প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অমুসলিমদের সদকা দেওয়া যাবে কী?

ওমর শাহ: পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য হাদিয়া-তোহফা দেওয়া হয়। আর সওয়াবের আশায় যা দান করা হয় তা হল সদকা। সদকা অমুসলিমদেরও দেওয়া যায়। একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারা যেন কেবল মুসলিমদেরই দান সদকা করে। তখন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আয়াত নাযিল হল, অমুসলিমদের হেদায়েত দেওয়া আপনার কাজ না। আর মুসলমানদের বলা হল, যে সম্পদ তোমরা ব্যয় কর, তার পুরস্কার তোমাদের পূর্ণরূপে প্রদান করা হবে। [সুরা বাকারা, আয়াত- ২৭২]। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা সকল ধর্মের লোকজনকে দান-সদকা করবে। [নাসবুর রাইয়া, ২:৩৯৮]।

এমনিভাবে হযরত সায়িদ ইবনুল মুসাইয়াব রাদি. থেকে বর্ণিত, হযরত রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইহুদিদের একটি সম্প্রদায়কে সদকা দিয়েছিলেন। [নাসবুর রাইয়া]। এ জন্য নফল সদকা অমুসলিমদেরও দেওয়া যাবে। সকল ইমামের অভিমত হল অমুসলিমদের নফল সদকা দেওয়া যাবে। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মত হল ওয়াজিব সদকাও অমুসলিমদের দেওয়া জায়েয। শুধু যাকাত দেওয়া যাবে না। কারণ যাকাতের জন্য শর্ত হল মুসলিমদের থেকে নিয়ে মুসলিমদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া। [তাবয়িনুল হাকায়েক, ১:৩০০]।

বুঝা গেল অমুসলিমদের সদকায়ে ফিতর ও কোরবানির গোশত দেওয়া যাবে। এমনিভাবে মান্নতের জিনিসপত্রও দেওয়া যাবে। বাস্তবিক জীবনে বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, ভূমিকম্প ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে অমুসলিমদেরও সাহায্য করতে হবে। এমনিভাবে কোনো অমুসলিম অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা করা। তাদের কারো মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হলে বিয়ের ক্ষেত্রে সাহায্য করা। এতিম-বিধবাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা। এ সবই পুণ্যের কাজ। এ ধারণা করা ঠিক না যে, অমুসলিমদের সহযোগিতা করলে সওয়াব হবে না। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের এসব শিক্ষার প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। যাতে আমাদের দেশীয় ভাইয়েরা বুঝতে পারে মুসলিমরা কেবল নিজেদের নিয়েই চিন্তা করে না বরং পরোপকারের ক্ষেত্রে তাদের চিন্তার পরিধি সকল মানুষকেই শামিল করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত