প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দাম বেড়েছে মুরগির কমেছে ইলিশের

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। বাজারভেদে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির ডিম। এদিকে বাজারে বেড়েছে ইলিশের সরবরাহ। ফলে কমেছে ছোট-বড় সব ধরনের ইলিশের দাম। বাজারে প্রতিটি মাঝারি আকারের ইলিশ ২৫০-৩০০ টাকা আর ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া বাজারে সবজি ও চালের দামে মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। কাওরান বাজার, সেগুনবাগিচা, হাতিরপুলসহ বেশ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজারে কোরবানির ঈদের পর রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল নাগালের মধ্যে।

গত সপ্তাহেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এখন প্র্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ১০ টাকা।
কাওরান বাজারসহ পাইকারি বাজারেও কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই বাজারে এখন ১৩০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। সেগুনবাগিচা বাজারে মুরগির দাম চাইছে ১৫০ টাকা কেজি। তবে ১৪৫ টাকার নিচে বিক্রি করতে পারবে না বলে জানান বিক্রেতারা। এক বিক্রেতা বলেন, মুরগির দাম বেশি। আমাদেরও বেশি দামে বেচতে হচ্ছে। ডিমপাড়া সাদা মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজি। আর লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা কেজি। বাজার করতে আসা আজিম জানান, পাঁচ-ছয় দিন আগে ব্রয়লার মুরগি নিয়েছিলাম ১৩০ টাকায়। এখন ৫ টাকা পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
বেশি নিচ্ছে। দুই-তিনটি দোকান ঘুরলাম, একই দাম।
মুরগি বিক্রেতা হোসেন মিয়া বলেন, মুরগির উৎপাদন খরচ তো বেশি। খাদ্যের দামও বেশি। এ কারণে দাম বেড়েছে। দেড়-দুই মাস আগেও এই দাম কম ছিল। কোরবানির মধ্যে চাহিদা কমায় দাম কমেছিল। এখন আবার আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। মুরগির পাশাপাশি বেশ কিছুদিন ধরেই ডিমের বাজার চড়া। এখনো বাজারভেদে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৪-৩৬ টাকায়। তবে মুদি দোকানগুলোতে ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। এদিকে গরু মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকার মধ্যে।
এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে পিয়াজের বাজার। প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ ৫০ টাকা এবং আমদানি করা পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া স্থিতিশীল রয়েছে সবজির বাজারও। তবে স্থিতিশীল থাকলেও কিছু কিছু নতুন সবজি দীর্ঘদিন ধরে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকার আশপাশে।
প্রধান প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ৭ই অক্টবর থেকে পরবর্তী তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সব ধরনের ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ এমনকি ক্রয়-বিক্রয়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আসছে। পাশাপাশি শেষ সময়ে এসে নদীগুলোতে ঝাঁকেঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দামও কমে এসেছে। বাজারে প্রতিটি ইলিশ ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে কেজিপ্রতি ৮৫০ থেকে ১১০০ টাকা। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সপ্তাহখানেক আগের তুলনায় এই ইলিশের দর কেজিপ্রতি ২০০ টাকা কম। এক কেজির কিছুটা কম ওজনের প্রতিটি ইলিশ বিক্রেতারা ৭০০-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দর প্রতিটি ৬০০ টাকার কাছাকাছি। ৫০০ গ্রামের আশপাশের ওজনের প্রতিটি ইলিশ ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়ে কম ওজনের ইলিশ আবার কেজি দরে বিক্রি হয়। প্রতি কেজির দর ৪০০-৫৫০ টাকা। মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার টন, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের হিসাবে ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে বাজারে রুই কাতলের দাম স্থিতিশীল থাকলেও কিছুটা বাড়তি কৈ, শিং ও শোলমাছের দাম। প্রতি কেজি রুই ২৫০-৩০০ টাকা, শিং ৬০০-৭০০ টাকা আর শোলমাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ২শ-৩শ টাকায়।
এদিকে বাজার ও মানভেদে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে শিমের কেজি ছিল ১০০-১২০ টাকা। সে হিসাবে শিমের দাম কেজিতে কমেছে ৪০ টাকা। তবে বাজারভেদে একই মানের শিম ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। সবজি বাজারে শিমের দাম কিছুটা কমলেও দামের উত্তাপ ছড়াচ্ছে টমেটো, ফুলকপি, শসা এবং গাজর। শিমের দাম কিছুটা কমায় এখন বাজারে সব থেকে দামি সবজির তালিকায় টমেটো ও গাজর।
বাজারভেদে পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর। আগের সপ্তাহেও এ সবজি দুটির দাম এমনই ছিল। বাজারের দামি আর এক সবজি ফুলকপিও আগের সপ্তাহের মতো ৫০-৬০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত