প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চায়ের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা

মাসুদ মিয়া : প্রতিদিন চায়ের কাপে চুমুক না দিলে চলেই না, তাদের জন্য এখন চা পাতা কিনতে গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। গত এক সপ্তাহে খুচরা বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চায়ের দাম কেজিতে অন্তত ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক চায়ের নিলামে দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। চায়ের দাম বেড়েছে। প্রতি ৪০০ গ্রামের চায়ের প্যাকেটে বেশি দাম দিতে হবে প্রায় ৩০ টাকা। পাশাপাশি প্রতি কেজি চায়ের দাম ব্র্যান্ডভেদে বাড়তি দিতে হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা।

খুচরা চা বিক্রেতারা জানান, সম্প্রতি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চায়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে বাজারে বেশি প্রচলিত চায়ের দাম কেজিতে নির্ধারণ করা হয় ৩৮০-৩৯০ টাকা। এ ছাড়া ফুটপাতের চা বিক্রেতারা যে চা বেশি কেনেন, সেটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি ৪০০ গ্রাম ১৮০ টাকা দরে। যা আগের চেয়ে ২০ টাকা বেশি।

চা ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি বছর চায়ের নিলামে দাম অনেক বেশি। এ কারণে খুচরা বাজারে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। অবশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে চায়ের দাম বাড়েনি। দেশে উৎপাদন কিছুটা কম হওয়ায় বাড়তি দাম দিয়ে চা কিনে রাখছে বড় কোম্পানিগুলো। তবে চা দোকানদাররা এখনো দাম বাড়াননি। ফুটপাতে প্রতি কাপ চা ৫ থেকে ৬ টাকা দরে বিক্রি হয়। জানতে চাইলে ফার্মগেট এক ফুটপাতের চা বিক্রেতা বলেন, চায়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের খরচ বেড়েছে।

পিররবাগ এলাকার চা বিক্রেতা কামাল হোসেন জানান, সিলন, ইস্পাহানিসহ বিভিন্ন কোম্পানির পাতা ব্যবহার করেন তিনি। কোম্পানির বিপণন বিভাগের পক্ষ থেকেই তার দোকানে চায়ের প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হয়। চায়ের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “দুই সপ্তাহ আগেও এসব কোম্পানির এক কেজির প্যাকেট ২৯০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত। গত সপ্তাহে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা করে দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। এখন লাগছে ৩৫০ টাকা।

মহাখালীর মুদি দোকান শফি স্টোরে ১৫ দিন আগের চালানে আসা ইস্পাহানির আধা কেজি ওজনের প্যাকেটের গায়ে ১৭৫ টাকা দাম লেখা দেখা যায়। পাশের আরেক দোকানে স¤প্রতি আনা তাজা ব্র্যান্ডের চারশ গ্রামের প্যাকেটে দাম লেখা দেখা যায় ২০০ টাকা।

অন্যান্য ব্র্যান্ডের আধা কেজির প্যাকেটও ২০০ টাকা এবং এক কেজির প্যাকেটের দাম ৪০০ টাকা পর্যনমশ হয়ে গেছে বলে দোকানিরা জানালেন।
চায়ের দাম হঠাৎ বাড়ার কারণ জানতে চাইলে ন্যাশনাল টি কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছরে চায়ের উৎপাদন কমে যাওয়ায় অকশনে দাম অনেক বেড়ে গেছে। ছয়মাস আগেও নিলামে চায়ের দাম কেজিতে গড়ে আড়াইশ টাকা ছিল। এখন সেই দাম উঠেছে তিনশ টাকায়। ফলে কোম্পানিগুলো দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। বাংলাদেশ চা বোর্ডের হিসাবে দেশে নিবন্ধিত চা বাগানের সংখ্যা ১৬৪টি। এসব বাগানে ২০১৭ সালে সাত কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়। তার আগের বছর উৎপাদন ছিল প্রায় সাড়ে ৮ কোটি কেজি। চলতি বছরের অগাস্ট পর্যন্ত আট মাসে প্রায় চার কোটি ২৮ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এ বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের প্রকৃত উৎপাদনের চেয়ে কম ধরা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত