প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটে জোটে ইসলামী দল

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকলেও প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই কেউই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিক তরিকত ফেডারেশন ছাড়া সবকটি ইসলামী দল ভোট বর্জন করে। তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ সাংগঠনিক তৎপরতায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। বড় দুই জোটে থাকা ইসলামী দলগুলো আসন ভাগাভাগির হিসাব কষছে। এর বাইরে থাকা কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল পৃথক মোর্চা গঠনের চেষ্টা করছে। ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে সমঝোতা করতে চায় মোর্চার উদ্যোক্তা ছাড়া আরও অন্তত তিনটি দল। তাদের লক্ষ্য, আগামী নির্বাচনে জোটের মনোনয়ন। জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন হারানোয় নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ইসলামপন্থি দলের সংখ্যা এখন ১২টি।

যুক্তফ্রন্ট নিয়ে চিন্তায় জামায়াত : জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সঙ্গে জোট করে ভোট করলে এবার তাদের চাওয়া ৫৫টি আসন। সম্প্রতি গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোটে জামায়াতকে বাদ দিয়ে বিএনপি গেলে তারা এককভাবে ভোটে অংশ নেবে। যুক্তফ্রন্টের দাবি, জামায়াত ছেড়ে বিএনপিকে আসতে হবে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় জামায়াত। ২০১৩ সালে হাই কোর্টের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। আপিলে নিবন্ধন ফিরে না পেলে আগামী নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ে অংশ নিতে পারবে না দলটি। তার পরও ভোটের প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই তারা। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জামায়াত মনোনীতরা। আগামী নির্বাচনে একই পথে হাঁটতে পারে দলটি। জানতে চাইলে দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের আন্দোলনে রয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের ঐক্য দীর্ঘদিনের। আশা করি আগামী নির্বাচনেও এ ঐক্য বজায় থাকবে। আমাদের আগামী নির্বাচনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।’

এককভাবে ভোটে যাবে ইসলামী আন্দোলন : জামায়াতের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মভিত্তিক দল হিসেবে পরিচিত চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কোনো জোটে না থাকলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে দলটি। আগামীতে এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। স্থানীয় নির্বাচনে বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটে চমক দেখিয়েছে এ দল। জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তারা কোনো জোটে যাবেন না। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন। ইতিমধ্যে ৩০০ আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এরশাদের সঙ্গে সমঝোতা করে ভোট বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা আরেকটি বড় ইসলামী দল খেলাফত মজলিস। সম্প্রতি দলটি এইচ এম এরশাদের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করেছে। জানতে চাইলে দলের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘আমরা জাতীয় পার্টির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করেছি। ইতিমধ্যে ৬০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি। এরশাদ যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেন সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেই করবেন বলে আশা করি।’

মোর্চা গঠন করতে চায় ইসলামী ঐক্য জোট : বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ার পর একটি পৃথক মোর্চা গঠনের চেষ্টা করছে ইসলামী ঐক্য জোট। সংগঠনটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। ইসলামী ঐক্য জোটের নেতারা হেফাজতে ইসলামের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। জানতে চাইলে দলটির মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা সমমনা দলগুলো নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গঠনের চেষ্টা করছি। আমরা চাই, ইসলামী দলগুলো একত্রিত হয়ে আগামীতে তাদের শক্তির জানান দিক। জোট গঠনে সম্মত না হলে আমাদের একক নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে।’ হেফাজতে ইসলাম আগামীতে নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা— জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি হেফাজতের যুগ্মমহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছি। এটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এর কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই।’

আওয়ামী লীগ থেকে ভোট করবে তরিকত : ১৪-দলীয় জোটের শরিক একমাত্র ইসলামী দল তরিকত ফেডারেশন আগামীতেও আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তরিকতকে ২টি আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। ২টি আসনে জয়ী এ দলটির সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়াল এমপি জানিয়েছেন, এবার তাদের লক্ষ্য ১০টি আসন। এগুলোয় তারা মহাজোটের মনোনয়ন চান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করতে ইতিমধ্যে তিনি ১৫টি অনিবন্ধিত ইসলামী সংগঠন নিয়ে একটি প্ল্যাটফরম তৈরি করেছেন।

৯টি আসন চায় ইসলামী ফ্রন্ট : জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ইসলামী ফ্রন্ট ৯টি আসন চায়। আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট না করে সম্মিলিত জোটের হয়ে ভোট করলে ৭৩টি আসন চাইবে। এ দলটি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত। এ ছাড়া ইসলামপন্থি দল জাকের পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও মুসলিম লীগের একটি অংশও কোনো জোটে নেই। এর নেতৃত্বে রয়েছেন ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। মাওলানা মুহম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকেই অংশ নেবে। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের জানিয়েছেন, তারা তালিকা দেবেন বিএনপিকে। অন্তত ৫টি আসনে জয়ী হওয়া তাদের লক্ষ্য। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সম্প্রতি ভেঙে গেছে। দুই অংশই বিএনপির শরিক। শায়খ আবদুল মোবিনের নেতৃত্বাধীন অংশ জোটের কাছে অন্তত ৫টি আসন চায়। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত