প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতের একক দায়িত্ব সরকারের

মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান : প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ নিউইয়র্কে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে বলেছেন যে, ‘তার সরকার চায় আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এবং সব রাজনৈতিক দল এতে অংশগ্রহণ করবে’। সরকারের এই সদিচ্ছার জন্য ধন্যবাদ। তবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছামতো সব দল যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হয় তার পরিবেশ সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোকে জনসভা করতে দিবে না, নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হবে, ১৪ দলের নেতা নাসিমসহ আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকাশ্যে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের পা ভেঙে দিবে, ঢাকায় নামতে দিবে না বলে আস্ফালন করবে আর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ চান বলে বিদেশিদের কাছে বক্তব্য রাখবেন এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য জাতি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশা করে না। তাই জনগণ মনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হলে সরকারকে সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যূনতম ঐক্যমতে পৌছে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে তাহলে সম্ভবত সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাইলে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের পক্ষে পুলিশ ও আমালাদের দিয়ে হয়তো একটি নির্বাচন করিয়ে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু সেই নির্বাচনে সরকারের লক্ষ পূরণ হবে কি না তাতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সরকার সে যেই হোক না, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় নিজেকে পরাক্রমশালীই মনে করে, কিন্তু ক্ষমতার ভিত যখন নড়ে যায় তখন পড়তে বেশি সময় লাগে না। বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক সরকার হয়ে গেছে, যা যেকোনোভাবে নির্বাচন করে যদি পার পেয়ে যায় তাহলে সেই কেন্দ্রিকতা আরও বেশি প্রকট হয়ে দাঁড়াবে। তখন সরকারের পরিবর্তনের চেয়ে সরকার সরানোটাই জনগণের সামনে বড় হয়ে দাঁড়াবে।

বর্তমান সরকারের ক্ষমতার ১০ বছর শেষ হতে যাচ্ছে। মনে হয় আরেক টার্ম ক্ষমতায় রাখতে বিদেশি ও পার্শ্ববর্তী দেশ বিশেষ করে উন্নয়নের অংশীদারেরা আগ্রহী। জনগণ যদিও এই সরকারের, বিশেষ করে পুলিশি সরকারের রূপটাকে পছন্দ করছে না। কিন্তু গ্রহণযোগ্য জনপ্রিয় অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তি আপাতত না থাকার কারণে জনগণও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না, যা সরকারকেই ক্ষমতায় থাকার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। জনগণ তার ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। জনগণের ম্যান্ডেড নিয়ে সরকার ক্ষমতায় আসুক এটি জনগণের প্রত্যাশা। তাই জনগণও চায় আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, যেখানে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করব। তবে সবার আগে প্রধানমন্ত্রীকে তার সদিচ্ছার প্রমাণ জনগণের সামনে রাখতে হবে। সরকারকেই সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে যেখানে জনগণ নিজের ইচ্ছায় নিজের ভোট দিতে পারবে।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ