রয়েছে তা আপনারা খুঁজে বের করবেন।’

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিচারপতি সিনহার একটি আত্মজীবনী সম্প্রতি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এতে সাবেক প্রধান বিচারপতি তার পদত্যাগের বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেছেন।

‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল,’ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’শীর্ষক এ বইয়ের কপিরাইট হচ্ছে ললিতমোহন- ধনাবাতি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের নামে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এ বইয়ের প্রকাশনা উৎসবের কথা রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ বইয়ের পাণ্ডুলিপি কতবার বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে আনা হয় তা সাংবাদিকদের খুঁজে বের করতে হবে। এ বই প্রকাশনায় কারা অর্থ দিয়েছে এবং আপনাদের মতো কোনো সাংবাদিক এর সঙ্গে জড়িত কিনা এবং কী পরিমাণ অর্থ দিয়েছে তা অনুগ্রহ করে উন্মোচন করুন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো বড় আইনজীবী এ বইয়ের পান্ডুলিপি সংশোধন করে দিয়েছেন কিনা অথবা কোনো সংবাদপত্র অথবা মালিক এর পৃষ্ঠপোষক কিনা তা আপনারা খুঁজে বের করুন।’

যুক্তরাষ্ট্রে সিনহার ভাইয়ের নামে একটি বাড়ি ক্রয় সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে বাড়ি কেনা কঠিন কিছু নয়। বিপুল দামের কারণে বাংলাদেশে কেনা কঠিন। অর্থ জমা করলে যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো ব্যক্তি বাড়ি কিনতে পারেন।

শেখ হাসিনা বলেন, কে এবং কীভাবে এ বাড়ি ক্রয় করেছে সে ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আপনারা খুঁজে বের করুন এবং তথ্য দিন। যদি কোনো ব্যক্তি এ ব্যাপারে দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিরোধী দলীয় নেত্রীর (রওশন এরশাদ) সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছি। তারা যদি চান আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল যদি চায় তাহলে আমরা তাদের প্রতিনিধি নিয়ে সরকার গঠন করতে পারি। তারা ক্ষমতাসীন অথবা বিরোধী দল কিনা সেটা কোনো বিষয় না। তবে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে এখানে কোনো সংজ্ঞা নেই।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধ এখন একটি আলোচ্য বিষয়। সব দেশ এ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে এ আইন প্রণয়ন করেছি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নয়। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পর সাইবার অপরাধ এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সাংবাদিকদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা সবসময় আইনের শুধু একদিক দেখেন।’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবাই এ ব্যাপারে শঙ্কিত। কারণ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কার্যক্রমকে সাইবারের মাধ্যমে উস্কে দেয়া হয়।’

‘শিশু থেকে তরুণ পর্যন্ত সবাই যখন ভুল পথে চলে যাচ্ছে অথবা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে, তখন বিভিন্ন সামাজিক ও ডিজিটাল মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য কিনা‘ প্রশ্ন করেন।

তিনি বলেন, ‘যদি কোনো সাংবাদিক সুষ্ঠু সাংবাদিকতার চর্চা করেন তাহলে তিনি কেন শঙ্কিত হবেন?’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ সময় মঞ্চে ছিলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ-বিন-মোমেন সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত