প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে চিন্তা, বলা এবং লেখার স্বাধীনতা দিন’

ফেসবুক স্ট্যাটাস: বাস চাপায় হত্যার শাস্তি ৩-৫ বছর আর নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে লেখার শাস্তি হতে পারে ১৪ বছর। কথায় আছে “the pen is mightier than the sword”! আমাদের সরকার বুঝতে পেরেছে যে তরবারির আঘাত অপেক্ষা লেখার আঘাত অনেক শক্তিশালী। এটাও কম কথা না!!!

ভালো সৃজনশীল মানুষ হতে হলে চিন্তার স্বাধীনতা অবারিত হতে হবে। সেই অবারিত স্বাধীনতা থাকলেই সকলে সৃজনশীল জ্ঞানী মানুষ হবে না। কেউ কেউ হবে। আমাদের ব্রেইনের মেমরি ক্যাপাসিটি ধরা হয় ২.৫ পেটাবাইটস বা ২.৫ মিলিয়ন গিগাবাইট। ধারণা করা হয় যে কোন সময়ে মোট ব্রেইন ক্যাপাসিটির সর্বাধিক ১০% আমরা ব্যবহার করি। তাহলে কি বাকি ৯০% এর দরকার নেই। ওই ৯০% অতিরিক্ত আছে বলেই আমরা অন্য সকল প্রাণীর চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। অর্থাৎ ব্যবহার করি আর না করি সুস্থ এবং বড় চিন্তার জন্য এইরকম অবারিত খোলা মেমরি মাঠ খুবই প্রয়োজন।

ঠিক তেমনি লেখার সময় যদি ভাবতে কারো চেতনায় আঘাত লাগলো কিনা তাহলে আর ভালো লেখা সম্ভব না। আমি একসময় যখন লুঙ্গি পরতাম তখন লক্ষ করেছি হাঁটার সময় কেউ তাকিয়ে থাকলে লুঙ্গি প্যাচ লেগে যেত আর আমি হাটতে পারতাম না। আমি নিশ্চিত এই অভিজ্ঞতা সবার হয়েছে যে, চলাফেরার সময় যদি মনে হয় কেউ লক্ষ করছে এতে আমাদের স্বাধীনতার খর্ব হয়। বিদেশি ভাষা যেমন ইংরেজিতে কথা বলার সময় যদি মনে হয় কেউ আমার ভুল ধরার জন্য দাঁড়িয়ে আছে তখন আর ভালো ইংরেজি বলা সম্ভব না। কারণ এতে কনফিডেন্স এবং স্বাধীনতা খর্ব হয়।

এই স্বাধীনতা কি কেবল আমরাই বুঝি? ব্রেইনলেস ইলেক্ট্রনও বুঝে। ইলেক্ট্রনকে কোন বক্সে রেখে বক্সের দেয়ালগুলোকে যদি squeeze করে ছোট করতে থাকি তখন এই ইলেক্ট্রনের ছোটাছোটি কিভাবে বাড়ে। কারণ বক্সের ক্ষেত্রফল ছোট করতে থাকা মানে ইলেক্ট্রনের চলাচলের স্বাধীনতার খর্ব করা সে তখন ওখান থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ছোটাছোটি করে। এটাকেই Heisenberg’s uncertainty principle বলে।

ধরে নেওয়া হয় বর্তমান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন স্বৈরাচার এবং একটা বলদ। তারপরও তার দেশের মানুষজন খোদ টেলিভিশনে যেইভাবে মজা করে আমরা যদি আমাদের দেশে ওগুলো বলি তাহলে আমি নিশ্চিত আমাদের রাষ্ট্রনায়করা আমাদের সাত হাত মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে। আমাদের সরকার যদি দেশপ্রেমিক হয়, যদি চায় দেশের মানুষ সৃজনশীল হউক তাহলে অতিসত্বর এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে চিন্তা, বলা এবং লেখার স্বাধীনতা দিন।

– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কামরুল হাসান মামুন এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া। 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত