প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

শিরোপার আলোয় কাটুক দুর্ভাগ্যের আঁধার

প্রভাষ আমিন : এবার বাংলাদেশ এশিয়া কাপে গিয়েছিল দুর্ভাগ্যকে সঙ্গী করে। আনফিট সাকিবকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকটা জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আরব আমিরাতে। দেশের কথা ভেবে তিনি গিয়েছিলেনও। কিন্তু তার ফল ভালো হয়নি। বাংলাদেশ অধিনায়ক যখন পাকিস্তানের বিপক্ষে মহা গুরুত্বপূর্ণ অঘোষিত সেমিফাইনালে টস করতে নেমেছিলেন, সাকিব তখন দেশে ফেরার বিমান ধরতে ছুটছেন। এখন সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা, আমাদের লোভের কারণে সাকিবের আঙ্গুলের যেন বড় কোনো ক্ষতি না হয়। প্রথম ম্যাচের শুরুতেই আঙ্গুলে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তামিমকে। শেষে নেমে এক হাতে এক বল ঠেকিয়ে ঢুকে গেছেন ক্রিকেট রূপকথায়। তামিমের বীরত্বগাঁথাকে জয়ে পরিণত করেন মুশফিক। দলকে অপ্রতিরোধ্য মনোবল দিয়ে তামিমকেও ফিরে আসতে হয় দেশে। প্রথম ম্যাচের নায়ক মুশফিক খেলতে নেমেছিলেন পেইনকিলার খেয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষেও জয়ের নায়ক সেই মুশফিক। তবে সেদিনও তিনি পুরো ফিট ছিলেন না। পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙ্গুলে ব্যথা পেয়েছেন সবার অনুপ্রেরণা মাশরাফি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওভারের নায়ক মোস্তাফিজও পুরো ওভার বল করার মতো ফিট নন। এতগুলো প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বাংলাদেশ এখন ফাইনালে। তবে দুর্ভাগ্যকে জয় করতে সৌভাগ্যের ছোঁয়াও পেয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় আফগানিস্তানকে হারাতে না পারলে তো তামিম-সাকিবের মতো বাংলাদেশ দলকেও দেশে ফিরতে হতো। তবে ভাগ্য সবসময় সাহসীদের পক্ষে থাকে। এশিয়া কাপে দুর্ভাগা যদি কাউকে বলতে হয়, তবে সেটা আফগানিস্তান। সুপার ফোরের তিন ম্যাচকে শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিলেও ভাগ্যকে ফাইনাল পর্যন্ত নিতে পারেনি। তবে আফগানরা এই এশিয়া কাপে বিশ্বকে তাদের আগমনী গান শোনাতে পেরেছে।

টুর্নামেন্টে যাই হোক, বাংলাদেশ এখন ফাইনালে, প্রতিপক্ষ ভারত। এর আগেও দুবার এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। দুবারই হার মেনেছে দুর্ভাগ্যের কাছে- একবার প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, আরেকবার বাংলাদেশ আর শিরোপার মাঝে বাধা ছিল ভারত।

অঘোষিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে জবাব দেয়া হয়েছে, এবার ভারতকে পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার পালা। তবে কাজটা সহজ নয়। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আর র‌্যাঙ্কিং বিবোচনায় ভারতই ফেবারিট। কিন্তু ক্রিকেটে পরিসংখ্যান আর র‌্যাঙ্কিংয়ের কোনো মূল্য নেই। নির্ধারিত দিনে যারা মাঠে ভালো খেলতে পারবে, তারাই জিতবে। আর কে না জানে, ক্রিকেটে শারীরিক সক্ষমতার চেয়ে মানসিক সামর্থ্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নইলে ৬৬ ম্যাচ পর তামিম-সাকিবের মতো তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ উইনারকে ছাড়াই বাংলাদেশ পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিতে পারত না। তামিম-সাকিব দুজনকে আমি তিনজন লিখলাম কেন? কারণ সাকিব মানে একজন বাটসম্যান এবং একজন বোলার। ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছলেও এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অনেকগুলো দুর্বলতা উন্মুক্ত হয়ে গেছে। তামিম ফিরে আসার পর বাংলাদেশের ওপেনিং মানেই যেন উইকেটের ফ্লাডগেট ওপেন করে দেয়া। ওপেনিং নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও ফল পায়নি বাংলাদেশ। এমনকি বাংলাদেশ থেকে সৌম্য আর ইমরুলকে উড়িয়ে নিয়েও সমাধান হয়নি। পুরো টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যর্থতার কাহিনী লিখে গেছে একের পর এক। লিটন, শান্ত, সৌম্য, মুমিনুল- সবাই ব্যর্থ। বারবার মুশফিক আপনাকে জিতিয়ে দেবে না। তাই বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতেই হবে। ভারতের যা পারফরম্যান্স তাতে ৩০০ রান না করতে পারলে তাদের ঠেকানো কঠিন। অন্তত ২৭৫ করতেই হবে।

ব্যাটিং ব্যর্থতা আড়াল করেছেন বোলাররা। এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মোস্তাফিজের বিধ্বংসী ফর্মে প্রত্যাবর্তন। আর কে না জানে মোস্তাফিজকে দেখলে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের হাঁটু কাঁপা শুরু হয়ে যায়। তবে এক মোস্তাফিজ তো আপনাকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে দেবে না। ৫০ ওভার বল করার জন্য ৫ জন বোলার লাগে। অথচ পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলতে নেমেছিল ৪ জন স্পেশালিস্ট বোলার নিয়ে। ৬০ ম্যাচ পর নেমেছিল বাঁহাতি স্পিনার ছাড়া। আসলে সাকিব না থাকায় এ সমস্যাটা হয়েছে। একজন বোলার বাড়াতে গেলে কমে যায় একজন ব্যাটসম্যান। তবে দুর্বল পাকিস্তানের বিপক্ষে যে জুয়া খেলে আপনি জিতেছেন, শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে তাতে সফল নাও হতে পারেন।

একসময় ক্রিকেট বিশ্বে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনার বারুদে ঠাসা। কিন্তু সেই বারুদ এখন জলো হয়ে গেছে। ভারত জেতে একতরফাভাবে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের উত্তেজনার বারুদ এখন ভর করেছে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মানেই অন্যরকম উত্তেজনা, সমানে সমানে লড়াই। ভারতকে হারানোর সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে। খালি সেই বিশ্বাসটা বুকে ধারণ করে মাঠে নামতে হবে। আর নিজেদের উজাড় করে দিতে হবে। শুধু আবেগ আর জোশ দিয়ে জেতা যাবে না। জিততে হবে পারফরম্যান্স দিয়ে। বারবার ফাইনালে গিয়ে হতাশায় ভেঙে পড়তে চাই না। এবার চাই জয়। আর ভারতকে হারিয়ে আসলে সে জয় হবে মধুরতর।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত