প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

পায়ের ধুলা নেওয়ার কালচার চিরতরে শেষ হবে: ড. কামাল

ডেস্ক রিপোর্ট: জনগণের বৃহত্তর ঐক্য হলে পায়ের ধুলা নেওয়ার কালচারকে চিরতরে কবর দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আজ যারা ঐক্য চায় না, অনৈক্য চায়, তারা সংঘবদ্ধ। জনগণের বৃহত্তর ঐক্য হলে পায়ের ধুলা নেওয়ার কালচার, কালো টাকার প্রভাব চিরতরে শেষ হবে। দেশে জবাবদিহিতার সরকার গঠন হবে। তবে দেশকে রক্ষায় দেশের সব মানুষকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘নির্বাচনকালীন দলভিত্তিক সরকারের অপরিহার্যতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন ড. কামাল।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে পায়ের ধুলা নেওয়ার কালচার চিরতরে কবর দেওয়া হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য টাকা লেনদেনের সংস্কৃতিও বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

ড. কামাল বলেন, ‘যাদের কালো টাকা আছে, তারাই এখন দেশের মালিক। তবে উনারা বলে থাকেন- সৃষ্টিকর্তা নাকি উনাদের রাষ্ট্র পরিচালনার লাইসেন্স দিয়েছেন। আসলে তারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি করছেন, আর দায়ী করছেন সৃষ্টিকর্তাকে। তারা গণতন্ত্রের নামে রাষ্ট্রের ১২টা বাজিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ সদস্যরা অন্ধ ও বোবা। তারা দেশের সমস্যার কথা বলছেন না। তাদের বেতন-ভাতা তো ঠিক আছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, কথা বলবে কেন? সরকার বলছে- এ দেশ সত্যিকারের উন্নয়নশীল হয়েছে। উন্নয়নশীল হলে তো বস্তিবাসীর জন্য আবাসন দেখছি না, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি দেখছি না। বাবা যেমন ছেলে-মেয়ের জন্য বাড়ি-সম্পদ রেখে যায়, বাড়ির মালিকের দলিল থাকে, ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু একটি সংবিধান দিয়ে গেছেন। এর ৭ অনুচ্ছেদে লেখা আছে, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। সেই জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের দলিল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। জনগণ কথা বলতে পারছে না। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হচ্ছে না।’

আলোচনা সভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘দেশের মালিক জনগণ। কিন্তু দলিল জনগণের হাতে নেই। দেশের দলিল একটি দলের কাছে, একটি ব্যক্তির কাছে জিম্মি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে কথা বলে একরকম, ক্ষমতায় না থাকলে কথা বলে অন্যরকম। তারা দুই রূপ ধারণ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা নেই। রাষ্ট্র পরিচালনার গুণগত কোনও পরিবর্তন নেই। আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্বের সরকার গঠন করে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন করা হবে।’

গণস্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার উদ্বিগ্ন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দিদের জামিনে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যার সুষ্ঠু পরিকল্পনা হচ্ছে। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনে আগে ডাকসু’র নির্বাচন দিতে হবে। এতে প্রমাণিত হবে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।’

এসময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘খুব শিগগিরই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আইনজীবীদের মহাসমাবেশ ডাকা হবে। দুর্নীতিবাজ এই সরকারের কাছ থেকে শেয়ারবাজার, ব্যাংকের টাকা লুটপাটের হিসাব নেওয়া হবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, ‘স্বাধীন দেশের জনগণের ভোট চুরি করে তারা ক্ষমতায় রয়েছে। জনগণের টাকা চুরি করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছে। চোর আবার বড় কথা বলে! আজ ৪৭ বছর পর আমাদের ভোটের জন্য কথা বলতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে সরকার জনগণের ভোট চুরি করে। এত বড় দুঃসাহস! মানুষকে রেসপেক্ট পর্যন্ত করতে জানে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে হবে। মাসল দেখাতে আমরা আসিনি, কেউ যেন না আসে। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে কেয়ারটেকার সরকার মেনেছে, এখন তারা মানে না। দেশটা কী মগের মুল্লুক পেয়েছে তারা।’

এসময় ডাকসু’র সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেন, ‘আর ভোট চুরির সরকারকে দেশ শাসন করতে দেওয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।’

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘জনগণকে বারবার ধোঁকা দেওয়া যাবে না। এবার ভোট চোরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিনের সঞ্চলনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দারসহ আরও অনেকে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত