প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জনসভা নিয়ে উত্তপ্ত রাজনীতিতে কিছুটা স্বস্তি

মহসীন কবির : জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে সরব রাজনৈতিক অঙ্গন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দেশের রাজনীতি। এরপর গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোনো পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করবে না আওয়ামী লীগ। এর ফলে জনমনে অনেকটা স্বস্তি নেমে এসেছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক অবরোধ করবেন না। শুধু সতর্ক অবস্থানে থাকবেন। আক্রমণ করবেন না। কিন্তু আক্রমণ করলে আক্রান্ত হলে তার উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শনিবারের সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে বিএনপি’র ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জনসভা থেকে আমরা আমাদের নীতি-নির্ধারণী বক্তব্য দেবো। আমাদের ভবিষ্যতের কর্মপন্থা, ভবিষ্যতের কর্মসূচি-এগুলো আসবে।

২৯ সেপ্টেম্বর জনসভা করবে বিএনপি। বিএনপি-জামায়াতকে মাঠে মোকাবেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১৪ দল। বিএনপির নেতারা বলেছেন, শনিবারের জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে। তখন বোঝা যাবে মাঠ কার দখলে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ২৯ সেপ্টেম্বর ১৪ দলীয় জোট সমাবেশ করার ঘোষণা দেন। এই সমাবেশ উপলক্ষে  মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে প্রস্তুতি সভায় মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চক্রান্তকারীরা মাঠে নামবে। আমরা দেখবো, কারা মাঠে নামবে আর কে নামবে না? এ সময় মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগে থেকেই ঢাকা দখলে ছিল আমাদের, ইনশাল্লাহ আগামীদিনেও ঢাকা আমাদের দখলে থাকবে। শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দখলে থাকার ঘোষণা দেন তিনি। আগামী ১ অক্টোবর থেকে নেতাকর্মীদের আন্দোলনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আসুন, পয়লা অক্টোবর থেকে রেডি হয়ে যান, রেডি হয়ে যান। তিনি বলেন, আগামী তিন মাসে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১ মাঠে আশা করি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। মওদুদ আহমদ বলেন, জনগণের জোয়ার এই সরকারকে দেখাতে হবে। এবার খালি মাঠে গোল দিতে দেবনা। জনগণকে সাথে নিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে এই সরকারকে আমরা অপসারিত করতে হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের গোলযোগের চেষ্টার ফল ভালো হবে না। নানক বিএনপি-জামায়াতের অতীতের কর্মকাÐ তুলে ধরে বলেছেন, ওরা গণতন্ত্রের শত্রæ, মানবতার শত্রæ, ধর্মের শত্রæ, কৃষক ও শ্রমিকের শত্রæ। তাই আগামী নির্বাচনে কোনো অশুভ শক্তি বিএনপি-জামায়াতকে সমর্থন দেয়ার নামে কোনো নৈরাজ্য করলে তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এমনকি তারা কোনো অরাজকতা করলে, গোলোযোগ করলে হাত-পা ভেঙে দেবেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনসভা সাফল্যমÐিত করার জন্য আমাদের দলের নেতা-কর্মী, অঙ্গসংগঠনগুলোর ইউনিট পুরোদমে কাজ করছে। আমরা আশা করছি, ২৯ সেপ্টেম্বরের জনসভাটি সাফল্যমÐিত হবে। বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপির এই সমাবেশ হবে সরকারের দুর্নীতি ও প্রশাসনের অনিয়মের বিরুদ্ধে। কাজেই সময় যতই কম হোক না কেন এটাকে আমরা জনসমুদ্রে রূপান্তরিত করবো। সেই লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত