প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০ টাকার জন্য খুন হয় মাদকসেবী জাকির!

ডেস্ক রিপোর্ট : ইয়াবা কেনার সময় ২০ টাকা কম দেওয়ায় জাকিরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ী বুলেট। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় দায়ের করা মামলায় সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল আসামি বুলেট পলাতক রয়েছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ২ নম্বরের রাইনখোলায় ঝিলপাড় বস্তিতে মাদক কিনতে গিয়ে জাকির হোসেন (৩৫) নামে এক মাদকসেবী খুন হয়। নিহত জাকির পরিবহন শ্রমিক ছিল।
ঘটনার পরদিন নিহত জাকিরের মা আলেয়া বাদী হয়ে শাহআলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই আসামি রুবেল ও লিটনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহত জাকির যশোরের মোল্লাপাড়া গ্রামের উকিল উদ্দিনের ছেলে। স্ত্রী সাহিদা ও এক শিশুসন্তানকে নিয়ে সে মিরপুরের চলন্তিকা মোড়ে ট-ব্লকের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতো। সে মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে ৭ নম্বর বাসের চালক ছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রিমান্ডে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রুবেল ও লিটন জানায়, বুলেটের কাছ থেকে ইয়াবা কিনতেই জাকির বস্তিতে এসেছিল। সেখানে ইয়াবার টাকা কিছু কম দেওয়ায় দুজন বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে বুলেট তার সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে জাকিরের বুকে আঘাত করে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বুলেট ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি ও সেবন দুটোই করতো। তার সঙ্গে রুবেলও জড়িত ছিল। এছাড়াও মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের ঝিলপারের বস্তিতে বুলেট থাকতো না। সেখানে রুবেল একটি ঘরে বসবাস করে। আর এই বস্তিতে রুবেলের ঘরেই তারা ইয়াবা সেবন করতো। প্রায় প্রতিদিনই বুলেট ইয়াবা নিয়ে রুবেলের ঘরে আসতো। তারা দুজন মিলে সেবন করতো। এদিকে বুলেটের কিছু কাস্টমার ছিল, যারা বুলেটের কাছ থেকে ইয়াবা কিনতো।

মিরপুরে ছুরিকাঘাতে মাদকসেবী নিহত

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বস্তির বাসিন্দা লাইলি  বলেন, ‘বুলেটের কাছ থেকে ইয়াবা কিনতে আসে জাকির। ইয়াবার দামের থিকা ২০ টাকা কম দেয়। এই কারণে গলির মুখেই ওরা তর্কাতর্কি শুরু করে। এ সময় রুবেল এদিকে আসে। ওদের দুই জনের কথা কাটাকাটি দেখে রুবেল দুই জনকেই গালি দেয়। এর পরপরই বুলেট জাকিরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আর রক্ত দেখে রুবেলও উল্টা দৌড় দিয়া পালাইয়া যায়।’
আসামি রুবেলের ঘরের আশপাশের বাসিন্দারা জানান, একটি ঘর নিয়ে রুবেল তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতো। বুলেট এখানে না থাকলেও তার বন্ধু রুবেলের কাছে প্রায়ই আসতো। দুজন মিলে রুবেলের ঘরে বসেই ‘বাবা’ (ইয়াবা) খাইতো। এদিকে, বুলেট ঘুরেফিরে ইয়াবা বিক্রিও করতো। গ্রেফতার আসামি লিটন আগে ইয়াবা বিক্রি করতো। তবে পুলিশের অভিযানের পর সে এই ব্যবসা বন্ধ করে গ্রামের বাড়ি চলে যায়।

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মিরপুর কমার্স কলেজের ঢাল সংলগ্ন ঝিলপাড় বস্তিতে গিয়ে দেখা গেছে, বস্তির খুব বড় নয়। ঝিলের ওপর বাশ-কাঠ আর টিন দিয়ে দোতলা ঘর তুলে বসবাস করছে মানুষজন। সড়কের পাশে রয়েছে কয়েকটি চায়ের দোকান। বস্তির ভেতরে ঢোকার কয়েকটি সরু গলি আছে। ভেতরে ঘরগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে লাগোয়া।
বস্তির বাসিন্দারা জানান, এই বস্তিতে আগেও পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে। তখন অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। আবার অনেকে পালিয়ে গেছে। তারা এখানে আসে না। তবে ঈদের পর থেকে এই বস্তিতে বুলেট ও রুবেল ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিল। তারা নিজেরাও ইয়াবা সেবন করতো, আবার বিক্রিও করতো।
মামালার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহআলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুবেল ও লিটন নামের দুই সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি বুলেট এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনও ছুরি ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, রুবেলের নামে থানায় একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে লিটনের নামে কোনও মামলা নেই।
নিহত জাকিরের পরিবার জানায়, রাতে মিরপুর কমার্স কলেজের ঢাল সংলগ্ন বস্তিতে ইয়াবা কিনতে যায় জাকির। তার সঙ্গে খালাতো ভাই পিন্টুও ছিল। তবে জাকির একাই বস্তির ভেতরে ঢোকে। কিছুক্ষণ পর ‘বাঁচাও’, ‘বাঁচাও’ বলে বস্তি থেকে বেরিয়ে আসে জাকির। জাকির মৃত্যুর আগে পিন্টুর কাছে বলেছে, মাদকের টাকা নিয়ে বুলেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় তার। এতেই সে তার বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে এবং পালিয়ে যায়।
নিহতের খালাতো বোন তাহেরা খাতুন বলেন, ‘মাত্র ২০ টাকার জন্য কেউ এভাবে কাউকে খুন করে! এই সামান্য কয়টা টাকার জন্য জাকিরকে বুলেট খুন করছে। আমরা খুনির ফাঁসি চাই।’
তিনি বলেন, ‘বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে জাকির মাদক খাওয়া শুরু করতে পারে। মনে হয়, ইয়াবা ট্যাবলেট কিনতেই জাকির ওই বস্তিতে গিয়েছিল।’
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছি। মূল আসামির নাম-পরিচয় আমরা পেয়েছি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত