প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

`বিজ্ঞানমনষ্ক শেখ হাসিনা হাল নিয়ে আগে থাকেন, বিজ্ঞানী ও আমরা চলি তাঁর পিছে পিছে’

মতিনুজ্জামান মিটু: কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, কথায় আছে ‘আগের হাল যেদিকে যায় পিছনের হাল সেদিকে যায়’। বিজ্ঞানমনষ্ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাল নিয়ে আগে থাকেন, বিজ্ঞানী ও আমরা চলি তাঁর পিছে পিছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কেআইবি কনভেনশন হলে বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, বড় বড় বিজ্ঞানি কিংবা অর্থ-সম্পদ থাকলেও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও সঠিক নির্দেশনা না থাকলে দেশ এগুতে পারে না। শেখ হাসিনার সরকার কৃষিতে বিভিন্ন সময় ভর্তুকি ও কৃষি উপকরণ কৃষকের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ায় চাল উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসংম্পূর্ণ। কৃষিতে বিশ্বের কাছে আমরা একটি প্রশংসার জায়গায় পৌঁছে গেছি। আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে দেশের কৃষিবিদরা।

তিনি বলেন, আউশ ধানের আবাদকে সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। আউশ মৌসুমে পানির সহজলভ্যতা থাকে। এ সময় ফটোপিরিয়ড বেশি পাওয়া যায়। তাই অল্প খরচে বেশি পরিমানে আউশ ধান উৎপাদন সম্ভব। এই সঙ্গে আমন ও বোরো উৎপাদনকে এগিয়ে নিতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে হবে। আমাদের দেশে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। বরেন্দ্র এলাকায় যখন নির্বিচারে ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয়েছিলো তখন কেউ প্রতিবাদ করেনি। ফলে এখন পানির স্তর ধীরে ধীরে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সেজন্য ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর জোর তাগিদও দেন তিনি।
এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, হাইব্রিড নিয়ে দেশের এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ সমালোচনা করে আসছিলো। কিন্তু আমরা হাইব্রিডের কারণে অসময়ে লাউ, শিম, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি খেতে পারছি। পানিপড়া আর ফু দিয়ে হবেনা। বিজ্ঞানকে বিজ্ঞান দিয়ে কন্ট্রাডিক্ট করতে হয়। কাব্য দিয়ে কন্ট্রাডিক্ট করা যায়না।
কৃষির যান্ত্রিকতার ভতুর্কি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যান্ত্রিকতায় ৫০ থেকে ৭০ ভাগ ভতুর্কি দেয়া হচ্ছে। বিনা পয়সায় দেয়া যায়না। কথা আছে সরকারকা মাল দরিয়ামে ঢাল। বিনা পয়সায় দিলে তাই হবে। ওই যে সস্তা স্লোগান, ‘দিতে হবে, দিতে হবে’। বিনা পয়সায় দিতে হবে। তা হবেনা।

জাতীয় এমিরিটাস সাইন্টিস্ট কাজী এম বদরুদ্দোজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আলী আকবর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচারের সহ-সভাপতি আনওয়ারুল কাদের শেখ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচারের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. আমিনউদ্দিন মৃধা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কোষাধ্যক্ষ এম. এনামুল হকসহ কৃষির বিভিন্ন পর্যায়ের পদস্থ কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. আবুল কালাম আযাদ, শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো ভিসি মো. সাহিদুর রশিদ ভূঁইয়া, প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেম প্রমুখ।

কৃষিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ১১টি কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ৭ জন প্রথিতযশা বিজ্ঞানী ও ৭জন কৃষককে স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ক্রেস্ট অব মেরিট দেয়া হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত