প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এক দশকে মার্কিন সরকারের সুদের খরচ বাড়বে ৯০ হাজার কোটি ডলার

রাশিদ রিয়াজ: কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস বলছে, আগামী বছর মার্কিন সরকারকে ঋণের ওপর সুদ দিতে হবে ৩৯ হাজার কোটি ডলার। যা গত বছরের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। কর ছাড়, সরকারের খরচ বৃদ্ধি ও সুদের হার বেশি হওয়ায় মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দা সামাল দিতে সামরিক, শিশু কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ চলে যাবে সুদের যোগান দিতে। আগামী এক দশকে এই সুদ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৯০ হাজার কোটি ডলার বা ৩ গুণ যা বর্তমানের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। নিউইয়র্ক টাইমস

ভার্জিনিয়ার ডেমোক্রেট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেন, ২ লাখ কোটি ডলার কর ছাড় দিয়ে সরকারের কর্জ বৃদ্ধি কখনো অর্থনীতিতে সুখকর হতে পারে না। ট্রাম্প প্রশাসনে বাজেট ঘাটতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে। আরবান ইনস্টিটিউটের ফেলো সি ইউজিন স্টুয়ার্ল বলেন, অর্থনীতিতে সবকিছু সংকুচিত হয়ে আসছে। গত দুই বছরে মার্কিন সরকারের ৩০ হাজার কোটি ডলার খরচ বৃদ্ধি আর্থিক খাতে প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। আগামী বছরে প্রথমবারের মত ঘাটতি দাঁড়াবে ১ লাখ কোটি ডলার।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ জেফরি ফ্রাঙ্কেল মনে করেন মার্কিন অর্থনীতিতে এখন ১৯৩০ অথবা ২০০৮-৯ সালের মত যুদ্ধকালীন বা মন্দা পরিস্থিতির মত স্থবিরতা এসেছে। রাজস্ব আদায়ে ধীর গতি মার্কিন অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। কমিটি ফর এ রেসপন্সিবল ফেডারেল বাজেটের সিনিয়র পলিসি ডিরেক্টর মার্ক গোল্ডওয়েন বলেন, ২০২০ সালের মধ্যেই শিশু, শিক্ষা, খাদ্য সহায়তায় অর্থ খরচের চেয়ে বেশি অর্থের যোগান দিতে হবে সুদের পেছনে। ফলে মার্কিন সরকারের অবকাঠামো মেরামত বা বড় প্রকল্প নেয়ার সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এ কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন যে ১ লাখ কোটি ডলারের অবকাঠামো গড়ে তোলার কথা বলছে তা গ্রহণ করেনি কংগ্রেস। কারণ মার্কিন সরকারের ঋণ ইতিমধ্যে ১৬ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

কিন্তু অধিকাংশ মার্কিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু ডলার বিশ্বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনে অন্যতম বাহক বা ‘বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়, এ কারণে মার্কিন সরকার প্রচুর ঋণ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। একই সঙ্গে আশঙ্কাজনক পরিণতির কথা না ভেবেই অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ে ইচ্ছেমত ডলার ছাপাতেও পারে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যে কোনো মন্দায় মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা আকর্ষণীয়ভাবে বিনিয়োগ করে। ফলে যে কোনো মার্কিন সরকার ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে পিছপা হয় না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত