প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ অপরিহার্য নয়’ সুপ্রিম কোটের রায়ে ক্ষুব্ধ ভারতের মুসলিমরা

ওমর শাহ: ‘নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ অপরিহার্য নয়’ ভারতের সুপ্রিম কার্টের এ রায়ে ক্ষুব্ধ ভারতের মুসিলম অঙ্গন। রায়টি সমালোচনা করে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন দেশটির মুসলিম নেতারা।

এ রায়ের সমালোচনা করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গ্রন্থাগার মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘ইসলামের সঙ্গে মসজিদ অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত।’

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ্ পৃথিবীর মাটি তৈরি করার সময় সর্বপ্রথম খানায়ে কাবা তৈরি করেছেন। পৃথিবীর অস্তিত্বের সূচনায় কাবা ঘর। প্রিয়নবী (সা.) যখন মদীনা শরীফে আসেন সেখানে নিজের হাতে মসজিদে নববী করেছেন। ইসলাম ধর্মের যিনি প্রতিষ্ঠাতা তিনি নিজে হাতে মসজিদ নির্মাণ করেছেন। এখন সুপ্রিম কোর্ট কী বলে দেবে মসজিদ প্রয়োজন আছে না, নেই? সুপ্রিম কোর্টকে ব্যাখ্যা কে দিয়েছে তা আমার জানা নেই। মসজিদ অঙ্গাঙ্গীভাবে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত।’

সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান প্রতিক্রিয়া জানিয়েএক বিবৃতিতে বলেন, নামাজ পড়া নয়, নামাজ প্রতিষ্ঠা করা ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। প্রত্যেক মুসলমানের অপরিহার্য কর্তব্য নামাজ কায়েম করা, নামাজের জামাত প্রতিষ্ঠা করা। আর সেজন্যই মসজিদ মুসলিম সমাজের অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। মসজিদ ছাড়া দিনে পাঁচবার নামাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং অপরিহার্যভাবে শুক্রবারের জুমার নামাজ প্রতিষ্ঠা করা মুসলমানের সম্ভব নয়, নামাজের সঙ্গে ইসলামের সঙ্গে মসজিদ ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নামাজের জন্য মসজিদ এর প্রয়োজন নেই বলে যে মন্তব্য করেছেন তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ভারতবর্ষের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশ যেখানে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে স্বাধীনভাবে ধর্মপালনের অধিকার দিয়েছে, সেখানে মসজিদ বানানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য কাম্য নয় এবং সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন মনে করে।

১৯৯৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, নামাজের জন্য মসজিদ অপরিহার্য নয়। সরকার প্রয়োজনে মসজিদের জমি অধিগ্রহণ করতে পারে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে মুসলিমদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানানো হয়। ফলে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে এ রায় বহাল রাখা হয়। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারপতির সমন্বিত বেঞ্চের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি অশোক ভূষণ সহমত পোষণ করে বিগত দিনের পুরোনো রায় বহাল রাখেন। কিন্তু, বিচারপতি এস আব্দুল নাজির ভিন্নমত প্রকাশ করে মামলাটি আরো বড় বেঞ্চে পাঠানো উচিত বলে মনে করেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রসঙ্গে মাওলানা সিদ্দিকল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ঘরে নামাজ পড়লে এক গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। কিন্তু মসজিদে নামাজ পড়লে ২৭ গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। জুমার নামাজ মসজিদ ছাড়া হয় না। জামাত মসজিদ ছাড়া হয় না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট কেন ওই রায় দিয়েছে তা জানা নেই। সুপ্রিম কোর্ট ব্যাখ্যা দিতে পারে, সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু মসজিদের প্রয়োজন আছে না নেই এ ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দের কাছে ব্যাখ্যা চাইলে ভালো হতো।” সূত্র: ডেইলি সিয়াসাত

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত