প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নাশকতার নতুন ছক শিবিরের

ডেস্ক রিপোর্ট : আসন্ন নির্বাচনকালীন সরকার ও পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে নতুন ছক কষেছে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এ সময় দেশব্যাপী নাশকতামূলক ধ্বংসাত্মক কাজ করতে এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় একাধিক বৈঠক করেছে তারা। বিভিন্ন গোপন আস্তানায় তারা বোমা তৈরির মতো বিস্ম্ফোরকও মজুদ করেছে। শিবিরের গ্রেফতার ছয় নেতাকর্মীর নামে ওয়ারী থানার একটি মামলার এজাহারে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার শিবিরের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছে- ছাত্রশিবিরের ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি মো. শাফিউল আলম, শিবির সাথী আবুল হায়াত, মনিরুল আলম, শিবির কর্মী শফিউল্লাহ, মোশারফ হোসেন মায়াজ ও মুহাম্মদ মোশাররফ খান।

মামলার বাদী ডিবির এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকে ১৫০ কেজি বোমা তৈরির মতো মজুদ বিস্ম্ফোরক পাওয়া গেছে। পুলিশ শিবির সদস্যদের চাঁদা তোলার রেজিস্টারও জব্দ করেছে, যার ওপর লেখা ‘বায়তুল মাল’।

পুলিশ জানাচ্ছে, ওয়ারী থানার ২২ নম্বর লেনের ছয়তলা বাড়ির একটি মেসে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিবিরের কর্মীরা একত্রিত হতো। সেখানে তারা নির্বাচনকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য বিভিন্ন সময় বৈঠক করে নানা পরিকল্পনা করেছে। সর্বশেষ চলতি মাসেও ওয়ারীর এ বাসায় গোপন বৈঠক হয়। এ বৈঠকে শিবিরের ৩৩ জন নেতা উপস্থিত ছিল বলে জানাচ্ছেন গোয়েন্দারা। তাদের মধ্যে রয়েছে- ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত, সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক খালেদ মাহমুদ, প্রকাশনা সম্পাদক রাজিফুল হাসান বাপ্পী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কাজী মাসুম সরকার, উত্তরের সভাপতি জামিল আহম্মেদ, পূর্বের সভাপতি সোহেল রানা মিঠু, পশ্চিমের সভাপতি আবদুল আলীম, ঢাকার শিবির নেতা মারুফ বিল্লাহ ও সৈয়দ ওমর ফারুক, চাঁদপুরের সাব্বির আহম্মেদ, ভোলার আবী আবদুল্লাহ, নোয়াখালীর আফনান রহমান, ইয়াছিন আরাফাত, মতিউর রহমান ও আবদুল্লাহ আলম মাসুম, নেত্রকোনার জাকির হোসেন, কুমিল্লার আবদুল্লাহ আল মামুন ও তানভীর হোসেন, লক্ষ্মীপুরের আবদুর রব ও নূরুল আফসার, ঝালকাঠির শাওন তালুকদার, সুনামগঞ্জের মো. আহসান উল্লাহ, শরীয়তপুরের নূরে আলম, ঠাকুরগাঁওয়ের আবদুল মতিন, সাতক্ষীরার শাহরিয়ার ইসলাম, বরগুনার ফুয়াদ আবদুল্লা এবং নরসিংদীর খোরশেদ আলম, আরিফ রব্বানী, রাকিবুল হাসান, কামরুল ইসলাম ও আনিসুর রহমান। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করতে বিস্ম্ফোরক নিজেদের হেফাজতে রেখে ১৯০৮ সালের বিস্ম্ফোরক উপাদান আইনের ৪ (বি)/৬ ধারার অপরাধ করেছে।

পুলিশ জানায়, গোপন বৈঠক থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

এদিকে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনের স্বজনরা জানাচ্ছেন, ১২ সেপ্টেম্বর রাতে বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের তিনজনকে ও পরে যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগ এলাকার মেস থেকে আরও দু’জনকে তুলে নেওয়া হয়। তারা হলো- ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র শফিউল্লাহ, ঢাকা বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী শাফিউল আলম, তার ভাই মনিরুল আলম, চাকরিজীবী আবুল হায়াত ও যাত্রাবাড়ীর ডগাইর ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্র মোশারফ হোসাইন মায়াজ।

ঘটনার পর নিখোঁজ পাঁচজনের পরিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে তারা অভিযোগ করেন, এ ব্যাপারে বিমানবন্দর ও যাত্রাবাড়ী থানায় জিডি করতে গেলেও তা নেয়নি পুলিশ। দ্রুত ওই পাঁচজনকে খুঁজে পেতে তারা প্রশাসনের সহায়তা চান। তারা বলেন, অপরাধী হলে তাদের গ্রেফতার দেখানো হোক। বিচারের সুযোগ দেওয়া হোক।

শাফিউল ও মনিরুলের বড় ভাই রাফিউল আলম গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, এতদিন পর তাদের খোঁজ মিলেছে, এতে তারা খুশি। আদালতেই প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্যি কি-না। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত