প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

উত্তরপত্র জালিয়াতি করে ভর্তি, জড়িত শিক্ষক-কর্মচারী চক্র!

ডেস্ক রিপোর্ট : মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলতি বছর শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্র ঘষামাজা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন দুটি শ্রেণির উত্তরপত্র জালিয়াতির এই অভিযোগের প্রমাণও পেয়েছে। এখন তদন্ত করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে আংশিক এমপিওভুক্ত স্কুলটির মতিঝিল, মুগদা ও বনশ্রী শাখায় ভর্তি পরীক্ষা হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে খাতা ঘষামাজা করে শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে, যাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে তিন লাখ টাকা করে। গত মার্চে এমন একটি অভিযোগ পাওয়ার পর ঢাকা জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পায় এবং তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয়। ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য ইতিমধ্যেই ঢাকা আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। পৃথকভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও মাউশি অধিদপ্তরের মাধ্যমে অধ্যক্ষের কাছে জবাব চেয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব আনোয়ারুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উত্তরপত্র ঘষামাজার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের ব্যাখ্যা চান।

জানতে চাইলে মাউশি অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক মো. ইউসুফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু খাতা ও কাগজপত্র জব্দ করেছি। এগুলো নিয়ে কাজ করতে সময় লাগবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একজন অভিভাবক শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করার পর জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও তদন্তকারী কর্মকর্তা তাসলিমা মোস্তারী গত ১০ জুলাই সরেজমিন তদন্ত করেন। স্কুলটির মতিঝিল, মুগদা ও বনশ্রী শাখায় ভর্তি হওয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ১২২ জনের উত্তরপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ৬৯টি খাতায় উত্তর রাবার দিয়ে মোছার পর তার ওপর লেখা হয়েছে। কিছু উত্তরপত্রে হাতের লেখায় অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। সেসব উত্তরপত্র বর্তমানে গুলশান থানা শিক্ষা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

অভিভাবক শ্যামলী শিমুর অভিযোগে বলা হয়েছে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম খান ও স্কুলের কর্মচারী আতিকুর রহমান কয়েকজন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরপত্র ঘষামাজা করেছেন। অধ্যক্ষ ও তাঁর দলবল মাথাপিছু তিন লাখ করে টাকা নিয়ে এক শ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করেছে।

শ্যামলী শিমুর লিখিত অভিযোগে ওই তিনজন ছাড়াও হিসাব সহকারী দীপা ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. কবির হোসেনের নাম রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মতিঝিল আইডিয়ালে মূলত দুই ভাইয়ের রাজত্ব চলছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম ও তাঁর আপন ভাই স্কুলের কর্মচারী আতিকুর রহমানের ইশারায়ই চলে সব কিছু। আর অধ্যক্ষ সব কিছু জেনেও না জানার ভান করেন। আতিকুর রহমান অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক। নিজে চলাচল করেন একটি দামি গাড়িতে। ভর্তি বাণিজ্য, কেনাকাটা, স্কুলের উন্নয়নকাজ সবই নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। এ ছাড়া স্কুলে বইপাঠ্য করে কমিশন বাণিজ্য, নিজের বইয়ের দোকান থেকে শিক্ষার্থীদের বই কিনতে বাধ্য করা, স্কুলের পোশাক নিজের দর্জির দোকান থেকে বানাতে বাধ্য করাসহ সবই তিনি করেন।

জানা গেছে, আতিক নিজেকে স্কুলের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। বনশ্রীর ডি ব্লকের ১০ নম্বর সড়কে নিজের ফ্ল্যাটে থাকেন তিনি। আফতাবনগরের বি ব্লকে তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে স্ত্রীর নামে। শ্বশুরের নামে মেরুল বাড্ডার আনন্দনগর হাজি ওয়াকিল উদ্দিন সড়কে থাকা জায়গায় আতিক করেছেন আরেকটি বাড়ি। আরো একটি বাড়ি রয়েছে বনশ্রীর সি ব্লকে। এ ছাড়া আশিক ও বিশ্বাস লাইব্রেরি নামের দুটি বইয়ের দোকান এবং স্কুলের প্রতিটি ক্যাম্পাসে ক্যান্টিনও চালান তিনি বেনামে। তাঁর মামাশ্বশুর মো. মোয়াজ্জেম হোসেন স্কুলের বনশ্রী শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক।

এসব বিষয়ে জানার জন্য আতিকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির কাছে আতিকের ভাই সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম খান তাঁর লিখিত বক্তব্যে দাবি করেছেন, অধ্যক্ষ কোনো অবৈধ কাজ করেননি। সহকর্মী হিসেবে তাঁকেও কোনো অবৈধ কাজ করতে বলেননি কিংবা বল প্রয়োগ করেননি।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এখনো ডিসি অফিস থেকে কোনো রিপোর্ট পাইনি। মন্ত্রণালয় বা মাউশি অধিদপ্তরেরও কোনো চিঠি পাইনি। আর খাতা তো আমি দেখি না। শিক্ষকরা দেখেন। বিষয়টি নিয়ে ডিজি অফিসও তদন্ত করছে। তারা আমাদের ডাকুক, তাদেরকেই সব বলব।’
সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত