প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতে পরকীয়া অপরাধ নয়: সুপ্রিম কোর্ট

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : ভারতে পরকীয়া এখন আর ফৌজদারি অপরাধ নয়। বরং পরকীয়া নিয়ে দেশটিতে প্রচলিত আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১৫৮ বছরের পুরনো আইন বাতিল করে দিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তবে দেশটির শীর্ষ আদালত বলেছে, পরকীয়া অপরাধ না হলেও তা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হতে পারে।

দেশটির প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র তার রায়ে বলেছেন, কোনও বিবাহিত নারীর সঙ্গে কোনও পুরুষ যৌন সংসর্গ করলে তা অপরাধের তালিকায় পড়বে না। পরকীয়া নিয়ে দেড়শো বছরের পুরনো ভিক্টোরিয়ান আইনকে যুক্তিহীন বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, পরকীয়া অসুখী দাম্পত্যের কারণ না-ও হতে পারে।পরকীয়া অসুখী বিয়ের ফলও হতে পারে। পরকীয়া দমন ফৌজদারি আইনে ধরেই নেওয়া হয় নারী ও পুরুষকে পরষ্পরের প্রতি বিশ্বস্ত হবে। কিন্তু তা আসলে ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়া। পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ বলেছে, পরকীয়া অপরাধ বলে ধরার অর্থ পিছন দিকে হাঁটা। এর মানে অসুখী মানুষদের শাস্তি দেওয়া।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন, বিচারপতি রোহিন্টন নরিম্যান, বিচারপতি এ এম খানউইলকার, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা।

বর্তমানে পরকীয়া নিয়ে ভারতে যে আইন আছে, তাতে কোনও নারীর স্বামীর অনুমতি ছাড়া বা তার জ্ঞাতার্থে কোনও পুরুষ সেই মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করলে তার পাঁচ বছরের জেল বা জরিমানা বা দুইই হতে পারে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি বলেছেন, স্ত্রীকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ধরার দিন শেষ।স্বামী তার স্ত্রীয়ের প্রভু নন।কোনও পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য কোনও সামাজিক অনুমোদন থাকতে পারে না।

সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে বলেছে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পরকীয়া বিরুদ্ধে আইন রদ করেছে। তার রায় পড়তে শুর করে প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধানের সৌন্দর্য হলো যে এটি আমি এবং তুমি দু’পক্ষকেই সমান ভাবে দেখে। সমাজে যে আইন কোনও ব্যক্তির সম্মান, নারীর প্রাপ্য ন্যায়কে অমর্যাদা করে, তা সংবিধানের রোষের মুখে পড়বে। কেন্দ্রীয় সরকার এর আগে পরকীয়াবিরোধী আইনকে সমর্থন জানিয়েছিল। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, বিয়ের পবিত্রতা রক্ষার জন্য পরকীয়াকে ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে ধরে নেওয়া বজায় থাকুক।এই আইনের বিরুদ্ধে যে আবেদন করা হয়েছিল সেখানে বলা হয়েছিল এই আইন রদ করা হোক, কারণ এই আইন নারী ও পুরুষকে এক চোখে দেখে না। নারীকে পুরুষের সম্পত্তি বলে ধরে। যে আইন আজ থেকে দেড়শো বছরেরও বেশি আগে তৈরি হয়েছিল, সেই সময়ের সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাদীক্ষা, নারীর প্রতি সমাজের মনোভাব সবই আলাদা ছিল। কিন্তু সেই আইনকে আজও বাঁচিয়ে রাখার অর্থ নারীকে পুরুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ধরে নেওয়া ও তার বাঁচার অধিকার কেড়ে নেওয়া।

এর আগে এই মামলার যত শুনানি হয়েছে সেখানে নানা প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের প্রশ্ন ছিল, যদি স্ত্রীর ‘পরকীয়া’ যদি স্বামীর গোচরেই হয়, তা হলে সেই পরকীয়া কেন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে না? আর সেক্ষেত্রে বিয়ের পবিত্রতা রক্ষাই বা কী ভাবে হয়?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ