প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দরকার নেই: তাসলিমা সুলতানা

অপু খান: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, স্বাধীনভাবে কথা বলার যদি সুযোগই না থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় নামক প্রতিষ্ঠান থাকার কোন দরকার নেই। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের প্রেক্ষিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তাসলিমা সুলতানা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হল এমন একটি প্রতিষ্ঠান য়েখানে আমরা স্বাধীন জ্ঞানচর্চা করতে পারবো, য়েখানে রাষ্ট্র বা সরকারকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার সুযোগ আছে, য়েখানে আমরা শিক্ষার্থীদের ক্রিটিকালি দেখার চোখ তৈরি করার কাজ করি। এভাবে শিক্ষকদের গ্রেফতার ও বরখাস্তের মাধ্যমে আমাদের কাজের জায়গা নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।

নিপীড়নমূলক চর্চার মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিন্ন মতের দমন করা হচ্ছে এ অভিযোগ করে মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, আমরা তো শিক্ষার্থীদের তাহলে কিছু শেখাতে পারবো না। এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে সমালোচনার কোন জায়গা রাখতেই দেয়া হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমেদ বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী কোন শিক্ষক গ্রেফতার হলে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার নিয়ম আছে। উনি সরকারের কাস্টডিতে থাকায় কোন একাডেমিক কাজে অংশ নিতে পারছেন না। এজন্যই তাকে এই সাময়িক বরখাস্ত দেখাতে হয়েছে। এটা একটা সাময়িক ব্যবস্থা। জামিন পাওয়ার পর উনি আবেদন জানালে আবার পুনর্বহাল করা হবে।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করে ফেইসবুকে পোস্ট দেয়ার অভিয়োগে আইসিটি আইনে মামলা করেছিলেন ছাত্রলীগ চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার এক সদস্য। এর প্রেক্ষিতে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মেয়াদ শেষ হওয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মাইদুল ইসলাম। সেখানে তিনি জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানালেও মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত