প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

স্প্লিন্টারের সাথে লড়ছে রাজিবুল, উন্নত চিকিৎসার জন্য সাহায্য দরকার

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নবম ব্যাচের ছাত্র রাজিবুল ইসলাম। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করার সময় গত ৮ এপ্রিল রাতে পুলিশের ছোড়া শটগানের গুলিতে আহত হন তিনি।

এরপর থেকে এই তরুণের জীবন যাত্রার চিত্র বদলে গেছে। স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে পারছে না রাজিবুল। ঠিকমত শুতে, বসতে পর্যন্ত পারেনা। এখনও ওর শরীরে আছে দুই শতাধিক স্প্লিন্টার। বেশিক্ষণ হাঁটলে পা ফুলে যায়। উন্নত চিকিৎসা না পেলে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শরীরে কয়েকশ স্প্লিন্টার বিদ্ধ হওয়া রাজিবুলকে দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে এই জন্য যে পরিমান অর্থ প্রয়োজন রাজিবুলের পরিবারের পক্ষে সেই চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করা সম্ভব নয়।

রাজিবুলের মা রহিমা বেগম বাংলা’কে বলেন, ‘ওর শরীরতো খুব খারাপ। নানা সমস্যা হয়। হাঁটতে চলতে পারে না। বসতে পারে না…। শরীরের ভেতর ওইগুলা ফোটে…। উন্নত চিকিৎসার জন্য এখন ভারত নিতে হবে’

রাজিবুলের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। বাবার ব্যবসার কারণে তাদের পরিবার থাকে সাভারের ইসলামনগরে। সেখানে তাদের একটি ওষুধের দোকান আছে। এই দোকানের আয় দিয়েই চলে তাদের সংসার।

রহিমা বেগম বলেন, ‘আমার বড় ছেলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তার দেখা শুনা করতে হয়। এর মধ্যে ছোট ছেলেও অসুস্থ। তিন মেয়ের মধ্যে এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। বাকি দুজন পড়াশোনা করে। রাজিবুল ছিলো আমাদের বড় আশা। কিন্তু ছেলেটা ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ছেন। চিকিৎসকেরা বলেছেন ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করাতে। কিন্তু আমাদের সেই আর্থিক সামর্থ্য নেই।’

রহিমা বেগম আরো বলেন, ‘ছেলের শরীর দেখে সহ্য করতে পারি নাই। আমরা অনেক চেষ্টা করছি। দেশে কয়েক জায়গায় ডাক্তার দেখাইছি। অনেক টাকা পয়সা খরচ হইছি। কিন্তু ডাক্তার বলছে ওর এইখানে চিকিৎসা রিস্ক। উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তাই দেশের বাইরে নিতে বলছে। আমরা ভারতে যোগাযোগ করছি। অনেক দিন থাকতে হবে চিকিৎসার জন্য। ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার মতো খরচ হইতে পারে।’

আহত হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রাজিবুল জানান, সেদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনরত অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি চারুকলা অনুষদের সামনে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ পুলিশ ধাওয়া দিলে দৌড় দেন তিনি। একটু পরই অনুভব করেন তার পা ও কোমরে কিছু একটা লেগেছে। হাত দিয়ে দেখেন রক্ত। কোনোমতে চারুকলার ভেতরে গিয়ে আছড়ে পড়েন। পরে কয়েকজন বন্ধু তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান তিনি। পরদিন মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে এক্স-রে করান। এক্স-রে পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার পা ও কোমরে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিঁধেছে।

রাজিবুল যেদিন (গত ৮ এপ্রিল) আহত হন, সেদিন আহত হন আরো অনেকে। গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আশিকুর রহমানও। গুলিতে তার যকৃৎ ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া পুলিশের ছোড়া শটগানের গুলিতে আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. শাহরিয়ার হোসেন। তার পিঠে আটটি স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। আর ৯ এপ্রিল ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের সময় পুলিশের শটগানের গুলিতে চোখে আঘাত পান কোটা সংস্কার আন্দোলনে যুক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরেফিন। তার চোখেও স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। এর বাইরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হাতুড়ি ও লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হন শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম।

কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক আন্দোলনের সময় তাদের বলেছিলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও একই আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো আশ্বাসের বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে রাজিবুলের চিকিৎসার টাকা সংগ্রহ করতে তার বন্ধুরা বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারা রাজিবুলের জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। রাজিবুলকে আর্থিকভাবে সাহায্য পাঠাতে খোলা হয়েছে ব্যাংক একাউন্ট। সূত্র: বাংলা রিপোর্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত