প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিরপুরে তাবলিগ জামাতের ওয়াজাহাতি জোড় শনিবার

আমিন মুনশি : তাবলিগ জামাতের দ্বন্দ্ব নিরসনে ফের ওয়াযাহাতি জোড় (স্পষ্টকরণ সভা) আহ্বান করেছেন হেফাজতে ইসলামপন্থী কওমি আলেমরা। আগামীকাল শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ সভায় ঢাকার আলেম ও তাবলিগ কর্মীরা আসবেন। এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে কাকরাইল মসজিদের সামনে জড়ো হতে শুরু করেছেন মাওলানা সাদের অনুসারীরা।

জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে কাকরাইল মসজিদে শুরা সদস্যদের মধ্য থেকে ফয়সাল (আমির) নির্ধারণ করা হয়। শুক্রবার সকালে ফয়সালের দায়িত্ব হস্তান্তর হয়। এ সপ্তাহে ফয়সাল ছিলেন সাদবিরোধী অংশের মোহাম্মদ হোসেন। আজ শুক্রবার থেকে ফয়সালের দায়িত্ব নেবেন সাদ অনুসারী শুরা সদস্য মাওলানা মোজ্জামেল হক। এ কারণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে কাকরাইল মসজিদে জড়ো হতে শুরু করেন সাদ অনুসারীরা। তবে তাদের মসজিদের ভেতরে প্রবেশের বাধা দেয় সাদবিরোধীরা।

মুসল্লিদের জমায়েত প্রসঙ্গে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মাঈনুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার সকালে এক গ্রুপ দায়িত্ব ছাড়বে, আরেক গ্রুপ দায়িত্ব নেবে। এজন্য দুই গ্রুপের সদস্যরা জড়ো হয়েছেন। এখানে কোনও ঝামেলা নেই।’
এদিকে বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে করেন হেফাজতপন্থী আলেমরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতপন্থী মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদ, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল প্রমুখ।

তারা বলেছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে থাকা মাওলানা সাদের অনুসারীরা পুরনো একটি বিষয়কে সামনে এনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আহলে সুন্নাতবিরোধী মতবাদ থেকে ফিরে না এলে দিল্লির নিজামুদ্দিনের মুরুব্বি মাওলানা সাদকে গ্রহণ করা হবে না।

সম্মেলন শেষে মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব বলেন, ‘মূলত ইসলাম প্রচারের জন্য তাবলিগ গড়ে উঠেছে। সেখানে কেউ ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার করলে আলেমরা তার পক্ষে থাকতে পারেন না। এজন্য দেশের আলেম সমাজসহ সাধারণ মানুষকে বিষয়টি জানাতে শনিবার মিরপুরের হারুন মোল্লা ঈদগাহ মাঠে সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এক ওজাহাতি জোড়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তাবলিগের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হবে। এতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীসহ দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম এবং তাবলীগের কাকরাইল মারকাজের শীর্ষ মুরুব্বিরা উপস্থিত থাকবেন।’

জানা গেছে, এই সমাবেশের গুরুত্ব বাড়াতে হেফাজতের আমির আহমদ শফীকে ঢাকায় আনার চেষ্টাও চলছে। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াছ উদ্দীন মোল্লাকে সমাবেশে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।

এর আগে গত ২৮ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঈদগাহ মাঠে তাবলিগ জামাতে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিরোধীদের ওয়াজাহাতি জোড় হয়েছিল হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফীর উপস্থিতিতে। সেখানে হেফাজত আমির শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী তাবলিগের মুরুব্বি মাওলানা ইলিয়াস, মাওলানা এনামুল হাসান, মাওলানা ইউসুফের পদ্ধতি পরিচালনার কথা বলেন। সেখানে ছয়টি সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়। সেখানে মাওলানা মুহাম্মদ সাদকে বর্জন, বাংলাদেশে নেযামুদ্দিন থেকে আগত কোনও জামাতকে কাজ করতে না দেওয়া, সাদ অনুসারীদের তাবলিগের কাজে শুরা ও ফয়সাল না রাখার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত