প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেপ্টেম্বরে ৪,০৪৩ মামলায় আসামি সাড়ে ৩ লাখ : বিএনপি

শাহানুজ্জামান টিটু : দেশজুড়ে পঙ্গপালের মতো গায়েবী মিথ্যা মামলা বিস্তার লাভ করেছে। প্রতিদিনই মিথ্যা মামলার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গতকাল পর্যন্ত সারাদেশ থেকে ১৪টি গায়েবী মিথ্যা মামলার এজাহার পাওয়া গেছে। এজাহারে মোট ৩২৭১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়াকেও আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত মোট গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে ৪০৪৩টি, এজাহার নামীয় আসামি করা হয়েছে ৮৪,০১১ জন নেতাকর্মীকে এবং অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ২,৬৬,৭৩০ জনকে। গ্রেফতার করা হয়েছে-৪২৯২ জনের অধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে। মোট আসামি করা হয়েছে ৩,৫০,৭৪১ জন নেতাকর্মীকে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য দেন বিএনপির মুখপাত্র রহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করে বলেন,বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে শুধু গায়েবী মিথ্যা মামলাই দায়ের করা হচ্ছে না, আইনজীবীদেরকে মামলার নকল কপিও সরবরাহ করছে না পুলিশ। থানা থেকে আদালতে এজাহার প্রেরণ করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকরা তালাবদ্ধ করে রাখছেন, যা সম্পূর্ণরুপে বেআইনি, কারণ এর মাধ্যমে আসামিদের আইনি লড়াইয়ে প্রাপ্য অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এটিসম্পূর্ণরূপে মানবাধিকার লঙ্ঘন।

দলের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে গায়েবী ও অসত্য মামলা দায়েরে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করে রিজভী।

এবারে নির্বাচনে না এলে নাকি নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে বিএনপি-কথাটি বলেছেন-প্রধান নির্বাচন কমিশনার, যিনি কুমিল্লায় ডিসি থাকার সময় জনতার মঞ্চ তৈরি করেছিলেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ভাঙচুর করেছিলেন। ক্ষমতাসীনদের সাথে মিশতে মিশতে, বাকশালী সংস্কৃতির স্পর্শ পেতে পেতে শাসকগোষ্ঠীর মনের মানুষে পরিণত হওয়া সিইসি কে এম নুরুল হুদা সাহেব একবোরেই খাঁটি বাকশাল মার্কা মুখপাত্রে পরিণত হয়েছেন।

‘বিএনপি নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে’ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই কথা বলে বিএনপি-কে ভয় দেখাচ্ছেন, যাতে বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে এক তরফা বাকশালী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।

যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এতগুলো ভোট ডাকাতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সেই নির্বাচনগুলোকে সুষ্ঠু বলে অভিহিত করেছেন, যে সিইসি সরকারী দলের ভোট নিয়ে অনাচারের বিষয়ে‘স্পীকটিনট’ থেকেছেন, তিনি যে ক্ষমতা সীনদের ভাষাতেই কথা বলবেন সেটাই স্বাভাবিক। তাঁর এহেন কথা শুনে মনে হয়-পাতানো নির্বাচনের ব্যবস্থা করতেই সর্বশক্তি নিয়োগ করছেন তিনি।

কারণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের প্রধান আধিকারিক হিসেবে ক্ষমতাসীনদের দাসত্ব করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেজন্য তাদের কথার বাহিরে এক ধাপ এগুতে পারেন না। তবে সিইসি-কে বলে রাখি-একটি জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলের অতীত অর্জন, কীর্তি, সংগ্রাম ও অঙ্গীকার রক্ষার মধ্য দিয়ে জনগণের ভেতরে যে মজবুত অবস্থান তৈরী হয়, সেই দলের রেজিষ্ট্রেশন থাকে জনগণের হাতে। জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে কাগুজে নিবন্ধনের ঝুঁকির কথা বলে লাভ হবে না। জনগণের বিচারই রাজনৈতিক দলের টিকে থাকার মাপকাঠি। কোন আত্মা বিক্রি করা ব্যক্তি কর্তৃক যখন জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধনের ঝুঁকির কথা বলে যে হুমকি দেয়া হয় তাতে নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকের আক্রমণ উপেক্ষা করে লড়াইয়ে লিপ্ত সাহসী জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীরা সেই হুমকিতে বিচলিত হয় নাবরং ভোটাধিকার হরণের জন্য দায়ী সিইসি ভোটারদের অভিশাপে নিজের আত্মপতনের অন্ধকার গহব্বরে হারিয়ে যাবে। ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া নব্য বাকশালীসরকারেরপ্রতিভূ এই সিইসি কে এম নুরুল হুদা। নির্বাচন কমিশনের ‘ডার্ক ম্যাটার’ (উধৎশ সধঃঃবৎ) হচ্ছেন এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করাটা সিইসি কর্তব্য বলে মনে করেন না, আওয়ামী সরকারের প্রতি আনুগত্যই তাঁর শেষ কথা। আর এজন্যই তিনি ভোট কেন্দ্রে বেশি ক্ষণ সাংবাদিকদের থাকতে দিতে চান না বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। দিনমান ভোটগ্রহণ চলাকালে ক্ষমতাসীনদের ভোট ডাকাতি, জাল ভোট প্রদান, বলপ্রয়োগ করে ভোট কেন্দ্র থেকে বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেয়া ও ভোটের ফল ছিনিয়ে নিতে সহায়তা করতেই এই পদক্ষেপের কথা বলছেন সিইসি। কে এম নুরুল হুদা’র এই বক্তব্য ভোটার বিহীন‘শেখ হাসিনা মার্কা নির্বাচন স্টাইলের’ প্রতিধ্বণি।

নির্বাচন কমিশনের সম্মান রক্ষার্থে বিবেক বিকিয়ে দেওয়া এই সিইসি-কে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের এখন ভোটাধিকার হারা জনগণ ঐক্যবদ্ধ। কে এম নুরুল হুদাদের মতো বিশ্বাস্ত সেবকদের কারণেই শেখ হাসিনা পরীক্ষিত স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে পেরেছেন। তবে আমি সপাটে সিইসি-কে জানিয়ে দিতে চাই-যদি বিএনপি’র নিবন্ধন নিয়ে কোন অশুভ প্ল্যান থাকলে অবৈধ সরকারের পাশাপাশি সিইসিকেও পতনের ঝুঁকিতে পড়তে হবে।

সাংবাদিকবন্ধুরা, গতকাল সারাদেশে গ্রেফতার ও মামলা- দিনাজপুর জেলায় গ্রেফতার: আলীউর রহমান মন্টু ,সভাপতি ৪ নং শহর গ্রাম ইউনিয়ন, বিরল উপজেলা বিএনপি মেহেরপুর জেলায় গ্রেফতার: নাজমুল হোসাইন, সহ সভাপতি জেলা ছাত্রদল
বন্ধুরা,মুক্তিলাভের পরেও শেরপুর জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলীকে বার বার জেলগেট থেকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। গতকালকেও তাকে জেল গেট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তাকে মোট ৮ বার জেলগেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। আমি দলের পক্ষ থেকে তাকে বার বার জেলগেট থেকে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে হযরত আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ