প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাঠাও এর হেলমেটে মৃত্যুর ঝুঁকিতে যাত্রীরা, অনুমোদন নেই বিএসটিআইয়ের

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীতে অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল যাত্রী সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’। রাজধানীর বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালক এখন নিজেদের গন্তব্যে যাওয়ার পথে রাইড শেয়ার করেন। আবার পাঠাও সার্ভিসকে অনেকেই পেশা হিসেবেও গ্রহণ করেছেন। অন্য চাকরিতে না গিয়ে অনেকেই পূর্ণকালীন পাঠাও চালক হিসেবে কাজ করছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়ালে পাঠাও ব্যবহারের পরিমাণ যে অনেক বেড়েছে সেটা সহজেই বোঝা যায়।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকেও শক্ত অবস্থান নেয়া হয়েছে। হেলমেট ছাড়া বাইকার ও যাত্রী থাকলে মামলা দিচ্ছে পুলিশ। ডিএমপি কমিশনার ঘোষণা দিয়েছেন হেলমেট ছাড়া কোন বাইকার তেল পাবে না।

এসব কারণে বাইকের চালক ও যাত্রীদের মধ্যে হেলমেট ব্যবহার বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে পাঠাও কর্তৃপক্ষ তাদের রাইডার ও গ্রাহকদের জন্যও হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। কিন্তু হেলমেট ব্যবহার বাড়লেও যাত্রী চালককে নিরাপত্তা দিতে পারবে এমন হেলমেট ব্যবহার কী বেড়েছে সেটাই জানার চেষ্টা করা হয়েছে বিডিমর্নিং এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় রাজধানীর মতিঝিলে ট্রাকচাপায় রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী নিহত হন। নিহতরা হলেন- পাঠাও চালক রিপন সিকদার (৩১) ও রাইড সেবা গ্রাহক নবাবপুরের ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যবসায়ী আরোহী জানে আলম গাজী (৩০)।

সেসময় মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, মোটরসাইকেলটির সামনে থেকে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’ লেখা হেলমেট পাওয়া গিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে যে মোটরসাইকেলটি পাঠাওয়ে চলতো।

সে সময় তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের কারণ অনুসন্ধানে যোগাযোগ করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

হাসপাতালের দেয়া তথ্যমতে, আলম গাজীর মৃত্যু হয়েছিল মাথায় গুরুতর আঘাতে। অথচ বাইকে আসার সময় আরোহীর মাথায় ছিল পাঠাও এর হেলমেট।

গবেষকরা বলছেন, অধিকাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে যাত্রী-চালক মারা যায়। মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহার করলে হতাহতের সংখ্যা ৪০ শতাংশ কমে যায়। আর মারাত্মক আহত হওয়া থেকে ৪০/৪৫ শতাংশ কমে যায়।

তাহলে বুঝা যাচ্ছে হেলমেট একজন যাত্রী বা চালকের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই ক্ষেত্রে নামকাওয়াস্তে হেলমেট ব্যবহার করা হলে যাত্রী-চালকদের কোন নিরাপত্তা দিতে পারবে না সেটা সহজেই অনুমেয়।

জন-নিরাপত্তার বিষয় থাকায় ২০১৮-২১ মেয়াদের আমদানি নীতিতে বন্দরে বাধ্যতামূলক মান পরীক্ষার পণ্য ৭৯টির একটি হেলমেট। এছাড়া বিএসটিআই এর বাধ্যতামূলক মান পরীক্ষার তালিকায় ১২০ নম্বর পণ্য হিসেবে রাখা হয় মোটরসাইকেল ও স্কুটারের চালক ও আরোহীর হেলমেট।

কিন্তু পণ্য ও সেবার গুণগতমান ও পরিমাপ নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) এর মান পরীক্ষা ছাড়াই শুধুমাত্র চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ২৭ হাজার হেলমেট মার্কেটে বিতরণ করবে পাঠাও।

ফলে প্রশ্ন উঠে তাহলে পাঠাও তার যাত্রীদের জন্য যে হেলমেট দিচ্ছে সেটা কতটুকু যাত্রীকে নিরাপত্তা দিতে পারবে। মাথার আঘাত পেয়ে আলম গাজীর মৃত্যুর কারণে সেই প্রশ্নটা নতুন করে সামনে আসছে। প্রশ্ন উঠে তাহলে কেমন হেলমেট দেওয়া হচ্ছে পাঠাও এর পক্ষ থেকে?

কোন পণ্য বাজারজাতকরণের আগে যে কাজটি সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন(বিএসটিআই)এর অনুমোদন। পণ্যটি গুণগত মানসম্পন্ন বা ভোক্তার জন্য উপযোগী কিনা তার লাইসেন্সও দেয় বিএসটিআই।

পাঠাও এর দেয়া হেলমেট বিএসটিআই পরীক্ষিত কী না সে বিষয়ে কথা বলতে যাওয়া হয় বিএসটিআইয়ের ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারে। সহকারী পরিচালক কে.এম হানিফের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি পাঠাও হেলমেট নিয়ে কোন কথা না বলে পাঠিয়ে দিলেন সহকারী পরিচালন (সিএম) এস.এম.আবু সাঈদের কাছে। কিন্তু ৩৫ মিনিট অপেক্ষা করেও এ বিষয়ে তিনিও কোন কথা না বলে পাঠিয়ে দিলেন উপ-পরিচালক(সিএম) ইঞ্জি.মোঃ গোলাম বাকীর কাছে।

নিরাপত্তা দিতে পারে এমন একটি আদর্শ হেলমেট আসলে কেমন হওয়া উচিত? ইঞ্জি. মোঃ গোলাম বাকীর কাছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা না বলে পাঠিয়ে দিলেন পরিচালক (সিএম) প্রকৌঃ এস, এম, ইসহাক আলীর কাছে। কিন্তু পরিচালক (সিএম) প্রকৌশলী এস,এম,ইসহাক আলী কাছে গেলে তিনি বিডিমর্নিং এর সাংবাদিকের সাথে দেখা করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসটিআইয়ের হেলমেট পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট ল্যাবের এক ল্যাব সহকারী বিডিমর্নিংকে জানান, ‘এখন পর্যন্ত রাইড শেয়ারিং কোম্পানি পাঠাও এর কোনো হেলমেট তার কাছে মান পরীক্ষার জন্য আসেনি।’

নিশ্চিত হবার জন্য ওই সহকারীকে পাঠাও এর হেলমেট দেখিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেন, আগেই তো বলেছি আমার কাছে কোনো হেলমেট আসে নাই মান যাচাই এর জন্য।

বিএসটিআইতে পাঠাও এর কোনো হেলমেট এসেছে কিনা তা শতভাগ নিশ্চিত হবার জন্য আবারো তাকে অনুরোধ করা হয়, একটু যদি খবর নিয়ে দেখতেন অন্য কোথাও এসেছে কিনা?

এবার তিনি একটু রাগান্বিত হয়ে বলেন, আরে ভাই আমার ল্যাব ছাড়া অন্য কোনো পরীক্ষাগারে কোনো হেলমেট পরীক্ষা হবে না। আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত হয়েই বলছি পাঠাও এর কোনো হেলমেট আসে নাই আমাদের কাছে মান যাচাই এর জন্য। এর অর্থ শতভাগ নিশ্চিত যে পাঠাও এর কোন হেলমেট বিএসটিআই দ্বারা পরীক্ষা করা হয়নি।

এবার বিডিমর্নিং এ বিষয়ে কথা বলার জন্য যায় পাঠাও এর গুলশান ২ এর ৪৯ নম্বর রোডের ৩/এ রোডের অফিসে। সেখানে পাঠাও এর হেড অফ রাইডার একুইজিশন রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে কথা না বলে পাঠিয়ে দেন মার্কেটিং বিভাগের নাফিসা নাজ আদিতির কাছে।

তবে নাফিসা নাজ আদিতি হেলমেট বিষয়ে কথা বলতে রাজি হলেন না। শুধু জানালেন, রোজার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হেলমেট মার্কেটে ছেড়েছে পাঠাও। নাফিজার সাথে কথা শেষে কথা হয় মার্কেটিং টিমের অন্য একজন সদস্য নুসরাতের সাথে। তিনি বিডিমর্নিংকে নিশ্চিত করলেন পাঠাও এর কোন হেলমেটই বিএসটিআই থেকে মান যাচাই করা হয়নি।

কিন্তু জন-নিরাপত্তার এমন বিষয়টি মাথায় রেখে একদিন পর বিডিমর্নিং এর মুখোমুখি হয় পাঠাও এর মার্কেটিং টিমের প্রধান সায়াদা নাবিলা মাহাবুবের। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় পাঠাও কেন ও কি কারণে হেলমেট দেওয়ার কাজ শুরু করলো?

জবাবে নাবিলা মাহাবুব বলেন, পাঠাও একটা স্টেআপ প্রতিষ্ঠান। আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের গ্রাহকদের সঠিক ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিতের জন্য কাজ করে আসছি। আর আমাদের প্রধান সেবা হচ্ছে মোটরবাইকের মাধ্যমে যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করা। আর আমরা দেখলাম এর জন্য প্রতিটি যাত্রীর হেলমেট নিশ্চিত করা প্রযোজন। আর সেই চিন্তা থেকেই হেলমেট দেওয়া শুরু করি।

হেলমেট বিতরণের বিষয়ে তিনি জানান, প্রথমবার ৭ হাজার হেলমেট দেওয়া হয়। ২য় বারে দেওয়া হয় আরও ১০ হাজার হেলমেট। আর নভেম্বরের আগে আরও ১০ হাজার হেলমেট বাইক চালকদের মাঝে বিররণ করা হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই ) তথ্যমতে, গত ১৫ বছরে সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ৮৮ শতাংশই কোন হেলমেট থাকে না।

কিন্তু পাঠাও তার যাত্রী ও চালকদের জন্য শতভাগ হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। সে কারণে পাঠাও চালকদের মাঝে হেলমেট বিতরণ করছে।

কিন্তু বিএসটিআই পরীক্ষা ছাড়ায় এই হেলমেট কী যাত্রীদের সঠিক নিরাপত্তা দিতে পারছে? এমন প্রশ্ন করা হয় পাঠাও মার্কেটিং টিমের প্রধান নাবিলা মাহাবুবের কাছে।

তার কাছ থেকে হ্যাঁ সূচক উত্তর পাওয়ার পর আবারও প্রশ্ন করা হয় গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে দুর্ঘটনায় পাঠাও এর যাত্রী ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যবসায়ী আলম গাজী মিয়ার মৃত্যুর ঘটনাটিকে তিনি কীভাবে দেখছেন? সে সময় তো তিনি পাঠাও হেলমেট পড়ে ছিলেন।

জবাবে নিজেদের কাছে তথ্য প্রমাণ আছে দাবি করে তিনি জানান, সেই রাইডার পাঠাও এর অ্যাপ ব্যবহার করেননি।

তাঁর কাছে বিডিমর্নিং জানতে চায় আগামী নভেম্বরের মধ্যে যে ২৭ হাজার হেলমেট চালকদের মাঝে বিতরণ করা হবে সেগুলো বিএসটিআই থেকে মান পরীক্ষা করানো হয়েছে কী না?

বিএসটিআই থেকে মান পরীক্ষারে বিষয় শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লেন তিনি। পাঠাও এর মার্কেটিং টিমের প্রধান নাবিলা মাহাবুব অকপটেই জানালেন, এমন কোনো নিয়ম (বিএসটিআই থেকে মান পরীক্ষা) আছে বলে আমার জানা নেই।

সেময় তিনি উল্টো বিএসটিআই এর মান পরীক্ষার সরকারি নিয়মের বিষয়ে জানতে চান। এ সময় এই প্রতিবেদক তাঁকে মান পরীক্ষার বিষয় সম্পর্কিত ধারাগুলো দেখালে তিনি জানান, চায়না থেকে হেলমেট আনার সময় পাঠাও এর হেলমেটের মান পরীক্ষা করে নিয়ে আসা হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক মান সম্পূর্ণ পরীক্ষা।

নভেম্বর পর্যন্ত যে ২৭ হাজার হেলমেট বিতরণ করা হবে এগুলো বিএসটিআই এর মান পরীক্ষা ও অনুমোদন ছাড়ায় করা হবে বলে অকপটে স্বীকার করেন পাঠাও এর এই হেড অব মার্কেটিং।

তবে তিনি জানান, আগামীতে নতুন ডিজাইনের যে হেলমেট তারা নিয়ে আসবেন সেগুলোর ক্ষেত্রে বিএসটিআই এর মান পরীক্ষার বিষয়ে তারা কাজ করবেন।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে নাবিলা মাহাবুব বলেন, ‘আমাদের কাছে গল্প আছে পাঠাও রাইডের সময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হলেও আমাদের হেলমেট ভাঙ্গেনি এবং যাত্রীর মাথায় কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু যাত্রীর হাত ভেঙ্গে গিয়েছিল। তবে একই সময় তিনি এটাও স্বীকার করলেন যে, দুর্ঘটনার সময় দুই একটা হেলমেট ভাঙতেই পারে।’

ইউনাইটেড ন্যাশনস ইকোনমিক কমিশন ফর ইউরোপ (ইউএনইসিই) মোটরসাইকেলের হেলমেট সমীক্ষা শীর্ষক এক গবেষণার তথ্য বলছে, মান সম্পূর্ণ হেলমেট ব্যবহারে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ২০২০ সালের মধ্যে নিম্নমানের হেলমেট ব্যবহারের কারণে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ লাখ ৬৩ হাজার থেকে ২ লাখ ১৪ হাজারে। আর শুধুমাত্র সঠিক মানের হেলমেট ব্যবহার করেই বাঁচানো সম্ভব ৬৯ থেকে ৯০ হাজার আরোহীকে।

রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, মতিঝিল এলাকার একাধিক পাঠাও হেলমেট ব্যবহারকারী যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা হেলমেট ব্যবহার করেছেন যেন চালক কোন মামলা না খায় সে জন্য। এ সময় এক যাত্রী পাঠাও এর একটি ভাঙা হেলমেট দেখিয়ে নিজেই প্রশ্ন করে বললেন, এটা কত ভালো হতে পারে?

পাঠাও এর প্রথম লোটের হেলমেট নেওয়ার জন্য কথা হয় হেলমেট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইগনাইট বিডির সাথে।

সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তন্ময় বিডিমর্নিংকে বলেন, ‘পাঠাও যখন চালকদের মাঝে হেলমেট দেওয়ার কথা চিন্তা করে তখন আমাদের সাথে যোগাযোগ করে এবং দামের কোটেশন চায়। এসময় পাঠাও দাবি করে তাদের প্রতিটি হেলমেটের পিছনে লাইট দিয়ে পাঠাও শব্দটি লিখে দিতে হবে। কিন্তু নীতিগত দিক চিন্তা করে পরে আমাদের কাজটি করা হয়নি।

কেন কাজটি করা হয়নি এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা মান ঠিক রেখে হেলমেট আমদানি করি। আমি নিজে বাইক চালাই। আমি এ জন্য একটা নিম্নমানের হেলমেট দিতে পারি না।’

পাঠাও থেকে চালকদের দেয়া হেলমেটের বিষয়ে ইগনাইট বিডির এই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে এটুকু বলতে পারি বাইকের জন্য এটি(পাঠাও হেলমেট) আদর্শ হেলমেট না। সেফটির দিক বিবেচনা করলে এটি নিম্নমানের সর্বশেষ স্তরের বললেও ভুল হবে। কারণ এটিকে মোটরবাইকের হেলমেট বলা যায় না।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বুয়েটের) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এরআরআই) পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বিডিমর্নিংকে বলেন, ‘মোটরসাইকেল আরোহী এবং চালকদের মধ্যে যারা দুর্ঘটনায় মারা যায় তার ৮০ শতাংশ হেলমেট পড়া থাকে না। ভালো মানের হেলমেট দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া থেকে ৪০ শতাংশ যাত্রী-চালককে রক্ষা করে আর মারাত্মক আহত হওয়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।’

পাঠাও এর হেলমেটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন নামমাত্র হেলমেট ব্যবহার করলে কিন্তু হেলমেট ছাড়া যে ঝুঁকি থাকে সেই ঝুঁকিই থেকে যাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে পুলিশকে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সাথে যারা এই অ্যাপসভিত্তিক সার্ভিস পরিচালনা করেন তাদেরও যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

মানহীন হেলমেট নিয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অফিসিয়ালি কেউ কথা না বললেও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান বিডিমর্নিংকে বলেন, ‘বাঙালি আগে হেলমেট ব্যবহার করতে শিখুক পরে মানের বিষয়টি দেখা যাবে।’

বিএসটিআই এর নীতিমালা সর্ম্পকে জানানো হলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নীতিমালাতে কী আছে আমরা বিষয়টি দেখবি।’

এ বিষয়ে কথা হয় ট্রাফিক তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ আদিবুল ইসলামের সাথে। তিনি বিডিমর্নিংকে বলেন, ‘আসলে আমার বিষয়টি বিস্তারিত জানা নেই। তবে আমরা কিছু দিনের মধ্যেই হেলমেটের মান যাচাইরের কাজটি শুরু করবো।’ -বিডি মর্নিং

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত