প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

গণতন্ত্রের ভাষা ও নমুনা!

মোহাম্মদ আবু নোমান : ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকায় বিএনপির ডাকা সমাবেশ ঘোষণা, আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের মাধ্যমে অবশ্যম্ভাবীভাবে দুই দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘাত ও সংঘর্ষ অনিবার্য মনে হচ্ছে!

সভা সমাবেশ করা গণতান্ত্রিক দেশে, যে কোন দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। এ অধিকার কেউ হরণ করতে পারে না। এটা কোন গণতন্ত্রের ভাষা ও নমুনা নয়। এ দেশ কারো একার সম্পত্তি নয়। এ দেশ সকলের। এটাই সব দলের নেতাদের মনে রাখা উচিত। ‘মাঠে নামতে দেব না, বিরোধীদের অলিতে-গলিতে আটক, হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি!’ এই কি গণতন্ত্রের ভাষা? এটা কি মগের মুল্লুক? ক্ষমতার অন্ধমোহে, লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে চর দখলের নমুনায়, গায়ের জোরে মাঠ দখলে রাখার মতো সন্ত্রাসী, নোংরামি কথাবার্তা অতীতে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ বলেছে, ভোটের নামে নাটকের অভিনয় করেছে। এতে সাধারণ জনগণের জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা ছাড়া দেশের জন্য এরা আর কতটুকু কি করেছে। বিএনপির ডাকা সমাবেশকে ঘিরে সরকার সংঘাত উসকে দিতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির সমাবেশ রুখতে এখন থেকেই ঢাকা দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট। জোটের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘নেতা-কর্মীরা এলাকায় প্রস্তুত থাকবেন। ওই অপশক্তি যেন মাঠে নামতে না পারে। ওদের মাঠে প্রতিহত করবেন, রাস্তায় প্রতিহত করবেন।’

ইতিমধ্যে কোনো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে তিনি নেতাকর্মীদের ‘রাজপথ না ছাড়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা রাজপথে থাকবেন। কাউকে রাজপথ দখল করে সভাসমাবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আপনারা আগে কাউকে আক্রমণ করবেন না। কিন্তু যদি আপনাদের আক্রমণ করে, তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।’ মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, ‘আগে থেকেই ঢাকা দখলে ছিল, ভবিষ্যতেও ঢাকা আমাদের দখলে থাকবে। শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দখলে থাকবে।’

এ কথার দ্বারা কী প্রমাণ হয় না, ক্ষমতাসীনরা দেশ দখল করে আছে? আসলে এভাবে জোর করে মাঠ দখল ও দেশ দখলের কথা বলে কর্মীদের উস্কে না দিয়ে, পায়ের উপর পা বাধিয়ে ঝগড়া না করে, গণতন্ত্রের কথা বলে, জনগণকে ও জনগণের মন ও হৃদয় ‘দখল’ করতে পারলে কত ভালো হতো। ক্ষমতার জোরে অনেক কিছুই করা যায়, মানুষের মন জয় করা যায় কী?

নির্বাচনের মাস তিনেক আগে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেও বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের ওপর নানা রকম বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো সবার জন্য সমান সুযোগ। সেখানে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার-হয়রানি সম্পূর্ণই অনৈতিক ও বেআইনি নয় কী?

পৃথিবীর কোথাও গণতন্ত্রের নামে এতো দলতন্ত্র ও দল-কানা রাজনীতি আছে কী? সর্বসাধারণ যদি বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন, সুশিক্ষিত, সজ্ঞান ও সচেতন না হয়, তাহলে এ দৈন্যদশা থেকে পরিত্রাণ ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উত্তরণ হবে না। বছরের পর বছর এ রকম সংকটের কারণে পৃথিবীর অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্র বিপর্যস্ত ও ধ্বংস হতে চলছে, যা আমরা চোখের সামনেই দেখছি।

তফসিল ঘোষণার আগে কোনো দল নির্বাচনী যাত্রা চালাতে পারলে অন্যরা কেন পারবে না? নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি ব্যাহত হয়, এমন কিছু কেউ যাতে করতে না পারে, সেই নিশ্চয়তাও নির্বাচন কমিশনকেই দিতে হবে।

কদমতলী, ঢাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত