প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

ইসির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ব্যত্যয় হচ্ছে, চার কমিশনারের অসন্তোষ প্রকাশ

সাইদ রিপন : নির্বাচনেন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আইন ও বিধির ব্যত্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করে এক আন-অফিসিয়াল নোটে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চারজন নির্বাচন কমিশনার।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবকে সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আইন-বিধিবিধান অনুসরণের তাগিদ দিয়ে নোটটি দেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকেও এই নোট দেয়া হয়।

কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনে আরও আছেন মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম, রফিকুল ইসলাম ও শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী। এদের সবাই এই নোট দিয়েছেন।

এর আগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম কেনার প্রস্তাবের সময় আপত্তি জানিয়েছিলেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি তার অবস্থানে অটল থেকে কমিশন সভা বর্জনও করেন। যদিও তার আপত্তি টেকেনি এবং দেড় লাখ ইভিএম কেনার প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক অনুমোদনও করেছে।

নতুন করে চার কমিশনারের নোটে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তা নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয় না।

নোটে এ রকম কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হয়। যেমন– নির্বাচন সংশ্লিষ্ট জনবলের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কার্যক্রম, দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা সংক্রান্ত।

বলা হয়, ‘নির্বাচন সচিবালয় আইন এবং এ-সংক্রান্ত বিধিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে সচিবালয়ের কার্য সম্পাদন আইন ও বিধির পরিপন্থী। এসব মতামতের প্রেক্ষিতে আইন ও বিধির সব বিধিবিধান প্রতিপালন করে সব কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল।’

নির্বাচন কমিশনের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে এ সংক্রান্ত ‘ইউও নোট’-এর অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকেও দেওয়া হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ।

বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে এ নোট দিয়েছি। নির্বাচন সংক্রান্ত (ইসি সচিবালয়ের) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে আমাদের অবহিত করতে বলেছি। নোটে আমাদের চার কমিশনারের স্বাক্ষর আছে।’

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সচিবালয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় আমাদের যেন অবহিত করা হয় সে বিষয় আমরা বলেছি। আমরা যেন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগে থেকেই জানতে পারি।’

ইসি সচিবালয় আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে ইসি সচিবের কাছে নোট দেওয়া হয়। ইউও নোটে অনেক ক্ষেত্রে আইন-বিধির ব্যত্যয় ঘটছে বলে উল্লেখ করা হয়। আইন ও বিধির সব বিধান প্রতিপালন করে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয় বর্তমান কমিশন। এই কমিশনের অধীনেই হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন। নিবন্ধিত সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে এই কমিশন গঠন হয়েছে। আর এতে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে যাদের নাম দেয়া হয়েছে তাদের মধ্য থেকেই নিয়োগ করা হয়েছে কমিশন। এদের মধ্যে একজনের নাম ছিল বিএনপির তালিকাতেও।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত