প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বখাটে মিঠুন বাঁচতে দিল না দিশাকে

ডেস্ক রিপোর্ট : কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক লম্পট জোর করে আপত্তিকর ছবি তুলে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ায় লোকলজ্জার ভয়ে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। দিশা মজুমদার (১৭) নামের ওই তরুণী বুধবার রাতে বাগেরহাটের চিতলমারীতে নিজ ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

আত্মহননকারী দিশা মজুমদার চিতলমারী উপজেলার দড়ি উমাজুড়ি গ্রামের শুকুমার মজুমদারের মেয়ে। সে স্থানীয় কালিদাস বড়াল ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও দিশার সহপাঠীরা মাদকাসক্ত লম্পট মিঠুন মজুমদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। অভিযুক্ত মিঠুন একই বাড়ির সঞ্জয় মজুমদারের ছেলে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিশার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনরা বিলাপ করছে। দিশার মা সাধন মজুমদার বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে মিঠুন আমার মেয়েকে ওদের ঘরে ডেকে নিয়ে জোর করে অশ্লীল ছবি তোলে। লোকলজ্জার ভয়ে আমরা কাউকে তা বলিনি। এর পর থেকে সে আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। মিঠুন পরে সেই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। মেয়ে ইন্টারনেটে নিজের আপত্তিকর ছবি দেখে লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আমরা মিঠুনের কঠিন শাস্তি চাই।’

দিশার বাবা সুকুমার মজুমদার বলেন, ‘মিঠুন বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। আমরা বাধা দিলে সে ও তার ছোট ভাই টিটু মজুমদার আমাদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দিত। শেষ পর্যন্ত ওর জন্য আমার মেয়ে প্রাণ দিল। আমরা ওর শাস্তি চাই।’

প্রতিবেশী প্রদীপ বিশ্বাস জানান, ‘মিঠুন এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। ওর লাম্পট্যের কারণে একটি নিরপরাধ মেয়ে জীবন দিল। আমরা এই মাদকাসক্ত লম্পটের কঠোর শাস্তি চাই।’ এলাকার বৃদ্ধ রবীন্দ্রনাথ বৈদ্যও একই দাবি জানান।

এদিকে মিঠুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল বিকেলে দিশার সহপাঠীরা কালিদাস বড়াল ডিগ্রি কলেজে বিক্ষোভ মিছিল করে।

চিতলমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকরাম হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা বাড়ি থেকে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। ঘটনার পর থেকে মিঠুনের পরিবারের সবাই পলাতক। তাকে আটকের চেষ্টার পাশাপাশি মূল ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি।’
সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ