প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিরাপত্তার আইন নিয়ে অনিরাপত্তার শঙ্কানিরাপত্তার আইন নিয়ে অনিরাপত্তার শঙ্কা

আমিনুল ইসলাম মল্লিক : জাতীয় সংসদে ১৯ সেপ্টেম্বর পাস হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮। রাষ্ট্রের বিভিন্ন নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এ আইনটি পাস করা হলেও আইনজ্ঞসহ অনেকের মধ্যেই অনিরাপত্তার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত বা তাদের প্রতিনিধিরাও আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, দেশে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও ইউনিয়ন আইনটির কঠোর ও বিতর্কিত কিছু ধারা বাদ দেওয়ার দাবি তোলে। বর্তমানে নিরাপত্তার এ আইন নিয়ে অনিরাপত্তার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যেসব ধারা নিয়ে বিতর্ক

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তি, ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত, মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রচারণার মতো বিভিন্ন অপরাধ ও এর সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরে বসে কেউ এই আইনের অধীনে এমন অপরাধ করলে এই আইনে বিচার করার বিধান রাখা হয়েছে। আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে প্রবেশের মাধ্যমে কোনো সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বিধিবদ্ধ কোনো সংস্থার অতিগোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার, ডিজিটাল যন্ত্র, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে সেই কাজ হবে কম্পিউটার বা ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। আবার এই অপরাধ অজামিনযোগ্য। এই ধারাটি নিয়েই সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে।

আইনে ২৯ ধারায় মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও সম্প্রচারের বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে মানহানি-সংক্রান্ত দণ্ডবিধির (১৮৬০) সেকশন ৪৯৯-এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড। আবার অপরাধটি দ্বিতীয় বা বারবার করলে অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হবে।

আইনের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা তাতে মদদ দেন, তাহলে তা অপরাধ হবে। এ অপরাধের শাস্তি ১৪ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। আর বারবার করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

৩১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা ডিজিটাল বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে, অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বা ঘটানোর উপক্রম হয়, তাহলে তা হবে একটি অপরাধ। এ জন্য তিনি সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এই ধারার অপরাধে জামিন হবে না।

আইনের ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ বাংলাদেশের বাইরে এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ করেন, যা বাংলাদেশে সংঘটন করলে এই আইনের অধীনে দণ্ডযোগ্য হতো, তাহলে এই আইনের বিধানাবলি এইভাবে প্রযোজ্য হবে, যেন ওই অপরাধ তিনি বাংলাদেশেই সংঘটন করেছেন।

চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা নিয়ে সংবিধান কী বলছে

সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতার নিয়ে বলা আছে

(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।

(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে

(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং

(খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে বিশেজ্ঞদের সঙ্গে কথা প্রিয়.কমের।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘এটা একটি নিবর্তনমুলক আইন। আমরা এটি পরীক্ষা করছি। এই আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আমরা মতামত দেব। আমরা মনে করি তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার চেয়েও এ আইন খারাপ। এটা নির্বতনমুলক অর্থাৎ এটা মত প্রকাশে কারও স্বাধীনতাই থাকবে না।’

সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার এ আইনটা পাশ করেছে। সংবাদপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন মানুষ কোনো রকম প্রচারণা না করতে পারে। কোন প্রচারণা সরকারের বিরুদ্ধেই গেলেই মামলা করবে। মানুষের কণ্ঠরোধ করার জন্য এটা করা হয়েছে। এটি একটি ব্লাক ল (কালো আইন)।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এ আইনের বিষয়ে কিছু করবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে খোকন বলেন, ‘আমরা মনে করি এ আইন সরকারের বাতিল করা উচিত। মানুষের মৌলিক অধিকার সাংবিধানিক অধিকার নষ্ট করা হয়েছে। সংবিধানে যে মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে বাক স্বাধীনতা, মৌলিক স্বাধীনতা সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকারের সঙ্গে এ আইন সাংঘর্ষিক।’

এক প্রশ্নের জবাবে খোকন বলেন, ‘সরকারে দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও সরকারপন্থী আইনজীবীরা এই আইনের অপব্যবহার থামাতে পারবে না।’

এ আইনটি সাংবাদিকদের কাজে বাধা হয়ে দাড়াবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রিয়.কম বলেন, ‘এ আইনের পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে আছে কিনা সেটি সাংবাদিকদের বের করতে হবে। আমার মনে হয় এ আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে কোনো সমস্যা নাই। কারণ এই আইনের পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নাই। এটা হলো প্রটেকশন অব অ্যাবইউস (কোনো বিষয়ের অপব্যবহারকে রোধ করা)।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল বাসেত মজুমদার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইতোমধ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আইনটিতে সম্মতি না দিয়ে সংসদে ফেরত পাঠাতে রাষ্ট্রপতির প্রতি আবেদন জানিয়েছে।

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস-২০১৮’ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ আবেদন জানানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্তর্নিহিত উপাদান ও সংবিধানে থাকা মুক্তচিন্তা ও বাক স্বাধীনতার প্রতি ব্যাপকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ধারাগুলো অন্তর্ভুক্ত রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস হওয়ায় অনুষ্ঠানে পুনরায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবি।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার রূপান্তর হিসেবে সম্প্রতি সংসদে অনুমোদিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আইনটি শুধু বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাতেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না, গণমাধ্যমকর্মীসহ সরকারের নানা কার্যক্রম সম্পর্কে গবেষণা করা বেসরকারি সংস্থার ব্যক্তিদের জন্যও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।’

‘আইনটি দেশে গণতন্ত্র বিকাশের পথে বিরাট প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করবে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে সব নাগরিকের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বোধ সৃষ্টি করবে।’

আইনটি সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করবে এমন মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, দেশের সাংবাদিকদের জোরালো বিরোধিতা সত্ত্বেও গত সপ্তাহে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ পাস করেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। দেশে মুক্ত মত প্রকাশের ওপর এটি একটি বড় আঘাত।

সংস্থাটির এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হলো নির্যাতনে আইওর (তদন্ত কর্মকর্তা) একটি অস্ত্র এবং বাংলাদেশ মুক্ত মত প্রকাশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যেসব আইন মানতে বাধ্য তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে কমপক্ষে পাঁচটি বিধান আছে, যা দিয়ে কথা বলা বা মত প্রকাশকে ক্রিমিনালাইজ করা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের পর সম্পাদক পরিষদ এ আইন পাসের নিন্দা জানিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিবৃতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলটি পাসের জন্য ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার সংসদে তোলেন। এ সময় বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ১১ জন ও স্বতন্ত্র একজন সাংসদ বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও আরও পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার প্রস্তাব দেন।

এ সময় বিলটির বিরোধীতা করে জাতীয় পার্টির সাংসদ ফখরুল ইমাম বলেন, ‘অংশীজনদের আপত্তি ও বিতর্কিত ধারাগুলো অপরিবর্তিত রেখে সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা খুবই উদ্বেগজনক। একদিকে বিলের ৮, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগ ও মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। যা তাদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে বিতর্কিত ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ অনুসরণের সুপারিশ করার দৃষ্টান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক।’

বিলটির বিষয়ে বিএনপির নেতারা যা বললেন

বিলটি পাসের পর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া আইসিটি আইনের চেয়েও ভয়ংকর। কেননা, যে যে কাজের কারণে ৫৭ ধারায় অভিযুক্ত করা যেত, সেসব কাজকে এই আইনে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে সংবাদপত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হবে।’

অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হলে দেশে মানুষের বাক স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলে কিছুই থাকবে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এই আইনটি আরও একটি ‘কালো আইন’ হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’

জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাসের পর দেখা যাচ্ছে সেখানে চারটি ধারায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিতর্কিত ৫৭ ধারাটিকে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে দেশে-বিদেশে তীব্র সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য চিঠি দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তথ্যমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত চিঠিটি সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে আগামী শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পরিষদের ডাকা মানববন্ধন স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টম্বর) তথ্য মন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করেছে সম্পাদক পরিষদ।

সম্পাদক পরিষদকে দেয়া তথ্য মন্ত্রীর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার পরিষদের পক্ষে এক বিবৃতিতে সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম কর্মসূচি স্থগিতের তথ্য জানান।
সূত্র : প্রিয়.কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ