প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যুক্তফ্রন্ট খেলার রচয়িতা কে? আওয়ামীরা? না অন্য কেউ? ড. কামাল হোসেন অ্যান্ড মান্না গং সত্যিই রাজি হলেন আওয়ামী লীগারদের হয়ে খেলতে?

যায়নুদ্দিন সানী: ছোট্ট একটা প্রশ্ন করি। দেশের অবস্থা কি বুঝছেন? নির্বাচন কি হবে? আই মিন, জেনুইন নির্বাচন। যুক্তফ্রন্ট কি আদৌ কিছু করতে পারবে? কিছু করতে পারবে বলতে বোঝাচ্ছি, নিরপেক্ষ বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারবে? কিংবা ওয়ান ইলেভেন টাইপ কিছু ঘটাতে পারবে? না, উত্তর দেওয়ার দরকার নাই। কারণ উত্তর আমি জানি। উত্তরটা আসলে ডিপেন্ড করবে, আপনি কোন দলের চামচা, তার উপর। আপনি আওয়ামী চামচা হলে বলবেন, ‘এটা যুক্তফ্রন্ট না, যুক্তফ্রড।’ আর অ্যান্টি আওয়ামী লবির হলে বলবেন, ‘আওয়ামীদের রিয়াকশান দেখছেন না? ভালোই ভয় পেয়েছে। এই সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

বাট দ্য রিয়েল প্রবলেম ইজ, কেউই সব ঘটনার পেছনের ঘটনা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। আর তাই আপনাদের কারোরই অ্যানালাসিস বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে না। অনেস্টলি স্পিকিং, আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে সত্যিকার অর্থে কেউই জানে না, কি হতে যাচ্ছে। আগামী কিছু দিনের ভেতর দেশের পরিস্থিতির কি আদৌ কোনো পরিবর্তন হবে? নির্দলীয় কোনো সরকার গঠন হবে? না সংবিধান অনুসারেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।

কমবেশি সব ফেসবুক সেলিব্রিটি এই বিষয়ে প্রেডিকশান করছেন। প্রেডিকশান না করলেও, নসিহত তো দিচ্ছেনই। কেউ বিএনপিকে, কেউ আওয়ামীদেরকে আর কেউ যুক্তফ্রন্টকে। কমবেশি সবাই বিশেষজ্ঞ। কিভাবে আন্দোলন করতে হয়, কি তার গ্রামার, কিভাবে সাফল্য আসে, এই বিষয়গুলোতে সবাই থিসিস লিখছেন। সেগুলো পড়ে আমরা পাঠকরা, কেউ আশান্বিত হচ্ছি, কেউ বা আবার উনাদের জ্ঞানের কমতি নিয়ে কটাক্ষ করছি।

এনিওয়ে। সম্প্রতি আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান সাহেব একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেটা অন্য একটা কারণে আমার কাছে বেশ ইন্টেরেস্টিং লেগেছে। কারণটা পরে বলছি। যাই হোক, সেই স্ট্যাটাসে উনি প্রেডিক্ট করেছেন যে এবার সব দলের অংশগ্রহণে একটা নির্বাচন হতে যাচ্ছে আর সেটায় আওয়ামীরা জিতবে। তবে আমার কাছে স্ট্যাটাসটা ইন্টেরেস্টিং লেগেছে অন্য কারণে।

প্রথম যে ব্যাপারটা খটকা লেগেছে, তা হচ্ছে, কেন তিনি এমন একটা স্ট্যাটাস দিতে গেলেন। আওয়ামী আশির্বাদ পাওয়ার জন্য? অসম্ভব না। বাট তেমনটা করতে চাইলে, তিনি আরও আগেই করতে পারতেন। এই শেষ সময়ে, স্পেশালি সিচুয়েশান যখন ভোলাটাইল, তখন কেন করতে গেলেন? সো আওয়ামী আশির্বাদ আসল উদ্দেশ্য না হলে, প্রশ্ন হচ্ছে, অন্য আর কি চাওয়ার আছে? সরল উত্তর হতে পারে, হি গট সাম ক্লু। কিন্তু কিভাবে? তিনি অবশ্য তা ব্যাখ্যা করেননি। স্বাভাবিক। সূত্র উল্লেখ না করারই কথা। তাই ব্যাপারটা নিয়ে অ্যানালাইসিসই ভরসা। আর তা করতে গেলে, প্রথম যে প্রশ্নটা মাথায় আসছে, আওয়ামীদের এই শেষ সময়ে, আওয়ামীদের পক্ষে প্রেডিকশান দেয়ার ঝুঁকি তিনি কেন নিলেন? হতে পারে অ্যানালাসিস আবার হতে পারে তিনি ভেতরের কোনো খবর পেয়েছেন। এমন প্রবীণ সাংবাদিক, কোনো তথ্য ছাড়াই কি এমন প্রেডিকশান করলেন? আর তাই, যদি ধরে নিই, তিনি কোনো ক্লু  পেয়েছেন, তাহলে অনেক কিছুই ছকে পড়ে যায়। অর্থাৎ বাইরে যে খেলা চলছে, সেটা ছাড়াও আরও একটা খেলা ভেতরে ভেতরে চলছে। কামাল সাহেবদের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে, বিএনপিকে ইলেকশানে আনবার কিংবা বিএনপি ইলেকশানে আসবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে আর কামাল সাহেবরা ফেস সেভিং ফর্মুলা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

পাতানো খেলা ফর্মুলায় সবচেয়ে বড় খটকা হচ্ছে, ড. কামাল হোসেন অ্যান্ড মান্না গং কি সত্যিই রাজি হলেন আওয়ামীদের হয়ে খেলতে? আর তাই, কেউ কেউ ভাবছে, এই ঐক্য সত্যি সত্যিই হয়েছে। যাই হোক, মনে হচ্ছে, পেছনে যে খেলা চলছে, সে সম্পর্কে আগাম কোনো তথ্য, কোনো সূত্র থেকে তিনি পেয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, তথ্যটা কি? বিএনপি কি ঠিক করে  ফেলেছে, ইলেকশানে আসবে? না যুক্তফ্রন্টের মাধ্যমে কিছু নাটক করে তারপরে আসবে? না আওয়ামীরা কামাল সাহেবদের প্রজেক্ট দিয়েছেন, বিএনপি জামায়াত ভাঙন আর ইলেকশানে নিয়ে আসার? সো? হোয়াট ইজ দ্য বটমলাইন? অনেকগুলো সম্ভাবনা। এক. আওয়ামীরাই খেলছে, দ্বিতীয় হচ্ছে বিএনপি খেলছে আর শেষটা হচ্ছে, সত্যিই একটা আন্দোলনের চেষ্টা হচ্ছে। পরের সম্ভাবনাকে মেনে নিলে বটমলাইন দাঁড়াচ্ছে, আওয়ামীদের বিরুদ্ধে সবাই ইউনাইটেড। অ্যাটলিস্ট, যারা এনিয়ে উৎসাহী, তাদের মনে তেমনটাই পারসেপশান। এর মধ্যে  কেবল যে বিএনপি আছে, তা না, কিছু আওয়ামীও আছে।

আর অন্যদিকে রয়েছে সন্দেহ বাতিক গ্রুপ। তাদের সন্দেহের কারণ, আওয়ামীরা এখনও শান্ত রয়েছে। শুধু তা ই না, আওয়ামীরা যুক্তফ্রন্টকে এগিয়ে যেতে দিচ্ছে। যেভাবে গত পাঁচ বছর চালিয়েছে, তাতে এমন একটা ঘটনা এত স্মুদলি তারা ঘটতে দেখলে যে কারও মনে প্রশ্ন জাগবে, ইজ’ন্ট ইট স্ট্রেঞ্জ? কোনো ধরপাকড় নেই, কোনো কেস নেই, কোনো টেলিফোন আলাপের ফাঁস হওয়া নেই। আর সমস্যাটা এখানেই। আর তাই কেন যেন মনে হচ্ছে, আসলে খেলাটা আওয়ামীরাই খেলছে।

ওদিকে সিনহা সাহেবের বই এখন ফেসবুক মাতাচ্ছে। ফেসবুকে লিঙ্ক ঘুরছে। সবার মতো আমিও নামিয়েছি। তবে পড়িনি। বিভিন্ন জায়গায় সার সংক্ষেপ খুঁজে বেড়াচ্ছি। কেউ কেউ গ্রামারের ভুল ধরছেন তো কেউ কেউ উদ্দেশ্য নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন। কেউ আছেন টাইমিং নিয়ে আর কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন প্রকাশককে নিয়ে। কেউ আছেন সিনহা সাহেবের চরিত্র স্খলন নিয়ে তো কেউ ডিটেকটিভগিরি শুরু করেছেন  ‘কে টাকা ঢালল এই বইয়ের পেছনে?’Ñ তা নিয়ে। আর এ বিষয়ে সাম্প্রতিক সংযোজন হচ্ছে, একটি অনলাইন চ্যানেলের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকার। তবে মূল প্রশ্ন হচ্ছে, ইজ ইট পার্ট অফ প্রজেক্ট? খেলার অংশ? সব কিছু অ্যানালাইসিস করলে মনে পরবর্তী প্রশ্ন যেটা জাগছে, তা হচ্ছে, সত্যিই কি এবার কিছু একটা হতে যাচ্ছে? আওয়ামীরা যেভাবে বিভিন্ন আন্দোলন দক্ষ হাতে সামলেছে, তাতে মনে হচ্ছে, এবারও কিছু হবে না। এর উল্টো প্রত্যাশা করার লোকও এদেশে আছে। আর তাদের কমবেশি সবাই ভরসা করে আছেন কামাল সাহেবের আন্তর্জাতিক খ্যাতির ওপর। কিছুটা ভরসা সংবিধান প্রণেতার তকমার ওপর। তবে মূল প্রত্যাশা, বহির্বিশ্ব। আন্তর্জাতিক চাপ।

যুক্তফ্রন্টের আরেকটা ব্যাপারে অবশ্য অনেকেই একমত। তা হচ্ছে, বিএনপি ছাড়া এখানে থাকা অন্যদের তেমন কোনো জনসমর্থন নেই। বিএনপি ওদের সাথে আসলে, একটা ফোর্স হবে, আর না আসলে এটা একটা কাগুজে বাঘ। এখন দেখার ব্যাপার হচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে কি ঘটে। নখদন্তহীন, নেতৃত্ব হীন বিএনপি এই ফ্রন্টে যোগ দিয়ে এমন কিছু কি অর্জন করতে পারবে?

যাইহোক, যুক্তফ্রন্ট আর সিনহা সাহেব, দুজনেই এখন আলোচনায় আছেন। আর তাই ফেসবুকেও আছেন। সেই ফেসবুকের কল্যাণে জানতে পারলাম কামাল সাহেবের বিবিসির সাক্ষাৎকার নিয়ে বেশ কিছু সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আর তাই কামাল সাহেবের বিবিসিকে দেয়া ইন্টারভিউ পড়লাম। যথারীতি তাত্ত্বিক আলোচনা। ভালো ভালো কথা। এখনও ‘সরকারের একটা অবাধ নির্বাচন করানো উচিত’ মার্কা গপ্প। অ্যাজ ইফ, আওয়ামীরা এমনটা প্রথম শুনছে। কিংবা কামাল সাহেব যেহেতু আগে দাবি করেননি, তাই এই দাবিতে নতুনত্ব আছে। হাসি  পেলেও, এখনই কিছু প্রেডিক্ট করছি না। লেট দ্য গেম বিগিন।

খেলার দিন তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। সিনহা সাহেব কিংবা যুক্তফ্রন্টের আবির্ভাব, এসব পেয়েও বিএনপির হাবভাব, ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ টাইপ। ওরা যে তেমন কোনো আন্দোলনে যাবে না, তা বোঝা হয়ে গেছে। জামায়াত এই মুহূর্তে কাগুজে বাঘ। যা লাফালাফি ফেসবুকে। সেখানে কয়েকজনকে দেখলাম, চায়ের কাপে তোলপাড় শুরু করছে। নানান ব্যাখ্যা হাজির করছে। লেখালেখিগুলোতে যত না যুক্তি তার চেয়ে বেশি অনুযোগ। ‘আমাদের বাদ দিলা? বদদোয়া দিলাম, এই খেলায় জিতবা না’ টাইপ সব লেখা। পড়ে মন হলো, বেচারারা ইমোশান সামলাতে পারছে না। কখনও সিনহা সাহেবের মুন্ডুপাত করছেন, কখনও যুক্তফ্রন্টের জন্য নাজিল হচ্ছে অভিশাপ। আওয়ামী প্রজেক্টের বি টিম মনে হচ্ছে ওদের।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যা দাঁড়াচ্ছে, আওয়ামীদের অন্যতম যে চাওয়া, বিএনপি আর জামায়াতের ফাটল, সেটা সম্ভবত হতে যাচ্ছে। অন্তত বাহ্যিকভাবে। আর তা হলে কি আওয়ামীদের জয় সুনিশ্চিত? না উল্টোটা? আপাতত লোক দেখানো সেপারেশান হলেও, এটা সত্যিকারের সেপারেশান না। সুযোগ পেলে আবার জোড়া লাগবে এই ফাটল? দ্যাট ইজ ইয়েট টু বি সিন।২১ আগস্ট আর খালেদা জিয়ার মামলার রায়ও আসন্ন। সেটা স্যাবোট্যাজ করতে সিনহা সাহেবের আগমন হলো কি না, সেটাও আগামী কিছু দিনের ভেতরেই বোঝা যাবে। আর তখন খেলার আউটলাইন অনেকটাই ক্লিয়ার হবে। লেটস ওয়েট ফর দ্যাট। আপাতত, টা টা।

লেখক : কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ