প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মজুরি-বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের নারী শ্রমিকরা

জাকির হোসেন, ঠাকুরগাঁও : কাজে নারীদের ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা কম। তাই প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারী শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু তারপরও মজুরি-বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন নারী শ্রমিকরা। নারী শ্রমিকরা এখনো পুরুষ-শ্রমিকের সমান কাজ করেও কম মজুরি পাচ্ছেন। বাঁচতে হলে কাজ করতে হবে এমন প্রতিজ্ঞা করেই যেন বৈষম্যময় পরিবেশে কাজে নেমেছেন ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের নারী শ্রমিকরা।

কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য মেনে নিয়েই পুরুষের সঙ্গে লড়াই করে কাজ করে চলছেন তারা। কখনও সমান কিংবা কখনো বেশি কাজ করছেন। তবু কম মজুরিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। আবার এই নারীদেরই জীবিকার জন্য মাঠে-ঘটে কাজ করলেই শুধু চলে না, বাইরের হাড়ভাঙা খাটুনির পর ঘরে ফিরে সংসারও সামাল দিতে হয় তাদের। যেন কোনো মানুষ নন তারা, যেন তারা দম-দেওয়া মেশিন। ক্রমাগত কর্মের প্রহারে পাংশু তাদের জীবন।ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ,রাণীশংকৈল,বালিয়াডাঙ্গী এলাকার কয়েকটি সড়কের সংস্কার কাজ চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। যেখানে হাতে গোনা ২/১ জন পুরুষের বিপরীতে ৭/৮ জন পুরুষের বিপরীতে ৭/৮ জন নারীশ্রমিক কাজ করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষ শ্রমিকরা সাজিয়ে ইটের ভাঙা অংশ বা খোয়া তুলে দিচ্ছেন। আর নারীরা তা মাথায় নিয়ে সড়কের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে ফেলছেন। একটানা বিরামহীন। তবু এই কঠিন কাজটুকুও বেশ হাসিমুখেই করছেন তারা। এদের কারো বা স্বামী অসুখে অচল। তাই পরিবারের হাল ধরতে এই নারীরা সংসারের দুর্বহ বোঝা তুলে নিয়েছেন নিজেদের কাঁধে। বেছে নিয়েছেন দিনমজুরের কাজ।

রাজিয়া বেগম ও কমলা নামের ২ নারীশ্রমিক জানান, অভাব-অনটন ঘোচাতেই দিনমজুরের কাজে নামা। কিন্তু সেই ৭/৮ বছর আগে থেকেই দেখছেন সমান বা বেশি কাজ করেও পুরুষের থেকে তাদের মঞ্জুরি কম। আজ তারা যে কাজ করছেন এ কাজে একজন পুরুষ পায় ৪৫০ টাকা, আর নারী হয়ে একই কাজ করে পাচ্ছেন ৩৫০ টাকা। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে শ্রমের কষ্ট কিন্তু কারো থেকে কারো কম হয় না। তারপরও বৈষম্যের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে। এদের মধ্যে স্বামী পরিত্যক্তা চৈতী রাণী রায় বলেন, ‘হামার ঘরে-বাইরে সব জায়গায়ই জ্বালা, কাক কি কহুমো। সেই বেহানে (সাতসকালে) ৭টায় আইছি; যামো আবার সইন্ধ্যা (সন্ধ্যা) ৭টায়। তার পরো (তার পরও) মরদদের চাইয়া টাকা হামা কম পাই। ’

গ্রামের নারীশ্রমিকরা আরও জানান, পুরুষের চেয়ে মজুরি কম পান তারাও। পাশাপাশি পুরুষদের সাথে সমান তালে কাজ করলেও কখনও কখনও পুরুষ সহকর্মী কিংবা ঠিকাদারের হাতে নিগৃহীতও হতে হয় তাদের। পীরগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্টপুর গ্রামের কৃষক সুলতান হাওলাদার জানান, তাদের গ্রামে এখনও নারী ও পুরুষ শ্রমিকের বৈষম্য অনেক। যেখানে একবেলা ভাত খাইয়ে নারী শ্রমিককে দেয়া হয় ২ থেকে আড়াইশ টাকা, সেখানে পুরুষ-শ্রমিককে দেয়া হয় সাড়ে ৪ শ থেকে ৫ শ টাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত