প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর সুনামির ধাক্কা

মাহাদী আহমেদ : ইন্দোনেশিয়ায় সুলাবেসি দ্বীপে তীব্র ভূমিকম্পের পর এবার সুনামির ধাক্কা লেগেছে ছোট্ট শহর পালুতে। ২ মিটার উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ে তছনছ হয়ে গেছে উপকূল। তবে সুনামিতে হতাহতের কোনো খবর জানাতে পারেননি কর্মকর্তারা।

সূর্যাস্তের সময় দ্বীপটিতে ভূমিকম্পের পর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় বিমানবন্দর। ফলে এলাকটিতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

“পালু এবং কাছাকাছি ডংগালা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে” বলেছেন, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো পুরো নুগ্রহ। ওই দুটি শহরে ৬ লাখের বেশি মানুষ বাস করে।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূতত্ব বিষয়ক সংস্থা বিএমকেজি’র প্রধান দিবাকরিতা কর্ণবতী বলেন, “১ দশমিক ৫ থেকে ২ মিটার উঁচু সুনামি আছড়ে পড়েছে। অবস্থা খুবই শোচনীয়। লোকজন রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছে। ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে। জাহাজ তীরে ভেসে এসেছে।”

স্থানীয় টিভি তে পালুর সৈকত বরাবর বাড়িঘরের ওপর ঢেউ আছড়ে পড়তে দেখা গেছে। টুইটারে অনেকেই শহরটিতে তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না বলে জানিয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে পালুর বিমানবন্দর।

শুক্রবার সুলাবেসি দ্বীপে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর স্থানীয় সময় বিকাল ৫ টার দিকে ওই অঞ্চল কাঁপিয়ে দেয় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প।

কর্তৃপক্ষ প্রথম ভূমিকম্পে অন্তত এক জন নিহত, ১০ জন আহত এবং বাড়িঘর ভেঙে পড়ার খবর জানায়। দ্বিতীয় ভূমিকম্পের পর আরো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন কর্মকর্তারা।

ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল বিএমকেজি। কয়েকঘণ্টা পর তা প্রত্যাহারও করা হয়।

তবে এলাকাটিতে ভূমিকম্পের মাঝারি ধরনের কয়েকটি পরাঘাতের কারণে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা প্রথমে ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ দশমিক ৭ বলে জানালেও পরে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৭ দশমিক ৫ ধরা পড়েছে বলে জানায়।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সুলাবেসি দ্বীপের পালু শহরের ৭৮ কিলোমিটার উত্তরে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পন অনুভূত হয়েছে দ্বীপের সবচেয়ে বড় শহর মাকাসারের ৯শ’ কিলোমিটার দক্ষিণেও।

পালুর ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর তোরাজার এক বাসিন্দা জানান, শুক্রবার স্থানীয় মানুষেরা কয়েকটি ভূমিকম্প টের পেয়েছে। সবশেষে হওয়া ভূমিকম্পটি সবচেয়ে জোরাল ছিল। সবাই চীৎকার করে বাড়িঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে আসছিল।

ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর প্রথম সারিতে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দিয়ে যায় এ দ্বীপ রাষ্ট্রকে।

২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সুমাত্রা দ্বীপে বড় ধরনের ভূমিকম্প এবং এর জেরে অন্তত ১৩ টি দেশে সুনামি আছড়ে পড়ে সব মিলিয়ে ২লাখ ২৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই মারা গিয়েছিল এক লাখ ২০ হাজার মানুষ।

গত জুলাই এবং অগাস্টেও ইন্দোনেশিয়ায় সুলাবেসির কয়েকশ’ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে লম্বোক দ্বীপে কয়েকদফা ভূমিকম্পে প্রায় ৫শ’ মানুষ নিহত হয়েছে।- ইয়ন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত