প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

অজানা থাক

জাকিয়া জুলিয়েট : বিয়ের আজ ২৫ বছর। এই তো সেদিন লাল বেনারসি পরে লজ্জায় লাল হয়ে, তার ঘরে আমার প্রথম পা পড়লো। এই তো সেদিন বাবা মা কে ছেড়ে অন্য ঘরে এলাম। এইতো সেদিন বাসরের কাঁচা ফুলে আমার প্রাণ জুড়ায়। ভাবি এমন করেই যেন বাকিটা জীবন কেটে যায়, সময়টা কেটে যায়। কিভাবে কিসের আড়ালে টের পাওয়া যায় না। বর আমার ভালো মাইনে পায়। উত্তরার এক প্রাসাদ সমান ফ্লাট আমার নামে করে দিয়েছেন। বড় মেয়েটা ভার্সিটি যায়। ছেলেটা? সে তো সারাদিন শুধু মোবাইলে। সামনে তার পরীক্ষা। এসব কি আর কানে যায়?

ভালোই আছি। হুম ভালোই তো আছি। চওড়া পাড়ের শাড়ি পরে বিকেলে এক মগ চা নিয়ে বারান্দা থেকে দূর আকাশের পাখি দেখি। সন্ধ্যা হলে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। আর খুঁজেও পাই না তাদের। সবই আছে। ফ্রিজে খাবার। আলমারিতে শাড়ি। ভ্যানিটি ব্যাগে ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড। আসলেও কি সব আছে? আমি অবাক হয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখি। আসলেই কি সব আছে? গালের ভাঁজে, চোখের কালিতে উত্তর খুঁজে বেড়াই। সময়টা কেটে গেছে। উত্তর খুঁজতে গেলে তারাই প্রশ্ন করে। আমি স্তব্ধ হয়ে যাই তাদের প্রশ্নে। তারা প্রশ্ন করে বুকে হাত দিয়ে বল তো ভালো আছিস?

বল তো কত রাত ঘুমাস নি?

বল তো এই কটা বছর ক’বার নিজের জন্য কেঁদেছিস?

বল তো এই ক’টা বছর কতবার নিজের জন্য হেসেছিস?

বল তো কত রাত কর্তা পাশে শুয়েও টের পায়নি তোর শরীরের জ্বরের আগুন তাপ? বল তো কতদিন নিজের পছন্দে রেঁধেছিস? বল তো কতদিন পাশের বাড়ির মহিলাকে দেখে ভেবেছিস একদিন আমরাও ঘুরতে যাবো?

বল তো কতদিন দুঃখ-সুখের গল্প করতে চাওয়া মানুষটিকে রাতে শুধু ঘুমন্ত অবস্থায় দেখেছিস?

বল তো কত রাত তোর সন্তান সম্ভবা শরীরে কেউ একবার হাত দিয়েছে?

বল তো কতদিন তোর শখের কথা খাবার টেবিলে বলতে গিয়েও হাত গুটিয়ে শুধু তার প্লেটে খাবার তুলে দিয়েছিস?

কত রাত এপাশ-ওপাশ করেছিস, ঘুমাতে পারিস নি। আট মাসের সন্তান সম্ভবা। অথচ কেউ দেখে নি? বল তো সন্ধ্যাগুলো কেমন ছিলো, যখন তার আশায় বসে ছিলি। সে এসেছে মধ্য রাতে?

বল তো দুপুর খালি বাসায় কেন কেঁদেছিস? বল তো যে সন্তানদের আগে খাইয়ে নিজে খেয়েছিস তারা কি তোকে জিজ্ঞাসা করে, মা খেয়েছো?

বল তো এই শাড়ি চুড়ি, আলিশান ফ্ল্যাটে কি তোর সুখ?

বল তো? অনেকগুলো প্রশ্নের একটা উত্তর দীর্ঘশ্বাসের সাথে দেওয়া হলো  মেয়েদের সব শখ পূরণ হতে নাই। কিছু কথা থাক না চাপা। চাপা কোন ঘরের কোণে। যেখানে রাত শেষে দিন আসে। যেখানে না পাওয়া কষ্টরা মিলেমিশে ঘর করে। থাক না। থাক না ওসব সুখ-অসুখের কথা। মেনে নেই এই জীবনের গাঁথা। ২৫ বছর কেটে গেছে পায়নি কেউ টের। যাক না চলে বাকিটা সময়, অভিমান হোক ঢের। গোপন থাকুক, ভালো থাকার সুখটিতে কবে অসুখ ধরেছে, চোখের পানি শুকিয়ে চোখের ধারে কালি পড়েছে।

নারীর জীবন কাহিনি হয়ত ঘুরে-ফিরে একই রকম তবুও জীবন চলে যায় পাওয়া না পাওয়ার হিসেবে।

গ্রন্থনা : নৌশিন আহম্মেদ মনিরা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত