প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেয়েকে উত্যক্তকরণে বাঁধা দেয়ায় বাবাকে হত্যা

মোঃ জয়নুল আবেদীন,আমতলী (বরগুনা) : মেয়েকে উত্যক্তকরণে বাঁধা দেয়ায় প্রাণ গেল বাবা আলী হোসেন মোল্লার। বাবা আলী মোল্লাকে বখাটে মাদকসেবী হিরন গাজী পরিকল্পিরতভাবে মোটর সাইকেল চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। আহত বাবা আলী মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ঘটনা ঘটেছে বরগুনার আমতলী উপজেলার দক্ষিণ গাজীপুর গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গাজীপুর গ্রামের বখাটে হিরন গাজী গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্কুলগামী ছাত্রীদের প্রায়ই উত্যক্ত করে আসছিল। ওই বিদ্যালয়ে আলী মোল্লার কন্যা ও ভাগ্নি দশম শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। গত ৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে হিরন গাজী তার (আলী হোসেন) কন্যা ও ভাগ্নিকে উত্যক্ত করে। এ ঘটনা ওইদিনই বাড়িতে গিয়ে স্কুল ছাত্রী কন্যা বাবা আলী মোল্লাকে জানায়। মেয়ের কাছে সকল ঘটনা শুনে পরের দিন আলী মোল্লা বখাটে হিরন গাজীকে তার মেয়ে ও ভাগ্নিকে উত্যক্তকরণের বিষয়টি জানতে চায়। এ সময় দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষুব্দ হয় হিরন গাজী।

গত সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাজার শেষে বাড়ী ফেরার পথে গাজীপুর-কাঠালিয়া সড়কের লক্ষণ প্যাদা বাড়ীর সামনে দ্রুত গতিতে মোটর সাইকেল চালিয়ে বখাটে হিরন গাজী স্কুল ছাত্রীর বাবা আলী মোল্লাকে চাপা দেয়। আলী মোল্লা সড়কে লুটিয়ে পড়লে হিরন গাজী আবারও গাড়ি তার শরীরের উপর উঠিয়ে চাপায় দেয়। তার ডাক চিৎকারে স্থানীয় ননী প্যাদা ও তার স্ত্রী মালতি রানী এগিয়ে এলে বখাটে হিরন গাজী ও তার বন্ধু আরিফ গাজী পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আলী মোল্লা গুরুতর আহত হয়। দ্রুত তাকে ননী প্যাদা ও তার স্ত্রী মালতি রানীসহ স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে গাজীপুর ক্লিনিকে নিয়ে আসে। পরে তার স্বজনরা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তার অবস্থা আরো সঙ্কটজনক হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে চার দিন চিকিৎসার পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২৬ সেপ্টেম্বর নিহত আলী মোল্লার স্ত্রী মাজেদা বেগম বাদী হয়ে হিরন গাজীকে প্রধান ও তার বন্ধু আরিফ গাজীসহ তিন জনকে আসামি করে আমতলী থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ঘটনার পর থেকে বখাটে হিরন ও তার বন্ধু আরিফ গাজীসহ পরিবারের লোকজন পালাতক রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ননী প্যাদা ও তার স্ত্রী মালতি রানী জানান, হিরন ও তার বন্ধু দ্রুত গতিতে গাড়ী চালিয়ে সামনের দিক থেকে আলী মোল্লাকে চাপা দেয়। আলী মোল্লা মাটিতে লুটিয়ে পরলে তার শরীরের উপরে আবারও গাড়ী উঠিয়ে দেয় তারা। আমরা এগিয়ে গেলে আমাদের দেখে হিরন গাজী ও তার বন্ধু দ্রুত মোটর সাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহত আলী মোল্লার ভাই হামজা মোল্লা জানান, হিরন গাজী ও তার বন্ধু আরিফ গাজী আমার ভাইকে মোটর সাইকেল চাপা দিয়ে গাজীপুর বাজারে এসে ডাক চিৎকার দিয়ে বলে শালারে (আলী মোল্লা) মারতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারলাম না। আমার ভাইকে হত্যাকারী হিরন গাজী ও আরিফ গাজীর বিচার চাই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ আলাউদ্দিন মিলন বলেন, এ ঘটনায় আগে হত্যা চেষ্টা মামলা হয়েছে। ওই মামলার সাথে এখন ৩০২ ধারা সংযুক্ত হয়ে হত্যা মামলায় পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন,শীঘ্রই আসামি গ্রেফতার করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত