প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

‘জাগতিক বিষয়গুলো এখন আর আমাকে স্পর্শ করেনা’

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতীয় সঙ্গীত জগতের জীবন্ত কিংবদন্তী লতা মঙ্গেশকর। অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন যার কন্ঠকে তুলনা করেছেন ঈশ্বরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে। শতায়ুর প্রায় কাছাকাছি তিনি। আরও সাত বছর আগে, লতা’র ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

আজ (২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮) তার ৮৯তম জন্মদিন।
এই উপলক্ষে সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ দেওয়া হলো

ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কার কার সঙ্গে আপনি ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ ছিলেন বা আছেন?
নার্গিস, মীনা কুমারী আর আমি খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলাম। আমৃত্যু আমাদের মাঝে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো। আরেকজন হচ্ছেন দেব আনন্দ, যার সঙ্গে এখনও আমার প্রায়ই যোগাযোগ হয়। এছাড়া যশ চোপড়া, অমিতাভ বচ্চন, সঞ্জীব কোহলি আর দিলীপ কুমার আমার খুব পছন্দের ও পূজনীয় ব্যক্তি। দিলীপ সাহেবের সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করলেও তার পক্ষ থেকে কেউ চাইতো না যে আমার সঙ্গে সে কোনো সম্পর্ক রাখুক। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, তিনি তার ছোট বোনটিকে ভুলে যাননি। আর সাম্প্রতিক সময়ের শিল্পীদের মধ্যে আনু মালিক আমাকে প্রায় ফোন করেন, খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য। এছাড়া আমির খান, সনু নিগাম, শঙ্কর মহাদেব আর হরিহরনের সঙ্গে আমার বেশ ভালো সম্পর্ক।
আপনার সহকর্মীদের কথা মনে পড়েনা?
ওহ! অনেক অনেক মিস করি তাদেরকে। কিশোরদা, মুকেশ ভাইয়া, রফি সাহেব, মদহ মোহন ভাইয়া, সলিল চৌধুরী, শঙ্কর জয়কৃষ্ণ, হেমন্ত কুমার আর নওশাদ সাহেকে আমি খুব খুব মিস করি।

রেকর্ডিংয়ের সময় আপনি খুব দ্রুত সুর ধরতে পারতেন বলে শুনেছি।
আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ এই গুণটি আমাকে দেওয়ার জন্য। মজার কথা শুনুন। নওশাদ সাহেব আমাকে প্রায়ই বলেতেন- ‘সুরটা তুমি ধরে ফেলেছো। কিন্তু আমি চাই কাল এসে তুমি আবার মহড়া দাও’।
একজন সুরকারের সঙ্গেই আপনি শুধু কাজ করেননি..
(সঙ্গে সঙ্গেই) ও! পি নায়ার। সে খুব নামী সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। কিন্তু তার ধারার সঙ্গে আমার স্টাইল মিলতো না। উনি নিজেই এ কথাটি বলেছিলেন, আর আমি মেনে নিয়েছিলাম। তবে জনসম্মুখে তিনি আমাকে এক নম্বর সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

আপনি এখানে কোন স্টাইলের কথা বলছেন?
গিতা দত্ত, আশা ভোঁশলে যে ধরনের গান করতেন, তা ঠিক আমার সঙ্গে যেতনা। নায়ার সাহেবের প্রথম ছবিতে আমার একটি গান করার কথা ছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি গানের রেকর্ডিং বোতিল করি। আমার মনে হয় এ কারণে তিনি কিছুটা মনক্ষুন্ন হয়েছিলেন।
সঙ্গীত ছাড়া আর কোন বিষয়ে আপনি আগ্রহী?
ফটোগ্রাফি। আমার ছবি তুলতে খুব ভালো লাগে। আমি রান্না করতেও খুব পছন্দ করি। সবাই আমার হাতের গাজরের হালুয়া খেতে ভালোবাসে। এছাড়া আমি বই পড়তেও খুব ভালোবাসি। নিজের রুমে যখন বই নিয়ে বসি, আমি যেন হারিয়ে যাই ভিন্ন কোন জগতে।

নুতন কী ছবি তুললেন?
আমি এখন আর ছবি তুলিনা। কারণ ডিজিটাল ক্যামেরার ব্যাপার স্যাপার আমি বুঝি-সুঝিনা, মজাও পাইনা। আমার ভালো লাগে সাদা-কালো ছবি।
তো পুরনো ক্যামেরা ব্যবহার করলেই তো পারেন?
আমি পুরনো ক্যামেরাগুলো সব বিক্রি করে দিয়েছি। আজকাল কেউ এ ধরণের ক্যামেরা ব্যবহার করেনা। আমার মনে হয়না এ ক্যামেরাগুলোর মূল্য এখনকার সময় কেউ আর বুঝতে চাইবে।

আপনি সব সময় লন্ডন কিংবা পুনেতে ছুটি কাটান কেন?
আপনি কলাহপুরের কথা ভুলে গেছেন। ওখানেও আমার একটা বাড়ি আছে। মুম্বাইয়ের হট্টগোলে যখন একদম হাঁপিয়ে উঠি, তখন ছুটে যাই কলাহপুরের এই বাড়িটিতে। এই তিনটি জায়গাই আমার জন্য একটু আলাদা এবং অসাধারণ সব স্মৃতি বহন করে। তবে ব্যক্তিগত কিছু কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে আমি লন্ডনে যাচ্ছিনা আর।

এবার আলোচিত লতা-আশা দ্বৈরথ সম্পর্কে কিছু বলুন। বলা হয়ে থাকে আপনার ছায়া থেকে বের হয়ে নিজস্ব পরিচিতির উদ্দেশ্যে আশা ভোঁসলে ঘর ছেড়েছিলেন?
এটা অপপ্রচার। আশার সঙ্গে আমার কোনো ঝামেলা নেই। এটা ঠিক যে, আশা আর আমি সম্পুর্ণ ভিন্ন ধারার মানুষ। আমি শান্ত-শিষ্ট আর আশা খুব চঞ্চল প্রকৃতির। কিন্তু এ মেয়েটির সাহস দেখে আমি অবাক হই। ও খুব অল্প বয়সে ঘর ছাড়ে, তারপর বিয়ে করে। অল্প সময়েই সঙ্গীত জগতে সে খুব নাম করে তাঁর নিজ যোগ্যতায়। আর আমরা দুই বোন খুবই ঘনিষ্ঠ। প্রায়ই আশা আমার কাছে এসে বসে, আর আমরা চুটিয়ে আড্ডা দেই, সুখ-দু:খের কথাগুলো ভাগাভাগি করি। বাড়িতে আশা আর আমার রুমের মাঝে কোনো দরজা নেই।
আপনার জীবনের অপ্রাপ্তি..
কোনো অপ্রাপ্তি নেই। আমি যা পাওয়ার যোগ্য, স্রষ্টা আমাকে তাই দিয়েছেন। যা পাইনি সেগুলো পাওয়ার যোগ্যতা আমার ছিলোনা। আমি তাই নিজের জীবন নিয়ে খুশি এবং ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ।
মাঝে মাঝে নিজেকে কি একা মনে হয়?
হা। মাঝে মাঝে আমি আসলেই একাকীত্বে ভুগি। আমার বন্ধু-বান্ধব কাছের মানুষগুলো সব আমাকে একলা ফেলে চলে গেছে না ফেরার দেশে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/28/1538132104396.jpg
সব মেয়েই স্বপ্ন দেখে ছিমছাম সুন্দর একটা সংসারের। পেছন ফিরে তাকালে এতগুলো বছরের এই অবিবাহিত জীবনকে কীভাবে মূল্যায়িত করবেন? সংসারটা করা হলো না বলে কোনো আক্ষেপ আছে?
মোটেও না। সব কিছুই স্রষ্টার ইচ্ছাতে হয়। যা হয় তা ভালোর জন্যেই হয়, আর যা হয়না তা আরো বেশি ভালোর জন্যই। বিয়ে করার সুযোগ আমি কখনও পাইনি, আর এ ব্যাপারে কখনও চিন্তাও করিনি। আমি এখন যেমন আছি, তাতেই অনেক সুখী। জাগতিক বিষয়গুলো এখন আর আমাকে স্পর্শ করেনা। আজ থেকে চার-পাঁচ দশক আগে এ প্রশ্নটি করলে হয়তো আপনি অন্যরকম উত্তর পেতেন। কিন্তু জীবনের এই পর্যায়ে এসে এ বিষয়ে চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই।
সূত্র : বার্তা২৪.কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত