প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমল গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য বিশুদ্ধ নিয়ত জরুরি

মুনশি মুহাম্মদ আবু দারদা: আল্লাহ তায়ালার নিকট মানুষের আকিদা ও নেক আমল কবুল হওয়ার জন্য বিশুদ্ধ নিয়ত শর্ত৷ যেমন নিয়ত করবে তেমন প্রতিদান পাবে৷ খালেস নিয়ত এবং সহিহ আকিদা মুমিনের সফলতার রাস্তা৷ আর এই নেক আমলের প্রতিদান ঐ সময় পাবে যখন নাকি সমস্ত কাজ শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার রাজি ও খুশি হাসিলের উদ্দেশ্য হবে৷

বিশুদ্ধ নিয়তের গুরুত্ত্ব বিষয়ে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও কর্মের দেখেন।

হাদীস শরীফে হযরত উমর রা থেকে বর্ণিত আমি রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, “যাবতীয় কাজ নিয়ত বা সংকল্পের উপর নির্ভরশীল। আর মানুষের জন্য তাই প্রাপ্য হবে, যার সে নিয়ত করবে। অতএব যে ব্যক্তির হিজরত (স্বদেশত্যাগ) আল্লাহর (সন্তোষ লাভের) উদ্দেশ্যে ও তাঁর রসূলের জন্য হবে; তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্যই হবে। আর যে ব্যক্তির হিজরত পার্থিব সম্পদ অর্জন কিংবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যেই হবে, তার হিজরত যে সংকল্প নিয়ে করবে তারই জন্য হবে।” (বুখারী ও মুসলিম )

আলোচ্য হাদীসখানায় নিয়তের গুরুত্ব, আমল ও হিজরত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। মুসলমানদের প্রত্যেকটি কাজে নিয়তের বিশুদ্ধতা থাকা অত্যাবশ্যক। প্রতিটি কর্ম আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সা. এর সন্তষ্টি অর্জনের জন্যই করা উচিৎ। কোন কাজে বিশুদ্ধ নিয়ত না থাকলে সে কাজ আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই আল্লাহর নিকট কোন কাজের পুরস্কার পেতে হলে প্রত্যেকটি কাজে নিয়তের বিশুদ্ধতা থাকা অপরিহার্য। এমনকি হিজরতের মত গুরুত্বপূর্ণ দীনি কাজেও নিয়তের বিশুদ্ধতা না থাকলে তা আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় হবে না এবং তার প্রতিদান পাওয়া যাবে না। আল্লাহ তায়ালা কাজের সাথে বান্দার অন্তরের অবস্থাও দেখতে চান। বিশুদ্ধ নিয়ত প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন: আর তাদেরকে হুকুম করা হয়েছে যে তারা যেন একনিষ্ঠ হয়ে আন্তরিকভাবে আল্লাহর দ্বীন পালনের মাধ্যমে একমাত্র তাঁরই ইবাদ করে। (সূরা আলে-ইমরান: ২৯) অন্য জাগায় ইরশাদ করেন আপনি বলুন, তোমরা তোমাদের মনের কথা গোপন রাখ অথবা প্রকাশ কর, তা সবই আল্লাহ জানেন। (সূরা আলে-ইমরান : ২৯)

মানুষ দুনিয়াতে বিভিন্ন ধরণের নেক আমল করে থাকেন, যে আমলের পিছে কোননা কোন উদ্দেশ্য বা নিয়ত লুকায়িত থাকে৷ সুতরাং এসমস্ত আমল কাউকে খুশি করা, কিনবা মানুষের কাছে ভালো হবার জন্য, অথবা এই নিয়তে করে যে মানুষ তাকে ভালো বলবে কিনবা দুনিয়ার কোন ফায়দা হাসিল করার উদ্দেশ্য থাকে৷ তো আল্লাহ তায়ালার নিকট এমন নেক আমলের কোন প্রদিদান সে পাবে না৷ হাদীস শরীফে রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন, যদি কোন মুসলমান নেকির ছোট থেকে ছোট আমল করে এবং তার নিয়ত শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার রাজি খুশির জন্য হয়, তাহলে সে আল্লাহর নিকট পুরা প্রতিদান পাবে৷ কেননা আমল ছোট বড় হওয়ার গুরুত্ব ওতটা রাখেনা যা সহিহ নিয়ত এবং ইখলাসের গুরুত্ব রাখে৷

ফাজেল: দারুল উলুম দেওবন্দ ৷

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত