প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় দেখছে বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি জোট আগামী নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবে বলে প্রত্যাশা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

তারা বলছেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপি এবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবে। আর সুষ্ঠু নির্বাচন বলতে দলটি বলছে, নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ইভিএম বাতিল এবং নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

বিএনপির এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যেসব যুক্তি দলটির নেতারা দিয়েছেন, সেগুলো হলো- সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণ অসন্তোষ, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ, ব্যাংকখাত লুট করেছে, আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, দুর্নীতি, অত্যাচার, গুম, হত্যা ও নির্যাতন। এসব কারণে জনগণ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যার ফলে আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে পড়েছে। সুতরাং সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে বিএনপি বিপুল ভোট এবং আসনে জয়লাভ করবে।

এবিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ জানে যে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন হয় তাহলে তারা কোনোদিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে হলে আওয়ামী লীগ ৮ ভাগ ভোটও পাবে না- বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০ বা ৪০টির বেশি আসন পাবে না। আর এই সরকার আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে অনেকের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

জানতে চাইলে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণ অসন্তুষ্ট। আর আমরা মনে করছি, এই সরকারের বিরুদ্ধে একটা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য হওয়ার সম্ভবনা আছে। বৃহত্তর ঐক্য এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ বিএনপির পক্ষে যাবে- এটা সবাই জানে। এই কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা উৎফুল্ল। বিশেষ করে, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ওই নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়েছে বলেই বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেছে। তাই সংসদ নির্বাচনও নিরপেক্ষ হলে বিএনপি বিপুল ভোট এবং আসনে জয়লাভ করবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বর্তমান সরকার গত ১০ বছর রাষ্ট্র পরিচালনায় পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হয়েছে। দেশে অর্থনীতি চলে কিছু নাই। বেসিক ব্যাংক থেকে শুরু করে সব ব্যাংক লুট হয়ে গেছে। এই যে সংস্কার কাজ- ব্রিজ বানানো। এগুলো রক্তচোষার মত সবকিছু চুষে নিচ্ছে সরকার ও তাদের সহযোগিরা। বিশ্বব্যাংক আমাদের প্রকল্প (পদ্মা সেতু) থেকে সরে গিয়েছে। এসময় যে দুর্নীতি হয়েছে, তা বিশ্ববাসী ও আমাদের দেশের জনগণ স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। তাই বিএনপি ও বিএনপির কর্মীরা এবং দেশবাসী মনে করে, এই সরকারের পতন অতি সংনিকটে। আর সরকারের পতন হলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দল আছে বলে আমার জানা নাই।

এই বিষয়ে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স  বলেন, আমরা তো রাজনীতি করি। আর জনগণের সাথে আলাপ-আলোচনা করি। আমাদের বিশ্বাস জনগণ আওয়ামী লীগের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগ শুধু সরকার পরিচালনা না, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও যোগ্যতা হারাচ্ছে। তাই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, যদি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় তাহলে বিএনপি জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশী আসনের জয়লাভ করবে। সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত