প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় নির্মাণ হচ্ছে অবৈধ ইটভাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি, বন, অভয়ারণ্য, বাগান ও জলাভূমি এলাকায় ইটভাটা স্থাপন দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর (ওতুমের চর) প্রতাপঝগড়ি গ্রামে ইটভাটা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে একটি কুচক্রি মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর (ওতুমের চর) ও প্রতাপঝগড়ি গ্রামটি ব্রহ্মপুত্র নদের পাশে অবস্থিত। এই গ্রামের প্রায় ১১ বিঘা জমির উপর ইটভাটা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন অবৈধ ভাটাটির মালিক মো: মোতলেব খান। এলাকাবাসীর অভিযোগ অবৈধ ভাটাটি নির্মাণে আরো জমি দখল করে গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা।

সূত্র বলছে, ভাটাটির মালিক মো: মোতলেব খান শ্যামপুর ইউনিয়নের একজন ব্যবসায়ী। পরিবেশ অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিনি এই ইটভাটাটি গড়ে তুলছেন। মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর (ওতুমের চর) প্রতাপঝগড়ি গ্রাম ঘেষে ব্রহ্মপুত্র নদ অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে ভাটাটির মালিক মো: মোতলেব খান নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

এ প্রসঙ্গে মো: সুলতান নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নয়ানগর (ওতুমের চর) ও প্রতাপঝগড়ি গ্রামের পূর্ব পাশেই  ব্রহ্মপুত্র নদ অবস্থিত। আমাদের গ্রাম ঘেষে নদের পাড়টি অবস্থান করায় বিশুদ্ধ বাতাস সব সময় প্রবাহমান থাকে। গ্রামের চারপাশে সুজলা-সুফলা ফসলের মাঠ। এখানকার জমি খুবই উর্বর। কমপক্ষে এখানে ধান, পাট, রবি শস্য এ ৩ টি ফসল উৎপন্ন হয়। ব্যাপক ইক্ষুর চাষ হয়।

মো: সুলতান অভিযোগের সুরে বলেন, এই ইটের ভাটাটি কমপক্ষে ৪০ বিঘা জমির ফসল নষ্ট করবে। আমাদের প্রায় ২৩ বিঘা জমির বর্গা চাষীরা তাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে না খেয়ে মারবে।

স্থানীয়রা জানান, উতুমের চর/প্রতাপ ঝগরী/নয়ানগর গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের বাস। স্থানটি কোনোভাবেই ইটভাটা স্থাপনের জন্য উপযুক্ত নয়। ইট পোড়ানোর ফলে এই এলাকার জনস্বাস্থ্য যেমন হুমকির মুখে পড়বে, তেমনি আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, একবার ইট পোড়াতে প্রায় চার হাজার মণ কাঠ পোড়াতে হয়। এসব কাঠ জোগাড় হচ্ছে আশপাশের সংরক্ষিত বন থেকেই। ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে গাছপালা। কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বাড়ছে। পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় অনুমোদনহীন অবৈধ এমন একটি ইটভাটা গড়ে উঠলেও তা নিয়ে কারও যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।

শুধু জামালপুরে নয়, সারা দেশেই এভাবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে লোকালয় ও ফসলি জমিতে অনেক ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এসব অবৈধ ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। একটা সময় এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। পরিবেশদূষণ করে ও জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে যারা এভাবে ইটভাটা গড়ে তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি চায় ভুক্তভোগীরা। পরিবেশ আইন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন আরও কঠোর করা ও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত