প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুন্নাহ অনুসরণে হোক ব্যবসা-বাণিজ্য

মো. আবদুল হক : বেঁচে থাকার জন্য উপার্জনের যেসব মাধ্যম রয়েছে, তার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বোত্তম পন্থা। ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে হালাল জীবিকা অর্জনের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন’। (সুরা আল বাকারা-২৭৫)

ব্যবসা-বাণিজ্য তথা বেচাকেনা নবী-রসুলদের গুণের অন্তর্ভুক্ত। আম্বিয়ায়ে কিরাম ব্যবসা পেশায় নিয়োজিত থেকে মানুষের উপকার করেছেন। তারা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য সৎভাবে পরিচালনা করার মাধ্যমে মানুষের মনে নিজেকে বিশ্বস্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছিলেন। বিশ্বস্ত ও সৎ ব্যবসায়ীদের মর্যাদা সম্পর্কে মহান আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, যারা ব্যবসায় ও বেচাকেনার ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর স্মরণ এবং নামাজ কায়েম ও জাকাত আদায় করা থেকে গাফিল হয়ে যায় না, তারা সেই দিনকে ভয় করতে থাকে যেদিন হূদয় বিপর্যস্ত ও দৃষ্টি পাথর হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। (আর তারা এসব কিছু এ জন্য করে) যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের সর্বোত্তম কর্মের প্রতিদান দেন এবং তদুপরি নিজ অনুগ্রহ দান করেন। আল্লাহ যাকে চান বেহিসাব দান করেন। (সুরা আন নূর-৩৭-৩৮)

বর্তমানে এ ধরনের অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা সৎ, বিশ্বস্ত ও ইবাদতকারী তারা নিজ নিজ ব্যবসা কেন্দ্রে নামাজের স্থান তৈরি করে অথবা মসজিদে আজান হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে চলে যান। ব্যবসায়িক জিনিসপত্র সুন্দরভাবে মেপে দেন। ব্যবসায়িক দ্রব্য সঠিকভাবে মেপে দেওয়ার ক্ষেত্রে কম-বেশি করা যাবে না। সঠিকভাবে মেপে দেওয়াই হচ্ছে উত্তম। মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা মেপে দেওয়ার সময় পূর্ণমাপ দেবে এবং ওজন করবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায় এটাই উত্তম ও পরিণামে উৎকৃষ্ট’। (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৩৫)

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোন দ্রব্যে ভেজাল দিয়ে অসাধু পন্থা অবলম্বন করলে তাদের জন্য কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন অসাধু ব্যবসায়ীরা গোনাহগারদের কাতারে উঠবে।’ (তিরমিজি)

পরিমাপ ও ওজনে যারা কম দিয়ে থাকেন, তাদের জন্য ধ্বংস নির্ধারিত। যেসব ব্যবসায়ী নিজের প্রাপ্য ঠিকমতো বুঝে নেন এবং যাদের সঙ্গে ব্যবসা করে তাদের কম করে দেন, সেসব ব্যবসায়ীর ধ্বংস নির্ধারিত। আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘পরিমাপ ও ওজনে যারা কম করে, তাদের জন্য ধ্বংস নির্ধারিত। তারা যখন লোকদের থেকে নিজেদের প্রাপ্য নেন তখন পুরোপুরি নেন এবং যখন লোকদের পরিমাপ বা ওজন করে দেন তখন কম করে দেন, তারা কি বিশ্বাস করে না যে একটি কঠিন দিবসে তাদের জীবিত করে ওঠানো হবে। সেদিন সমগ্র মানবজাতি বিশ্বজাহানের প্রভুর সামনে দাঁড়াবে।’ (সুরা মুতাফফিফিন-১-৬)

ব্যবসায়িক পণ্যের কোনো দোষ থাকলে তা গোপন রাখা যাবে না। ক্রেতার কাছে দোষের কথা জানাতে হবে। রসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দোষমুক্ত পণ্য বিক্রি করে ক্রেতাকে দোষের কথা জানায় না- এমন ব্যক্তি সবসময় আল্লাহর ঘৃণার মধ্যে থাকে এবং ফেরেশতারা সবসময় তাকে অভিশাপ দিতে থাকেন।’ (ইবনে মাজাহ)

যে ব্যক্তি ব্যবসা-বাণিজ্যে বা উপার্জনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের অন্তরকে আল্লাহর স্মরণে নিবদ্ধ রাখতে পারেন, তার পক্ষে উপার্জনে প্রবৃত্ত হওয়া খুবই উত্তম। কোনো ব্যক্তি যখন ত্যাগ স্বীকার করে সওয়াব প্রাপ্তির আশায় মুসলিম জনপদে কোনো প্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি করে এবং ন্যায্যমূল্যে তা বিক্রি করে তখন আল্লাহর কাছে তিনি শহীদি মর্যাদা পাবেন। রসুল (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী ও ঈমানদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক এবং শহীদদের সঙ্গে থাকবে।’ (তিরমিজি)

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত