প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আমরা যাব না, কোথাও যাব না’

সাজিয়া আক্তার : গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমার থেকে ৭ লাখেরও বেশি মানুষ পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। রোহিঙ্গাদের এই আগমনে বাংলাদেশে এক বড় সংকটের সৃষ্টি হয়। আর সেই সংকট কাটাতে সরকার থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করে। আর এখন স্থানান্তরের প্রস্তুতি কাজ প্রায় শেষ করলেও রোহিঙ্গারা জানাচ্ছে তারা সেখানে যেতে একেবারেই প্রস্তুত নয়। সূত্র : বিবিসি বাংলা

ভাসানচরে বেড়িবাধ নির্মাণ, ঘরবাড়ি, সাইক্লোন শেল্টারসহ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সরকার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে চাইছে। কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা কোনোভাবেই এখন সেখান থেকে সরতে চান না।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে ভাসানচরে স্থানান্তরের আগে কারিগরি মূল্যায়ন শেষে রোহিঙ্গাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

রোহিঙ্গারা বলেন, আমরা এখানে যেভাবে আছি ভাল আছি। আমাদের যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নাই। শুনেছি তিনঘণ্টা লঞ্চে যেতে হয়, সাগর আছে, তাই আমাদের ভয় করে। আমরা যাব না। এখানে থাকবো। কোত্থাও যাব না। বার্মা থেকে আসার পর এইখানে আমাদের ভাল লাগে। আমরা এইখানে সয়ে গেছি। এখানে থাকবো, না হয় এখান থেকে নিজের দেশে চলে যাবো, এটাই ইচ্ছা। প্রথমে আমাদের দেখতে হবে ওই জায়গাটা কিরকম। কন্ডিশনটা কি। যারা রিসার্চার আছে তারা কী বলছে ওই জায়গাটার ব্যাপারে। সবাই যদি ডিসিশন দেয় যে ওই জায়গাটায় ভাল মতোন থাকা যায়, আবহাওয়াটা ভাল, লোকগুলো সুস্থভাবে থাকতে পারবে। তাহলে কোনো সমস্যা নাই। লোকগুলো চলে যাবে।

সরকারি হিসেবে কক্সবাজারে মিয়ানমার থেকে আসা নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি। এই রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা, আবাসনসহ সার্বিক ত্রাণ তৎপরতায় রয়েছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা।

জাতিসংঘ বাংলাদেশের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পোর বলেছেন, ভাসানচরে শরণার্থীদের স্থানান্তরের পূর্বে এর সম্ভাব্যতা ও আকাঙ্খা যাচাই করতে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার দ্বারা স্বাধীন কারিগরি এবং সুরক্ষা মূল্যায়ন করা উচিত। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ সেখানকার নিরাপত্তা, বাসযোগ্যতা এবং এক লক্ষ শরণার্থী পরিবহন এবং সেখানে বসবাসের কী প্রভাব হবে সে বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, স্থানান্তরের আগে এটা মূল্যায়ন থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করতে হবে যাতে তারা সেখানে যাবে কিনা এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এদিকে কক্সবাজারের অবস্থিত রোহিঙ্গা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার মূল কাজটি শুরু করার আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নির্দেশনা আছে যে তাদের আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য মাঝিদের একটি নির্বাচিত দলকে আমরা সেখানে নিয়ে যাব। তারা নিজেরা সেখানে সরেজমিনে দেখে আসবেন এবং সেখানের পরিস্থিতি সুযোগ সুবিধা দেখে আমরা বিশ্বাস করি তারা নিজেরাই সেখানে যেতে আগ্রহী হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ