প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সোর্স নিয়োগ করেও ডেমরায় মাদক ব্যবসায়ীদের পাচ্ছে না ডিএনসি!

সুজন কৈরী :  রাজধানীর ডেমরা এলাকায় একসময় মাদক ব্যবসায়ীদের আধিপত্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত অভিযানের ফলে অনেক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়। গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে অন্যসব মাদক ব্যবসায়ীরাও গা ঢাকা দিয়েছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ডেমরা এলাকায় চিহ্নিত যেসব মাদক ব্যবসায়ীর দাপটে এলাকাবাসী এতোদিন অতিষ্ঠ ছিল, গ্রেফতারের পর এলাকাবাসী তাদের ছবি সম্বলিত পোস্টার ছাপিয়ে সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান জানাচ্ছেন। পাশাপাশি করছেন মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ।

গত ১২ সেপ্টম্বর ডেমরা থেকে রুবেল ওরফে প্রকাশ ওরফে পেটকা রুবেল ও রাজু নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ হেরাইন ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে হানিফ নামের আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিএনসি ও ডেমরার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাজু ডিএনসির তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তবে রুবেল তালিকাভুক্ত না হলেও তিনি এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণের মূল হোতা। তার নেতৃত্বে এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি চক্র গড়ে ওঠে। চক্রে রুবেলের অন্তত ১০ থেকে ১২জন সদস্য রয়েছে। রাজু হচ্ছে তার অন্যতম সহযোগী।

স্থানীয়রা জানান, রুবেল নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে অস্ত্র ও ওয়াকিটকি বহন করতেন। মাদকের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে প্রাণনাশসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতেন। যার ফলে মাদক ব্যবসা হলেও প্রতিবাদ করতে পারতেন না স্থানীয়রা। রুবেল এলাকার ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে এবং তার দলে অন্তর্ভুক্ত করে। পরে তাদেরকে মাদকের বাহক হিসেবে কাজ কর তেন। রুবেল প্রায় ১২ বছর ধরে ডেমরা এলাকায় মাদক ব্যবসা করেন। এ দীর্ঘ সময় তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন ডেমরা এলাকার বাসিন্দারা। ফলে তাকে গ্রেফতারের পর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তারা রুবেল ও রাজুর ছবি সম্বলিত পোস্টার তৈরি করে এলাকায় বিতরণ করেছেন।

পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে ‘সে ডেমরা এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। তার গ্রেফতারের খবর শুনে এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বহু মামলা রয়েছে। আসুন এসব ঘৃনিত ব্যক্তি ও পেশাকে সামাজিকভাবে বয়কট করি’।

ডেমরা এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, রুবেল, রাজুসহ এলাকার অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে এলাকাবাসী তটস্থ ছিল। তাদের মধ্যে মাদকের মূল হোতা গ্রেফতার হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এলাকাবাসী পোস্টারিং করে সামাজিকভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

ডিএনসির অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, রুবেল ও রাজুর অন্য সহযোগীদের দেখা মাত্র আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে। তবে আইনের ফাঁক গলিয়ে বের হয়ে আবারো মাদক ব্যবসা করলে আমাদের সমাজব্যবস্থার জন্য তা হবে দুঃখজনক।

ডেমরা এলাকার বাউয়ানি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হবিবুর রহমান হাসু বলেন, এটি খুবই ভাল দিক যে, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের ফলে এলাকায় মাদকের আধিপত্য কমেছে। বর্তমানে এলাকায় মাদক কারবারী নেই বললেই চলে। অবস্থা এমন যে এলাকায় বিষ পাওয়া গেলেও মাদক পাওয়া যায় না।

ডিএনসির ডেমরা সার্কেলের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন ভুঁইয়া বলেন, রুবেল তালিকাভুক্ত না হলেও সে অন্তরালে থেকে ডেমরা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতো। সে মাদকের ডিলার ও সিন্ডিকেটের প্রধান। রাজু ও হানিফ তার সহযোগী। রুবেল টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহের পর বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করতো। রুবেল প্রায় সময়ই থাকতো আখাউড়ায়। সেখানে থেকেই সে ডেমরা এলাকায় তার সহযোগীদের নির্বিঘ্নে ব্যবসার নিশ্চয়তা দিতো। রুবেলসহ অন্যদের গ্রেফতারের জন্য তিন মাস ধরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ ১২ সেপ্টম্বর তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরপর ডিমরা স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে শুরু করে। এ থকে বুঝা যাচ্ছে যে, তাদের দাপটে একপ্রকার কোণঠাসা অবস্থার মধ্যে ছিল এলাকার লোকজন।

তিনি আরো বলেন, রুবেলের নিয়ন্ত্রণে ডেমরা বাজার,সারুলিয়া, কামারগোপ, স্টাফ কোয়ার্টার, বামৈল, হাজীনগর ও বড়ভাঙ্গা এলাকায় অন্তত ২০জন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের অন্তত দুইজন করে ‘পাইটু’ বা সেকেন্ডম্যান রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য ডিএনসির অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, রুবেলসহ অন্যাদের গ্রেফতারের পর বর্তমানে ডেমরা এলাকায় মাদক দুস্প্রাপ্য ও দূর্মূল্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সোর্স নিয়োগ করেও মাদক ব্যবসায়ীদের পাচ্ছি না।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের দক্ষিণ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম বলেন, রুবেলকে গ্রেফতারের পর ডেমরা এলাকার বাসীন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তারা এলাকায় সমাজ থেকে মাদক বয়কটের আহ্বান জানিয়ে পোস্টারিং করেছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত