প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সত্য বচন

সালাহ্ উদ্দীন পল্লব: অফিস সেরে আড়াই ঘণ্টা সিটিং বাসে দাঁড়িয়ে সবে মাত্র ঘরে ঢুকেছি অমনি আমার বোতাম মোবাইলে চামামার কল এলো। হ্যালো বলতেই-

: কি মামু, গোসসা হইছেন নিকি?

: কেন?

: আপ্নগো অইক্য রে আমি সিন্ডিকেট কইছি বইলা?

: আরে না না, তোমার কথায় রাগ করার কি আছে? তুমি যা বোঝ তাই তো বলেছো!

: যাক! আম্নে রাগ হন নাই এইটাই বড় ব্যাপার! সত্য কথা পর্থমে শুনলে ইট্টু রাগ হইবোই, পরে আর লাগে না!

: আহা! আবার বক বক! কি বলতে কল দিয়েছো?

: আইজ আবার শুনলাম সব সুদ-ঘুষখোর, খুনি-দুর্নীতিবাজ এক হইয়া সিন্ডিকেট করছে?

: আবারও সিন্ডিকেট বলছো! এটাকে ঐক্য বলে, ঐক্য, সিন্ডিকেট না! আর আমি জানি না, আমি এসব কিছু শুনিনি।

: তয় শুনেন, লগে আরেকটা যুগ হইবো হেইডা অইলো যুদ্ধাপ্রাধী টুপিদল!

: দেখো মামা, যথেষ্ট হয়েছে! ফোন রাখো…

: আইচ্ছা, চেইতেন না, একটা গল্প কই। একবার এক লুকে সকাল বেলা রাস্তা দিয়ে দৌরাইতে বাইরাইছে। ব্যাডার মাতায় চুল নাই। গেট দিয়া বাইরানের সুমায় পাশের বাড়ির ময়না পাখি কইলো ‘আঙ্কেল আপ্নের বেল মাতা চাইরানা, ঠুয়া দিলো জরিনা’ ব্যাডায় চেইতা গিয়াও আবার চুপ মাইরা গেলো। ময়না পংখীর কতায় কি আসে যায়। পরের দিন গেট দিয়া বাইরানের সুমায় ময়না আবার একই কতা কইলো। পরের দিন আবার। ব্যাডার তো মাতায় আগুন উইঠা গেলো। সে অই বাড়ির মালিকেরে যাইয়া ধমক দিয়া বিচার দিলো। মালিক কইলো ‘আমি ময়নারে সাবধান কইরা দিমু, এইসব কথা আর কইবো না’। পরের দিন যখন অই ব্যাডা আবার দৌরাইতে বাড়ির গেট দিয়া বাইরাইলো, ময়না ডাক দিলো ‘ও আঙ্কেল… আঙ্কেল গো…’! ব্যাডায় কইলো ‘কী’? ময়নায় কইলো ‘বুঝতেই পারতেছেন কি কমু!’ হা হা হা হা

: পাগলামোর একটা সীমা আছে মামা! এটা কি ধরনের গল্প? কী বলতে চাও?

: না মামু, আমি কিছু কইতে চাই না, খালি আপ্নেগো দুই মিনিটের নুডুল রান্না করার মতো অইক্য লইয়া একটা অরিজিনাল কতা কমু…

: কী?

: বুঝতেই পারতেছেন যে আমি কি কমু!

চামামা ফোন কেটে দিল। মাঝে মাঝে সত্য কথা সহ্য হয় না। কিন্তু যাদের কোনো দিন নিজেদের মধ্যে বা মতেরও মিল ছিল না, তারা হুট করে এক হতে চাইলে কেমন যেন ধাঁধা লাগে। তাই না?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত