প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বই বিতর্ক : দূর হোক সংশয়

অজয় দাশগুপ্ত : এখন এস কে সিনহা দেশে নেই। কিন্তু তিনিই টক অফ দ্য টাউন। বলা উচিত টক অব দ্য কান্ট্রি। অতিসম্প্রতি তার যে বইটি আলোর মুখ দেখেছে সবাই জানতেন এমন একটা কিছু আসছে। বিদেশে গিয়ে তিনি যেসব কথা বললেন বা লিখলেন তার সবটা যেমন অসত্য না, তেমনি অর্ধসত্য মিথ্যার চাইতেও ভয়ঙ্কর। ব ইটি পড়ে দেখুন বুঝতে পারবেন সবটা তার লেখা নয়। ইতোমধ্যে রটে গেছে চারজন বিশিষ্ট বাংলাদেশি আছেন এর পেছনে। মজার ব্যাপার এই যদিও বলা হচ্ছে জামায়াত এর অর্থায়ন করেছে কিন্তু যে চারজনের নাম এসেছে তারা সবাই বহিরাঙ্গিকে জামায়াত বিরোধী। তাহলে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, সবাই কি তলে তলে এক? না এ কোনো বানোয়াট অভিযোগ? শেখ হাসিনার সরকার গদিতে না আসলে সিনহা কি প্রধান বিচারপতি হতে পারতেন? পারতেন না। সে কৃতজ্ঞতা যেমন প্রকাশিত হয়নি তেমনি এটাও বলি, কৃতজ্ঞতা মানে কেবল অন্ধ আনুগত্য নয়। তবে মূল বিষয় হলো ভোটের আগে এই পুস্তিকার প্রকাশনা। নানা ষড়যন্ত্র আর সংঘাতের সমাজ আমাদের।

ফলে কোনটা আসল কোনটা নকল বলা মুশকিল। বিষয়গুলো তদন্ত বা চুলচেরা বিশ্লেষণের প্রয়োজন। একজন প্রধান বিচারপতি এভাবে চলে গেলে অনেক কিছু প্রশ্নবিদ্ধ হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সিনহা বাবুকে যেমন দেখেছি তাতে এটা নিশ্চিত তিনি হট হেডেড। তার এই গরম মেজাজ আর সরকারের কঠোর অবস্থান মিলে তৈরি হওয়া পরিবেশ আমাদের আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে? বিশেষত জবাবদিহিতা? সেটা এখন না বললেও বোঝা যায়। আমি মনে করি সরকারেরও বলার আছে। কেউ জু্িডশিয়াল ক্যু’র নামে সরকার উৎখাতের বন্দোবস্ত করবেন আর সরকার কি নীরবে তা হজম করবে? তাও যদি হয় পাকি স্টাইলে। শুরুতে আনুগত্যের পর কোন ইন্ধনে বা কোন প্ররোচনায় এতকিছু ঘটল সেটা বের করে আনা দরকার। আমরা রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ থেকে লতিফ সাহেব হবে সিনহা অবদি একটা বিষয় দেখছি কোথাও রাষ্ট্রযন্ত্রে কিছু একটা গলদ আছে। বিব্রত হওয়া থেকে শেষমেশ সাইড বদলে এটাই প্রমাণিত হয় ভয় নয় প্রলোভন নয় তো কোনো বিশেষ কারণে সবাই এমন কিছু করতে চান। এই কেনটা যতদিন প্রশ্নবোধক থাকবে এর কোনো সদুত্তর মিলবে না।

এটা বলবো, এখন এই টপ অব দ্য কান্ট্রি আমাদের কারও জন্য হিতকর না। সংবিধানে যেসব প্যাঁচ আছে বা করে রাখা হয়েছে তাতে সিনহার রাষ্ট্রপতি হওয়ার গল্প মানতে পারি না। কিন্তু কিছু একটা নিশ্চয়ই ছিল পেছনে। সবার ওপর এটা সত্য যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না। সেটাই প্রমাণিত হোক। কুয়াশা কাটুক। দেশ চলুক তার নিজের গতিতে। বিচারপতি যেন অসত্য বলে পার পেয়ে না যান আর যদি তার কথায় সত্য থাকে তারও একটা বিহিত হোক। মানুষের মনের সংশয় দূর হওয়া জরুরি।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত