প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য সংঘাত সৃষ্টি করার ইঙ্গিত : রিজভী

শিহাবুল ইসলাম : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির পুর্বঘোষিত সমাবেশকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া বক্তব্য সংঘাত সৃষ্টি করার ইঙ্গিত বাহক ও উস্কানিমূলক। এ অভিযোগ করলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এসব বক্তব্য থেকে সরে আসুন, বিরোধী দলের সভা সমাবেশ করার অধিকার, অবশ্যই জনসভা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সম্প্রতি তার দলের নেতা কর্মীদের বলেছেন বিএনপি নেতা কর্মীদের সেখানে পাবে সেখানেই তাদের আটকে দিবে। এ বিষয়ে পতিক্রিয়া জানতে চাইলে রিজভী বলেন, বিএনপি নেতা-কর্মী ও জনগনকে আহব্বান জানিয়েছি জনসভায় আসার জন্য। জনগণ সেখানে যাবে, বক্তব্য শুনবে চলে আসবে। এটা একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। কিন্তু তাদের (আওয়ামীলীগ নেতাদের) বক্তব্যই হচ্ছে সংঘাত সৃষ্টি করার ইঙ্গিত বাহক। এটা টোটাল উস্কানিমূলক কথা। তারা এসব বক্তব্য দিবেন কেনো?

তিনি বলেন, ২৯ তারিখ সমাবেশের জন্য আমরা সকল প্রস্তুতি নিচ্ছি। গতকাল মহাসচিবের নেতৃত্বে যৌথ সভায় এবিষয়ে সকল প্রস্তুতির কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় একটা জনসভা হয় সেটা অনুসরন করেছি। প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি, গণপুর্ত কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। তারা বলেছেন যদি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেয় তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তাহলে উনারা আর কি চান? আমরা কি শান্তির পায়রা উড়াতে উড়াতে যাবো? এখানতো কোনো হুমকি নেই। তাহলে দখলের কথা আসছে কেনো? এটা হচ্ছে তাদের ফ্যাসিবাদ ও গুন্ডামির ভাষা। আমরা বলবো এ সমস্ত ভাষা ব্যাবহার করলে জনগনের মধ্যে আতংক তৈরি হয়। আপনাদের ইমেজ বৃদ্ধি পাচ্ছে না।

একই দিনে মহানগর নাট্য মঞ্চে ১৪ দলের সমাবেশ জানার পর আপনারা ২৭ তারিখের সমাবেশ ২৯ তারিখে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করছে ১৪ দল, এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির এই মুখ্যপাত্র বলেন, তারা যে ২৯ তারিখ নাগরিক সভা করবে তা আমরা জানতাম না। তাছাড়া আমাদের মহাসচিব বলেছেন, পুলিশের সাথে আলাপ করেই ২৯ তারিখ সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ ডাকা হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ সফল সমাবেশ করতে চাই৷ কোনো রকম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কিছু হবে না৷ কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য সংঘাতকে উস্কে দিচ্ছে। এটি ঠিক হচ্ছে না। আমরা আশা করি তারা এধরনের বক্তব্য থেকে সরে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা বলেন, দেশে তিনি এক কথা বলেন, বিদেশে বলেন অন্যকথা। নিউইয়র্কে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা। কারণ এখনও পর্যন্ত আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারের সকল পদক্ষেপ একতরফা নির্বাচনেরই আলামত। কিন্তু এবার আর একতরফা নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুখে মধু ও অন্তরে বিষ নিয়েই তিনি বিদেশীদের সাথে কথা বলেন।

বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলা সরকার গুম, বেআইনী হত্যা, নির্দোষ মানুষদের গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে হয়রানীর কোন কিছুই বাদ দিচ্ছে না। এরা মানুষের মানবাধিকারকে পায়ে দলতে যে দ্বিধা করে না, তার বহু তথ্য সাবেক প্রধান বিচারপতির লেখা বই থেকে পাওয়া যাচ্ছে। সাগর-রুনী হত্যার এখনও কুল-কিনারা করতে পারেনি, অথচ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে-এস কে সিনহা একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন-সাগর-রুনী হত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানেন। আসলে অনাচারের ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে যাওয়াতে সরকার এখন দিশেহারা। সরকার ক্ষমতার উন্মাদনা মধ্যে থাকতে চায়, এজন্য যখন যেটা প্রয়োজন অর্থাৎ গুম, খুন থেকে শুরু করে মিথ্যা মামলায় বিরোধী নেতাদের ফাঁসাতে দ্বিধা করছে না। কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের হাতের মুঠোয়। আর এই রাষ্ট্রযন্ত্রকে দিয়েই বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে বোমা হামলার মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বিরোধী দল ও মতকে নির্মূলের চূড়ান্ত সীমায় উপনীত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসাইন, আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত