প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কৌশলে মাঠ দখলে রাখবে আ.লীগ

আমাদেরসময় : সরকারবিরোধী জোটকে চাপে রেখে একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত রাজনীতির মাঠ নিজেদের দখলে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বলছেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আসলে নির্বাচনে অংশ নিতে চায় না। তারা চায় নির্বাচন ভণ্ডুল করতে। এ জন্য দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র চলছে।

সরকারবিরোধী জোটের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে অক্টোবরের প্রথম দিন থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। এ লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে জানান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে না, তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য জোট করেছে। তারা মূলত অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সরকারকে হটিয়ে ‘ভাগবাটোয়ারার’ মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চায়।

এ জন্য শুরুতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা স্বাগত জানালেও এখন ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। নেতাদের গতিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে সরকার। রাজনৈতিকভাবে তাদের প্রতিহত করার জন্য মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অশুভ শক্তির পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপিসহ তাদের সাম্প্রদায়িক দোসররা রাজনৈতিক অঙ্গনে নাশকতা ও সহিংসতার ছক আঁটছে। সহিংসতার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তবে আমাদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ নেই। আমরা সতর্ক।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায় বলে আমরা মনে করি না। তাদের কার্যক্রমে প্রমাণ হয় তারা ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চায়। এদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করব।

গতকাল দুপুরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলী ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হয় অক্টোবরের ১ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত সারাদেশে গণসংযোগ করা হবে। এরপর ১০ অক্টোবর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় ঘোষণার দিন রয়েছে। সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে, আলোচিত এই মামলার রায়ের আগে ও পরে আবার ২০১৩ ও ২০১৪ সালের মতো সারাদেশে নাশকতা হতে পারে।

নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সতর্ক থাকবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৭ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের এ অবস্থান কর্মসূচি থাকবে। এ ছাড়া আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যেই কেন্দ্রভিত্তিক এসব কমিটি গঠন করা হবে। ক্ষেত্রবিশেষে কিছু কিছু জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কেন্দ্ররক্ষা কমিটিও গঠন করা হবে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারের সাংগঠনিক সফর সিলেট, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগে অনুষ্ঠিত হলেও অবশিষ্ট বিভাগগুলোয় বাকি আছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে বাকি বিভাগগুলোয় নির্বাচনী সফরও করবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। শুধু তা-ই নয়, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে দেশের কিছু বিভাগীয় শহরে জনসভায় আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই অংশ নেবেন। জাতিসংঘ সফর থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে এসব জেলা সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ আমাদের সময়কে বলেন, নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক কার্যক্রমে জোরদার হবে এটাই স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে আগামী ১ থেকে ৭ অক্টোবরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পর আরও নতুন কর্মসূচি দিয়ে নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগের সারাদেশের সব নেতাকর্মী।

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সারাদেশে নির্বাচনী গণসংযোগের জন্য ইতোমধ্যে কয়েক লাখ লিফলেট ছাপানো হয়েছে। এসব লিফলেটের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামধারী জোটের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে রাজশাহী বিভাগে নির্বাচনী ট্রেনযাত্রায় বিপুল সাড়া পেয়েছি। নির্বাচনের আগে রংপুর বিভাগেও একটি নির্বাচনী সফরের চিন্তাভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় কিছু-কিছু জেলায় ঝটিকা সফর করছি। গত মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফর করি। সেখানে ৩টি সংসদীয় আসনে ৩টি জনসভায় অংশ নিই। এসব জনসভায় মূলত দলের নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগের সব সাংগঠনিক জেলায় দলের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত সরকারবিরোধী জোট যাতে সারাদেশে কোনোরকম সুবিধা করতে না পারে এবং রাজপথ থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে থাকে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে ওই চিঠিতে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত