প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখ হাসিনার জন্মদিন ও বঙ্গবন্ধুর পুনর্জন্ম

নির্মলেন্দু গুণ : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রি আমার জীবনকে একেবারে তছনছ করে দেয় । বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার ঘটনাটি আমার বুকের ভিতরে একটি গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে । ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে স্তূপ করে রাখা বঙ্গবন্ধু, শেখ মনি ও আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারের সদস্যদের মৃত দেহগুলি দেখার পর আমি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি।

ডোমদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি যে মর্গে বঙ্গবন্ধুর লাশটি আনা হয়নি। তার লাশ ৩২ নম্বরের বাড়িতেই পড়েছিল। সেখানে যাবার উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হই। ঐ বাড়িটি তখন সৈনিকরা পাহারা দিচ্ছিল। পরিবর্তিত ঢাকার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেস্টা করে আমি ব্যর্থ হই। তিন দিন তিন রাত্রি স্থান বদল করে (মহাদেব সাহা, আসাদ চৌধুরী ও আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ) ঢাকায় লুকিয়ে থাকার পর আমি ঢাকা ছেড়ে গ্রামে ফিরে যাবার সিন্ধান্ত নেই। আমি বুঝতে পারি, এই নগরীতে আমার পক্ষে আর ঘুমানো সম্ভব হবে না। আমার ঘুম আসে না। চোখ বুজলেই টিভিতে দেখা খোন্দকার মোশতাক, জেনারেল আতাউর গনি ওসমানী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের উল্লসিত মুখ ভেসে ওঠে। ১৮ আগস্ট রাতের ট্রেনে আমার হুলিয়া কবিতার নায়কের মতো লুকিয়ে আমি আমার জন্মগ্রাম কাশবনে ফিরে যাই। আবার কখনও ঢাকায় ফিরে আসব বা ফিরে আসতে পারব-এমন ধারণা বা বিশ্বাস তখন আমার ছিল না। মনে হচ্ছিল, আমি চিরদিনের জন্য আমার এই প্রিয় নগরী ছেড়ে চলে যাচ্ছি, যে-নগরী আমাকে কবি বানিয়ে ভালোবেসে তাঁর বুকে তুলে নিয়েছিল। আমার চারপাশে আমি একদল আততায়ীর অস্তিত্ব অনুভব করতে থাকি। অচেনা মানুষদের তো বটেই, আমার খুব চেজাজানা মানুষদেরকেও সন্দেহ হতে থাকে। আমার মনে হচ্ছিল, বঙ্গবন্ধুর আততায়ীরা আমাকে গোপনে অনুসরণ করছে। আমার মনে হচ্ছিল, আমি যে বঙ্গবন্ধুর রুহূকে আমার বুকের ভিতরে গোপনে বহন করে নিয়ে চলেছি, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা তা জেনে গিয়েছে। আমি একটু অসর্তক হলেই, ওরা আমাকে হত্যা করবে।

গ্রামের বাড়ীতে মা-বাবা ও আমার ভাই বোনদের কাছে ফিরে গেলে হয়তো আমার স্বস্তি আসবে, ভয় কেটে যাবে আমি হয়তো ঘুমাতে পারব। কিন্তু না গ্রামের বাড়ীতে ফিরে যাবার পরও আমার মানসিক অবস্থার উন্নতি হলো না। বরং! আমার সন্দেহের তালিকায় আমার আপনজনরাও যুক্ত হলো। আমি নিজে রান্না করে খেতে শুরু করলাম। অপরের দেওয়া খাদ্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকলাম। আমার মনে হতে থাকল রাজপুতিনের মত আমাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হতে পারে। মনে পড়ল ঔপন্যাসিক সরদার জুয়েনুদ্দিন, কবি আবদুল গনি হাজারী এবং শিল্পী কামরুল হাসান –এই তিন বন্ধু আমাকে রাজপুটিন বলে ডাকতেন। কেন ডাকতেন ? তবে কি আমার জীবনের পরিনতিও রাজপুতিনের মতো হবে ?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত