প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগে প্রার্থী হাফ ডজন, সুবিধায় বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে। বাজার, মহল্লা, চায়ের দোকান— সর্বত্রই এখন ভোটের আলোচনা। কারণ সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ শুরু করেছেন। বিএনপি নেতারা এখনো সেভাবে মাঠে নামেননি। অন্যদিকে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রায় হাফ ডজন নেতা।

কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-৪ আসনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খানকে সামান্য ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুর রউফ। আবদুর রউফ দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেননি। বর্তমানে নেতা-কর্মীদের কোন্দলে অনেকটাই এলোমেলো দুই উপজেলা আওয়ামী লীগ। এখানে বহু ভাগে বিভক্ত আওয়ামী রাজনীতি। এমপির বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন প্রায় অর্ধডজন নেতা। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আশাবাদী এমপি আবদুর রউফ। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনী এলাকায় ভালো কাজ করেছেন তারা কেউই আগামী নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হবেন না। খোকসা-কুমারখালীর সাধারণ মানুষ জানে গত তিন বছরে কী উন্নয়ন তিনি করেছেন। তাই এবারও তার মনোনয়ন পেতে কোনো সমস্যা হবে না। এমপি রউফ বলেন, মুষ্টিমেয় কিছু নেতা কোন্দলে জড়িত। তাদের পাশে কেউ নেই। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সবাই তার পাশে রয়েছেন বলে দাবি করেন বর্তমান এই এমপি। এদিকে আবদুর রউফকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবারও মাঠে নেমেছেন গত নির্বাচনে পরাজিত জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও খোকসা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান। মনোনয়ন পেতে বেশ আগে থেকেই তৎপর তিনি। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের আশীর্বাদও রয়েছে এ নেতার ওপর। এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের অধিকাংশের বাড়ি কুমারখালী উপজেলা হওয়ায় কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন সদর উদ্দিন খান। সদর উদ্দিন খান বলেন, যারা দলের সঙ্গে আছেন, দলের জন্য কাজ করছেন তারাই মনোনয়ন পাবেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা ব্যারিস্টার সেলিম আশরাফ জর্জও এবার মনোনয়ন পেতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ। ব্যারিস্টার জর্জ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর শহীদ গোলাম কিবরিয়ার নাতি হিসেবে বাড়তি সুবিধা পাবেন বলেও অনেকে ভাবছেন। তবে তার চাচি সাবেক এমপি সুলতানা তরুণও জোর গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এ ছাড়া এ আসনে প্রার্থী হতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বর্ষীয়ান নেতা জাহিদ হোসেন জাফর, তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান বিটু, সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর ও কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান খান।

সরকারি দলের কোন্দলের সুযোগ নিতে চায় বিএনপি। হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া দলের নেতা-কর্মীরা। এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। মেহেদী রুমীর পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র নূরুল ইসলাম প্রামাণিক আনসার দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। সৈয়দ মেহেদী রুমী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হিসেবে দলে তার বিকল্প নেই। নির্বাচনী এলাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিদিন গণসংযোগ করে যাচ্ছেন সাবেক এই এমপি। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে তার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি এখানে বিপুল ভোটে জিতবে বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে, সৈয়দ মেহেদী রুমীকে ঠেকাতে এবার মাঠে তৎপর কুমারখালীর জনপ্রিয় তাঁতী দল নেতা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম প্রামাণিক। চারবারের নির্বাচিত সাবেক এই পৌর মেয়রও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দিন-রাত। তিনি বলেন, স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এবার দলীয় মনোনয়নে পরিবর্তন চান। তারা এবার নতুন মুখ দেখতে চান। নেতা-কর্মীদের এ মনোভাব পুঁজি করে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ