প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিলংয়ে সালাহ উদ্দিনের রায় শুক্রবার, বিএনপি জানে না কিছু

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদের নামে মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে দায়ের করা মামলার রায় শুক্রবার। অপরাধ প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড হতে পারে তার।

কিন্তু বিদেশের মাটিতে দলের স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের ভাগ্য নির্ধাণের বিষয়টি খোদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জানেন না। জানেন না দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। সালাহ উদ্দিন আহমেদের মামলার রায়ের খবর নেই বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদকদের কাছে। দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকরাও জানেন না কিছু। বিএনপির দফতরও এ ব্যাপারে নীরব। দলটির প্রচার সেলেও আলোচনা নেই সালাহ উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে। তার এক সময়ের রাজনৈতিক সহকর্মীরা মিডিয়ায় প্রচারিত খবরটুকুই কেবল জানেন!

সালাহ উদ্দিন আহমেদের মামলার রায় শোনার জন্য ঢাকা থেকে শিলংয়ে পাঠানো হয়নি কোনো প্রতিনিধি দল। তার কোনো রাজনৈতিক সহকর্মীও সাহস যোগাতে বা সমবেদনা জানাতে শিলংয়ে যাননি। ফোন দিয়ে খবর পর্যন্ত নেননি কেউ— বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটিই জানা গেছে।

মামলার রায় শোনার জন্য ঢাকা থেকে কেউ শিলংয়ে গেছে কি না, জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমার জানা নেই। বিষয়টা আমি জানি না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’

২০১৫ সালের ১১ মে সালাহ উদ্দিন আহমেদের হদিস পাওয়ার পর ১৩ মে ঢাকা থেকে সবার আগে শিলংয়ে পৌঁছান বিএনপির সেই সময়ের সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি। তারপর থেকে তিনি সালাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আব্দুল লতিফ জনি বলেন, ‘সালাহ উদ্দিন আহমেদের হদিস পাওয়ার পর দায়বদ্ধতা থেকেই শিলংয়ে ছুটে গিয়েছিলাম। সে সময় দলে একটা পদও ছিল আমার। এখন দলে কোনো পদ নেই। একজন সমর্থক বা কর্মী হিসেবে দলে আছি। তারপরও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে সালাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। আমি চাই তিনি যেন সুবিচার পান।’

বিএনপির সাবেক এই দফতর সম্পাদক বলেন, ‘দলের দফতর আছে, প্রচার সেল আছে, দলীয় আইনজীবীরা আছেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদকরা আছেন। তারা সালাহ উদ্দিন আহমেদের জন্য কী ভূমিকা পালন করেছেন- বিষয়টি দৃশ্যমান হওয়া দরকার।’

সালাহ উদ্দিন আহমেদ যে কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন, সেই কমিটিরই যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন মো. শাহাজাহান। সালাহ উদ্দিন আহমেদের এক সময়ের রানিংমেট বর্তমান কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহাজাহান বলেন, ‘আমি মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি সালাহ উদ্দিন আহমেদের রায় শুক্রবার। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার খবর নিতে পারিনি।’

‘তবে বিএনপি’র উচিৎ ছিল স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে সালাহ উদ্দিন আহমেদের রায়ের সময় তার পাশে থাকা। বিএনপি পারত একটা প্রতিনিধিদল সেখানে পাঠাতে। দলের জন্যই তো আজ তার এই দুর্ভোগ’- বলেন মো. শাহাজাহান।

এদিন (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় সালাহ উদ্দিন আহমেদের। শিলং থেকে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার জাজমেন্ট। আশা করছি ন্যায় বিচার পাব। আমার জন্য দোয়া করবেন।’

শিলংয়ের বিচারিক হাকিম ডি জি খারশিংয়ের আদালত গত ১৩ আগস্ট শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন। পরে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক হয়— স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানান সালাহ উদ্দিন আহমেদের আইনজীবী এসপি মাহন্ত।

বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে ঢোকার অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় দায়ের করা এ মামলা চলছে গত তিন বছর ধরে। অবশ্য সালাহ উদ্দিনের আইনজীবী আদালতকে বলেছেন, তাকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। পরে চাকরি ছেড়ে কক্সবাজার থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে চার দলীয় জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এবং দফায় দফায় হরতালের মধ্যে সালাহ উদ্দিন আহমেদ আত্মগোপন থেকে নিখোঁজ হন।

সহিংস আন্দোলনের মধ্যে বিএনপি নেতারা একের পর এক গ্রেফতার ও আত্মগোপনে যাওয়ার পর অজ্ঞাত স্থান থেকে দলের মুখপাত্র হিসেবে বিবৃতি পাঠিয়ে কর্মসূচি দিচ্ছিলেন সালাহ উদ্দিন। এরই মধ্যে ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

ঢাকা থেকে অন্তর্ধান হওয়ার দুই মাস পর ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে হদিস মেলে সালাহ উদ্দিনের। কিন্তু ভ্রমণের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। কিছুদিন কারাগার ও হাসপাতালে কাটানোর পর স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় জামিনে মুক্তি পান সালাহ উদ্দিন আহমেদ। কিন্তু ভারত ছাড়ার অনুমতি পাননি তিনি। এমন পরিস্থিতিতে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ও কয়েকজন স্বজন নিয়ে শিলংয়ে থাকতে হয় তাকে।

২০১৬ সালে অসুস্থতার কারণে দিল্লি গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আসেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিতে চাইলেও তাতে শিলংয়ের আদালত অনুমতি দেননি।-সারাবাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত