প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

বিরোধী জোটের উপর নজরদারি

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী জোটকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে দেবে না আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী প্রচারনার পাশাপাশি বিরোধী জোটের উপর থাকবে কঠোর নজরদারি। অক্টোবরেই জমবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাইভোল্টেজের প্রচারণা।

এ সময়ের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও অর্জনের বার্তা যাবে প্রতিটি নাগরিকের কাছে। সাথে থাকবে আগামী দিনের দেশ ও মানুষের কল্যাণের বার্তা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতারা দেশের প্রতিটি ভোটারের কাছে যাবেন। ভোটারদের কাছে শুধু সশরীরেই নয়, মোবাইল ম্যাসেজের মাধ্যমেও দলের হাইকমান্ডের বার্তা যাবে ভোটারের কাছে। তফসিল ঘোষণার পরেই দলের হাইকমান্ডের চুড়ান্ত বার্তা যাওয়া শুরু হবে। এসব বার্তায় থাকবে নানা চমক।

আগামীর বাংলাদেশ গঠনের সার্বিক চিত্র এতে প্রকাশ করা হবে। সরকারি দলের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একাধিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এসব কথা বলেন। নেতারা মনে করেন একাদশ নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে সংগঠনকে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিটমাট করার কাজও প্রায় শেষ করে এনেছেন। এবার সরকার বিরোধী জোটের আন্দোলনের হুমকি-ধামকি মোকাবিলায় সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট একাট্টা হয়ে নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে।

বিরোধী জোট দাবি আদায়ের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে। একাদশ নির্বাচনের সামনের দিনগুলোতে কোনো অবস্থাতেই দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃস্টি করতে দেবে না সরকারের প্রশাসন ও সরকারি দলের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নির্বাচনের প্রচারের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে জেলা-উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারের কাজ শুরু হয়েছে। ১৪ দলের শরিক দলগুলো দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনের প্রচারের কাজ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনের কাজ করে যাচ্ছে। আমরা দেখবো-কারা মাঠে নামবে আর কে নামবে না। আগামী এক মাস আপনাদের কোনো কাজ নেই। ১৪ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় আপনারা সজাগ থাকবেন। কোনো চক্রান্ত নৈরাজ্য হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ আমরা প্রতিহত করবো।

আওয়ামী লীগের একাধিক সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে আগামী অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ঢাকার বাইরে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচি সফল করতে দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ব্যস্তসময় পার করছেন। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ থেকে ফিরেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে এবং জোটের শরীকদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করতে পারেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ও নবগঠিত যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়ার বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার পরই সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের আসন ভাগাভাগির বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে।

সরকারি দলের এ জোটের সাথে এবার আরও কিছু ইসলামী জোট যুক্ত হতে পারে। দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে আওয়ামী লীগের। তবে কে কত আসন পাবে তা নির্ভর করবে জোট সম্প্রসারণের পর।

দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের প্রতিটি কর্মসূচিতেই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে বলেছেন, এলাকায় গ্রহণযোগ্য জনপ্রিয়দেরকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। তিনি বলেছেন, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সকলের আমলনামাই দলের হাইকমান্ডের কাছে আছে। তিনিই বিবেচনা করবেন। কাকে মনোনয়ন দিবেন আর কাকে দিবেন না।

সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মো: আব্দুল হামিদ এডভোকেট দলের যোগ্যব্যক্তিদেরকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য বলেছেন। দলীয় সুত্রগুলো থেকে আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগের শরীক দলগুলোর প্রায় সকল দলই তাদের দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জোটের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের মাঠ জরিপে ১৪ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা তলানিতে। দাবিকৃত এসব নেতাদের জোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে জয়লাভ অনেকটা অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাড়াবে। তাই একাদশ নির্বাচনের মনোনয়ন জোট থেকে যিনি পাবেন তাকে জয় নিশ্চিত করেই মনোনয়ন দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন দলের একাধিক নীতিনির্ধারকরা।

এদিকে প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে কাউকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দিবে না পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য প্রশাসন। জানা গেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে আগামী ৩ মাস দেশে সর্বোচ্চ নিরাপওার বলয়ে থাকবে দেশ।

সূত্র জানায়, সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য আসছে বিরোধী জোটের সরকার বিরোধী আন্দোলনের সাথে সরকার বিরোধী বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনগুলো যোগ দিতে পারে। সরকারের কাছে বিরোধী জোটের বিভিন্ন দাবি আদায়ের নামে দেশে সহিংস পরিস্থিতি করার চেষ্টা করাও হতে পারে। এর মধ্যে কেউ কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারেরও চেষ্টা করতে পারে।

সূত্র জানায়, আগামী তিন মাস সরকার ও সরকারী দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি সরকার বিরোধী জোটের উপর কঠোর নজরদারি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত