প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. কামালের ঐক্যের চেষ্টা নতুন কিছু নয়

ডেস্ক রিপোর্ট: রাশেদ খান মেনন একসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা। বর্তমানে তিনি সমাজকল্যাণমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন জোট ১৪ দলের শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। মেনন মেধাবী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী রাশেদ খান মেনন গতকাল শুক্রবার কথা বলেছেন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে।

ড. কামাল হোসেনের ঐক্যের উদ্যোগকে কিভাবে দেখছেন? দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা আছে কি?

রাশেদ খান মেনন : না, দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে—এমনটা মনে করছি না। ড. কামাল হোসেন এমন কথা তো বহু বছর ধরেই বলে আসছেন। ড. কামাল হোসেনের এটা নতুন কিছু নয়। তিনি কোনো সংকট সৃষ্টি করতে পারবেন না। দেশে তো এখন নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তবে ড. কামাল হোসেনরা নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করতে পারেন। তাঁদের হয়তো এমন একটা লক্ষ্য থাকতে পারে। তারা যে দফাগুলো দিয়েছেন সেগুলো দেখলে এমনই মনে হয়।

একসময় আপনারাও তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলেছিলেন।

রাশেদ খান মেনন : হ্যাঁ, আমরা একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করেছিলাম। সে দাবি ছিল সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর আলোকে। সংবিধানে সেটা ছিল। বিএনপি যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার জন্য বিচারপতি কে এম হাসানের বয়স বাড়িয়ে দিল এবং বিএনপি সরকারের সময়ে মাগুরা উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতির উৎসব হলো সে সময় আমাদের দাবি ছিল যৌক্তিক এবং সংবিধানের আলোকে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি রহিত করা হয়েছে। এখন নির্বাচনকালীন সরকার বলেন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলেন, এ দাবি সংবিধানের বাইরে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আমরা আবার মূল সংবিধানে ফিরে গেছি।

বিএনপি নির্বাচনে না এলে কি কোনো সংকট তৈরি হতে পারে?

রাশেদ খান মেনন : বিএনপি নির্বাচনে আসবে। অতীতে তারা নির্বাচন বয়কট করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করে দেখেছে, পারেনি। আগামী দিনেও পারবে না। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনে না এলেও অন্য দলগুলো নির্বাচনে আসবে। ২০ দলের শরিক অনেক দলও নির্বাচনে আসবে। ড. কামাল হোসেন, বি চৌধুরীরা নাও আসতে পারেন। তবে একটি কথা বলা যায়, গতবারের মতো ঢালাওভাবে নির্বাচন বর্জন করা হবে না। কোনে সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

নির্বাচন এলেই পর্দার আড়ালে এক ধরনের খেলা শুরু হয়—এটাকে কিভাবে দেখছেন?

রাশেদ খান মেনন : এটা হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর দাঁড়ায়নি। যেমন—ভারতে দীর্ঘদিন ধরে একেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক ধারা একটি কাঠামোতে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশেও এটা হতে পারত যদি ১৯৯০ সালের পরে বিএনপি মাগুরার ঘটনা, মিরপুরের ঘটনা না ঘটাত। তা হলে হয়তো একটা স্থিতিশীলতা আসতে পারত। সে স্থিতিশীলতা আসেনি বলেই কিছু সুবিধাবাদী লোক, একটি কুচক্রী মহল নির্বাচন এলেই পর্দার আড়ালের খেলায় নেমে পড়ে।

আবার কি এক-এগারোর মতো কিছু আশঙ্কা করছেন?

রাশেদ খান মেনন : কেউ কেউ চেষ্টা করছেন। তবে আর কোনো ওয়ান-ইলেভেন সম্ভব হবে না। ওয়ান-ইলেভেন করতে হলে তো সেনাবাহিনী লাগবে! ওয়ান-ইলেভেন নিয়ে সেনাবাহিনীরও একটি অভিজ্ঞতা আছে। মনে হয় না, সেনাবাহিনী আবার এমন কোনো দায় নেবে।

অনেকটা হঠাৎ করে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সামনে এলেন। এটাকে কি কোনো কিছুর ইঙ্গিত মনে করেন?

রাশেদ খান মেনন : ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের আইন পেশা কেমন চলছে আমি জানি না, তবে রাজনীতিতে তাঁর কোনো জায়গা নেই। হয়তো তিনি একটি রাজনৈতিক জায়গা খোঁজার চেষ্টা করছেন। তাঁর কোনো প্রভাব আছে বলে মনে করি না।

ড. কামাল হোসেনরা কি জামায়াত প্রশ্নে স্পষ্ট বলে আপনার মনে হয়?

রাশেদ খান মেনন : হ্যাঁ, জামায়াত প্রশ্নে তাঁরা অস্পষ্ট থেকে বাস্তবে জামায়াতকে হালাল করে নিচ্ছেন। বিএনপি গতকাল (বৃহস্পতিবার) জামায়াত প্রশ্নে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারপর যদি ড. কামাল হোসেন বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করেন তাহলে তো বোঝার বাকি থাকে না তিনি ঘুরিয়ে জামায়াতকে জায়েজ করছেন।

আবার কি ২০১৪ সালের মতো একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে?

রাশেদ খান মেনন : আগেই বলেছি, এবার নির্বাচনে ঢালাও বর্জন হবে না এবং ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হবে না। অনেক দলই এবার নির্বাচনে অংশ নেবে, একটি স্বচ্ছ নির্বাচন হবে।

আপনাদের জোটের কি আকার বাড়বে?

রাশেদ খান মেনন : ১৪ দল ঠিক থাকবে, মহাজোট হবে। এবার মহাজোটে জাতীয় পার্টি ছাড়া আরো দল আসতে পারে।

বিএনপি তো সরকারের পতন চাইছে।

রাশেদ খান মেনন : এটা বিএনপির ফাঁকা বুলি। যারা ৯ বছরে পারেনি তারা তিন মাসে কিভাবে সরকারের পতন ঘটাবে? আমরাও তো রাজনীতি করি। তাদের রাজপথ আছে, এটা তো আমাদেরও আছে।

আপনাদের সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু নির্যাতন হওয়ার অভিযোগ আছে।

রাশেদ খান মেনন : অস্বীকার করছি না, হয়েছে। তবে মাত্রাটা দেখতে হবে। কমেছে না বেড়েছে সেটা দেখুন। এখন এর জন্য সংখ্যালঘুরা বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসবে এমন কিছু কি হবে! নিশ্চয়ই নয়। তারাও জানে ২০০১ সালের পরে বিএনপি কী করেছিল বাংলাদেশে। কী পরিমাণ সংখ্যালঘু পরিবার তখন নির্যাতিত হয়েছিল। -কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত