প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঝুলছে দেড় লাখ মাদক মামলা, ৫ বছরের বিচারাধীন ৩৩ হাজার

এস এম নূর মোহাম্মদ : মাদকের করাল গ্রাসে সারাদেশের যুব সম্প্রদায় ধ্বংসের পথে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো বর্তমানে উঠতি বয়সের তরুণ প্রজন্মও জড়িয়ে পড়ছে মাদকে। আশে-পাশে হাত বাড়ালে সহজেই মিলছে ইয়াবাসহ অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য।

তবে চলতি বছর র‌্যাবের প্রতিষ্ঠবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জোড়ালো অবস্থানের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে যৌথ অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ মাদক-দ্রব্য। যদিও গড ফাদাররা ধরা পড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের মে মাস থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেবল র‌্যাব মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে ৩ হাজার ৪৩৫টি। এতে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ হাজার ৮৪১জনকে। আর অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে র‌্যাবের হাতে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৮১ জন ব্যক্তি।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকার সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও দায়ের হওয়া মামলা নিষ্পত্তিতে বাড়তি কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার কারণে মাদক নির্মুল হওয়ার পথে কতটুকু অগ্রসর হওয়া যাবে তা নিয়ে সন্দেহ করছেন অনেকে। আইনজ্ঞরা জানান, কেবল অভিযান হলেই চলবে না, শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সারাদেশে বর্তমানে (৩০ জুন পর্যন্ত) বিচারাধীন রয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৪ টি মামলা। এরমধ্যে ৫ বছরের অধিক সময় ধরে ঝুলছে ৩৩ হাজার ১৬৯টি মামলা। আর উচ্চ আদালতের নির্দেশ স্থগিত রয়েছে ৩৯টি মামলার কার্যক্রম।

সুপ্রিম কোর্ট থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে সারাদেশে দায়ের হয়েছে ৮ হাজার ২৭৩টি মামলা। একই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ২ হাজার ৩১১টি মামলা। এই সময়ে ঢাকায় দায়ের হয়েছে ১ হাজার ৪৯৪টি এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ৩১৯টি মামলা। ঢাকার পর কুমিল্লায় দায়ের হয়েছে ৬৮০টি এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ৯১টি মামলা। তবে ওই সময়ে সবচেয়ে কম দায়ের হয়েছে ঝালকাঠিতে। সেখানে কেবল ৬টি দায়ের হয়েছে এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ৩টি মামলা।

এদিকে মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, প্রসিকিউশনে লোকবল বাড়াতে হবে। মাদক সংক্রান্ত মামলা তদন্তের জন্য দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। যাতে দ্রুত তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিট দেওয়া যায়। তিনি বলেন, মাদকের মামলায় খুব বেশি সাক্ষ্য নেওয়ার প্রয়োজন হয়না। তাই সবাই আন্তরিক হলে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, মাদক সংক্রান্ত মামলাগুলো দেখা-শুনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাদের লোকবল অনেক কম। তাই আগে তাদের লোকবল বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, কেবল একটি বিষয়েই এতগুলো মামলা উদ্বেগের কারন। তাই দেশকে মাদক মুক্ত করতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনে পৃথক ট্রাইব্যুনাল করার পরামর্শও দেন এই আইনজীবী।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংসদে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ মাদক উৎপাদন করে না, লাইসেন্সও দেয়নি। তারপরেও মাদক আসছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তবে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা হলেও চুক্তির পর্যায়ে যেতে পারেনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত